Latest News

Vyapam Scam-SSC: মধ্যপ্রদেশের ‘ব্যাপম’ কেলেঙ্কারি কী, যার সঙ্গে বাংলার গ্রুপ-সি দুর্নীতির মিল পেলেন গোয়ালিয়রের তরুণ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিন কয়েক আগে বিকাশ ভবন অভিযানকারী বিজেপির ছাত্র-যুবদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু কটাক্ষ করেছিলেন, ‘যারা ব্যাপম কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত, তারা কিনা আমাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করে!’

শুক্রবার প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জিত কুমার বাগের কমিটি কলকাতা হাইকোর্টে যে রাজ্যের স্কুলগুলিতে গ্রুপ সি পদে নিয়োগে অনিয়মের যে দৃষ্টাও তুলে ধরেছেন তাতে এই দুর্নীতিকে এককথায় বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশের ব্যাপম কেলেঙ্কারির সঙ্গেই একমাত্র তুলনা করা চলে। গ্রুপ সি নিয়োগ মামলায় তদন্তের নির্দেশ হওয়ার সময়ই দ্য ওয়াল-এ এই সাদৃশ্যের কথা লেখা হয়েছিল।

এদিন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির পেশ করা রিপোর্টে দ্য ওয়াল-এর সেই পর্যবেক্ষণই প্রতিফলিত হয়েছে।

ব্যাপম কেলেঙ্কারি কী?
মধ্যপ্রদেশে একটিই সরকারি সংস্থা চাকরি এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিকেলের প্রবেশিকা পরীক্ষা নিয়ে থাকে। হিন্দিতে সেই সংস্থার নাম হল, ব্যবহারিক পরীক্ষা মণ্ডল। যার সংক্ষিপ্ত নাম হল, ব্যাপম।

সেই সংস্থার নিয়োগ এবং অন্যান্য দুর্নীতির জাল বিস্তৃত ছিল রাজ্যের কোণায় কোণায়। তদন্তে দেখা যায়, বিজেপির মন্ত্রী, নেতা, বিধায়ক, সাংসদ, আমলা, সরকার ঘনিষ্ঠ বিরোধী শিবিরের নেতা-নেত্রী, কেউ বাদ নেই। টাকার বিনিময়ে দেদার বিক্রি হয়েছে চাকরি।

তদন্তে উঠে আসে, পরীক্ষার নামে ভূতুড়ে ব্যাপার ঘটে গিয়েছে। যিনি ডাক্তার হিসেবে চেম্বার খুলে রোগী দেখছেন তিনি প্রবেশিকা পরীক্ষাতেই বসেননি। একই কথা প্রযোজ্য অসংখ্য ইঞ্জিনিয়ারের ক্ষেত্রেও। অর্থাৎ ইঞ্জিনিয়ারের চাকরি করছেন যিনি তিনি না ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার প্রবেশিকা পরীক্ষায় বসেছেন, না ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়ালেখা করেছেন।

তাহলে কে মেডিক্যাল পড়ল, কে পড়ল ইঞ্জিনিয়ারিং? পাশ করল কে আর স্টেথো ধরে রোগী দেখছেন কে? ওই কেলেঙ্কারির পর্দা ফাঁসে আদালত সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয়। সেই তদন্ত এখনও চলছে। জেলে আছে শতাধিক অপরাধী।

ব্যাপম কেলেঙ্কারির পর্দা ফাঁস করেছিলেন যে দুই ব্যক্তি, তাঁদের একজন গোয়ালিয়রের বাসিন্দা আশিস চতুর্বেদি। শুক্রবার সংবাদ মাধ্যমে বাংলার গ্রুপ সি নিয়োগ কেলেঙ্কারির খবর জানার পর তাঁর প্রতিক্রিয়া, ‘পরীক্ষা দিল না, অথচ চাকরি হয়ে গেল। এতো পুরোপুরি ব্যাপম কেলেঙ্কারি! মধ্যপ্রদেশের সঙ্গে কোনও ফারাক নেই বাংলার।’

বছর তিরিশের আশিস গোয়ালিয়রের অটল বিহারি বাজপেয়ি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তথ্য জানার অধিকার আইনে তিনি নিয়োগ ও প্রবেশিকা পরীক্ষা সংক্রান্ত তথ্য চাওয়ার পর ব্যাপম কেলেঙ্কারি সামনে আসে। এজন্য পদে পদে তাঁকে হামলা, হুমকির শিকার হতে হয়েছে। মিথ্যা মামলায় একাধিকবার জেল খেটেছেন।

বাংলায় কয়লা থেকে গরু পাচার—একাধিক দুর্নীতির তদন্তে আদালতে কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলি বলেছে, প্রশাসন ও রাজনীতির সংগঠিত বোঝাপড়া না থাকলে এত সুনিপুণ ভাবে দীর্ঘদিন ধরে বিরাট অঙ্কের আর্থিক লেনদেন চলতে পারে না। গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি নিয়োগ দুর্নীতিতে প্রভাবশালী মহলের হাত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তাতে টাকা পয়সার লেনদেন হয়েছে কিনা সেই বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে। অবসর প্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জিত কুমার বাগের কমিটির তদন্তের আওতায় তা ছিল না। অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের তদন্ত করে পুলিশ, সিআইডি, সিবিআইয়ের মতো এজেন্সি। এজন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশ করেছেন তিনি। বুধবার আদালত জানাবে রাজ্য পুলিশ নাকি সিবিআই এই তদন্ত করবে বাংলার এই নজিরবিহীন নিয়োগ দুর্নীতির।

কেন নজিরবিহীন বলা হচ্ছে এই কেলেঙ্কারিকে?

অন্য সব ক্ষেত্রে যা হয়েছে তাতে প্যানেলের গোলমাল, নম্বরের কমবেশি, লাইন ভেঙে আগের লোককে ঠেলে পরের লোক ঢুকে পড়ার মতো ঘটনা ছিল। এসএসসির শিক্ষক নিয়োগের প্রতিটি কেলেঙ্কারিতে সেই মডেল অনুসরণ করা হয়েছে।

কিন্তু গ্রুপ সি নিয়োগে তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, প্রার্থী বাছাই পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগ হয়েছে ২২২জনের। এছাড়া ফেল করা প্রার্থীদেরও চাকরি দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ৩৮১ জনকে চাকরি দেওয়া হয়েছে স্রেফ মুখ দেখে। সেই সুবিধাভোগীরা সকলে শাসক দলের লোক, নাকি ব্যাপম কেলেঙ্কারির মতো বিরোধী শিবিরের লোকও আছে তদন্তে তাও জানা যাবে। বিজেপির যুব মোর্চার বিক্ষোভের সমালোচনা করতে গিয়ে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু মন্তব্য করেছিলেন, তদন্তে হয়তো দেখা যাবে এদেরও অনেকে অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত।

শুক্রবার হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ মন্তব্য করে, এখন জানতে হবে এই অনিয়মে অদৃশ্য হাতটি কার। নিয়োগ সংক্রান্ত একটি মামলায় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে সিবিআইকে অনুমতি দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ। তাঁর গড়ে দেওয়া উপদেষ্টা কমিটির দিকে আঙুল তুলেছে বাগ কমিটি। ফলে সিবিআই বা রাজ্য পুলিশ, আদালত যাদেরই তদন্তভার দিক, পার্থর জিজ্ঞাসাবাদ এড়ানো কঠিন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল আইনজ্ঞ মহল।

শুক্রবার গ্রুপ সি মামলায় ডিভিশন বেঞ্চে বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে হাইকোর্ট প্রভাবশালী মহলের হাত থাকায় সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না। তবে অনিয়মের চরিত্র দেখেও অনেকেই মনে করছেন, ক্ষমতাশালী মহলের চাপ না থাকলে এই নিয়োগের সঙ্গে যুক্ত সরকারি পদাধিকারীরা এত কাঁচা কাজ করতেন না। পরীক্ষা ছাড়া নিয়োগের এমন নজির বাংলায় ছিল না।
মামলাকারীদের আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্যর অভিযোগ, অদৃশ্য হাত তো ছিলই। একেবারে শীর্ষ মহলের হাত ছিল।

You might also like