Latest News

অরুণাচল সীমান্তে সেলা টানেল দিয়ে দ্রুত পৌঁছবে সেনার রসদ-অস্ত্রশস্ত্র, চিনকে বার্তা দিতে ভারতের কৌশল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অরুণাচলের চিন-ভারত সীমান্তে সেলা সুড়ঙ্গের (Sela Tunnel) কাজ নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করতে চায় কেন্দ্রীয় সরকার। আগামী বছর অগস্টের মধ্যে সেলা টানেল তৈরির কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল। নয়াদিল্লি জানাচ্ছে, বাইশের জুনের মধ্যেই এই সুড়ঙ্গের কাজ শেষ হবে। প্রায় ১৪ হাজার ফুট উচ্চতায় তৈরি এই সুড়ঙ্গের মাধ্যমে যাতায়াতের সময় কমে যাবে অনেকটাই। পাশাপাশি, প্রচণ্ড শীত, চরম প্রতিকূল আবহাওয়াতেও ভারতীয় সেনার জন্য রসদ ও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এই পথে দ্রুত প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার কাছাকাছি পৌঁছনও সম্ভব হবে।

ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪ হাজার ১৭০ মিটার উঁচু সেলা গিরিপথে ওই সুড়ঙ্গ তৈরি কাজ শেষ হলে অসমের তেজপুর থেকে তাওয়াং-এর দূরত্ব অনেকটাই কমে যাবে। শুধু তাই নয় তাওয়াং ও বমডিলার মধ্যে সারা বছর যাতায়াতের রাস্তা সুগম হবে। বালিপাড়া-চারদুয়ার-তাওয়াং (বিসিটি) তিনটি রোডকে সংযুক্ত করে ওই বাই-লেন রোডে দ্রুত প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় পৌঁছনও যাবে।

Key tunnel for Tawang likely to be completed before deadline | Latest News  India - Hindustan Times

আরও পড়ুন: লাদাখের সঙ্গে জুড়ছে শ্রীনগর, চিনকে বার্তা দিতে জোজি লা সুড়ঙ্গের কাজ দ্রুত শেষ করবে কেন্দ্র

১.৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সেলা সুড়ঙ্গের অবস্থান হল তাওয়াং ও পশ্চিম কামেং জেলার মাঝামাঝি। ৭০০ কোটি টাকা খরচ করে এই সুড়ঙ্গ বানানো হচ্ছে। এই পথে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই তাওয়াং পৌঁছনো যাবে। ২০১৮ সালে এই টানেল তৈরির পরিকল্পনা সামনে এনেছিল ভারতের সীমান্ত এলাকায় রাস্তা নির্মাণের দায়িত্বে থাকা বর্ডার রোড অর্গানাইজেশন।

Sela Tunnel - INSIGHTSIAS

ভারতীয় সেনাও দীর্ঘ সময় ধরেই এমন একটি সুড়ঙ্গ পথ নির্মাণের আর্জি জানিয়েছিল। শীতকালে গোটা এলাকা বরফে ঢেকে যায়। বাহিনীর জন্য রেশন, পোশাক, অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে যেতে অনেকটা পথ ঘুরে যেতে হয়, এতে সময় লাগে অনেক বেশি। তাছাড়া অরুণাচল সীমান্তে সবসময়েই সক্রিয় থাকে চিনের সেনা। পূর্ব লাদাখের পাশাপাশি অরুণাচলের সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টা মাঝে মাঝেই চলে। ওই এলাকাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন বলে বরাবরই দাবি করে আসছে চিন।

শীত আসছে। অরুণাচলের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নীচে ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে গেছে। তার মধ্যেই সমরসজ্জা তৈরি রেখেছে ভারতীয় বাহিনী। অরুণাচলের তাওয়াং সেক্টর যাকে দক্ষিণ তিব্বত বলা হয়, সেখানেই আধিপত্য বিস্তার করতে মরিয়া চিন। চিন-ভারত প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় ৩,৪৮৮ কিলোমিটার বিস্তৃত সীমান্ত জুড়ে নজরদারি আরও বাড়িয়েছে ভারত। সেনার সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। ১০৫ এমএম ফিল্ড গান, ১৫০ এমএম বফর্স ও এম-১৭৭ আলট্রা-লাইট হাউইৎজার নিয়ে তৈরি ভারতীয় সেনা।

All-Weather Connectivity To Tawang Soon; Final Breakthrough Blast Of Sela  Tunnel Marks End Of Excavation

ডোকলাম পর্ব মিটলেও লাদাখের সীমান্ত উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে এখনও স্বাভাবিক হয়নি ভারত-চিন সম্পর্ক। তা ছাড়া অরুণাচল প্রদেশ বরাবরই দু’দেশের মধ্যে ভূরাজনৈতিক দিক থেকে স্পর্শকাতর জায়গা। প্রায়শই চিন অরুণাচলকে নিজেদের মানচিত্রের অংশ বলে ঢুকিয়ে নিয়ে থাকে। সেই ১৯৬২ সালে ইন্দো-চিন যুদ্ধ বাধে এই অরুণাচলকে কেন্দ্র করেই। চিন একে দক্ষিণ তিব্বতের অংশ বলেই মনে করে। পূর্ব লাদাখের মতো অরুণাচলেও আধিপত্য বিস্তার করতে মরিয়া তারা। এই পরিস্থিতিতে তাওয়াং-এর সঙ্গে বছরভর সড়ক যোগাযোগ চালু রাখতে সুড়ঙ্গ নির্মাণ করে বেজিং-কে বার্তা দিল দিল্লি।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকাসুখপাঠ

You might also like