Latest News

প্রিয়ঙ্কাকে তৃণমূলের খোঁচা যোগীরাজ্যে কংগ্রেসের ৪০ শতাংশ প্রার্থী দেওয়া নিয়েও

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিকিৎসকরা একটা কথা বলেন। শুধু খাওয়াদাওয়া নিয়ম মেনে করলেই হবে না। সেইসঙ্গে উপযুক্ত শারীরিক পরিশ্রমও প্রয়োজন। চব্বিশের লক্ষ্যে তৃণমূলও (TMC) যেন তেমন কোনও পরামর্শ নিয়েই চলছে। একদিকে বিজেপির তীব্র বিরোধিতা। অন্যদিকে কংগ্রেসকে(Congress) খোঁচা। এ যেন রুটিনে পরিণত করে ফেলেছে তৃণমূল।

গতকাল কংগ্রেসের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক তথা উত্তরপ্রদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢড়া ঘোষণা করেছেন, এবারের ভোটে ৪০ শতাংশ আসনে মহিলা প্রার্থী দেবে হাত চিহ্নে। প্রিয়ঙ্কা স্লোগান দিয়েছেন, ‘লড়কি হু, লড় সকতি হু।’ লখনউতে প্রিয়ঙ্কা যখন একথা বলছেন তখন সাংবাদিকরাই তাঁকে বলেন, বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো এই জিনিস আগেই করেছেন! জবাবে সনিয়া-কন্যা বলেন, “বহুত বড়িয়া!” এও জানান, তাঁর এ ব্যাপারটা জানা ছিল না।

মমতার ঢালাও মহিলা প্রার্থী দাঁড় করানোর বিষয়ে প্রিয়ঙ্কার অজ্ঞতা নিয়েও এবার কটাক্ষ ছুড়ে দিল তৃণমূল। দলের অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষ টুইট করে লেখেন, “সব থেকে বেশি মহিলা প্রার্থী সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের। ২০১৯ লোকসভায় ৫১ শতাংশ। ২০২১ বিধানসভায় ২৯১-এর মধ্যে ৫০। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক আগেই নারী শক্তিকে এগিয়ে দিয়েছেন। প্রিয়ঙ্কা গান্ধী জানতেন না।” এই পর্যন্ত তবু ঠিক ছিল। এর পরে কুণাল লিখেছেন, “দিদি যা যা পারেন সেগুলো করতে ওঁকেই সামনে রাখা ভাল।”

পর্যবেক্ষকদের মতে, কুণাল আসলে কংগ্রেসের উদ্দেশে ঠেস মেরে বলতে চেয়েছেন, কংগ্রেস এখন যা ভাবছে, দিদি তা আগেই ভেবে ফেলে বাস্তবায়িত করে দেখিয়েছেন।
উনিশের ভোটে বাংলায় ১৮টি আসনে মহিলা প্ররারথী দাঁড় করিয়েছিলেন মমতা। যদিও তাঁদের মধ্যে আট জন জিতে সংসদে গিয়েছেন। রাজ্যসভাতেও দোলা সেন, মৌসম নুর, সুস্মিতা দেবদের পাঠিয়েছেন দিদি। এবারের ভোটে মহিলা ভোটকে নিজেদের দিকে টানতে একাধিক কৌশল নিয়েছিল তৃণমূল। ইস্তেহারের ঘোষণা শুনেই বোঝা গিয়েছিল, দিদি কী চাইছেন। হয়েছেও তাই।

কংগ্রেস যখন উত্তরপ্রদেশের ভোটে গেরুয়া আধিপত্য ভাঙতে মহিলা প্রার্থী দিয়ে বাজিমাতের কৌশলে ছক সাজাচ্ছে তখন তৃণমূল তা নিয়েও খোঁচা দিল লক্ষ্মী পূর্ণিমাতে। এমনিতে এবারের উত্তরপ্রদেশের ভোট এবার নানান সমীকরণে টানটান। বিজেপি যেমন বৃত্তের বাইরে বেরিয়ে দলিত ভোটকে টার্গেট করছে তখন বিএসপি, এসপি, কংগ্রেস ব্রাহ্মণ ভোটে থাবা বসাতে চাইছে। সেইসঙ্গে প্রিয়ঙ্কার কৌশল নারীবাহিনীকে সামনে আনা। তবে তৃণমূলের এ হেন আচরণ দেখে রাজ্যের এক কংগ্রেস নেতা বলেন, এগুলো বাচ্চারা করে। কেউ তার দিকে না তাকালে, কথা না বললে অনেক সময়ে কেঁদে ওঠে। যাতে সবাই ওর দিকে মনোযোগ দেয়। বাংলার বাইরে তৃণমূলের কিছু নেই। এটা শিশু জানে। তাই উত্তরপ্রদেশের ভোটে যখন কংগ্রেস সিনা টানটান করে লড়ছে তখন তৃণমূল কেঁদে, কঁকিয়ে নিজের দিকে নজর টানতে চাইছে।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ’

You might also like