Latest News

স্বামী গায়ের জোরে যৌন সংসর্গ করলে তা ধর্ষণ নয়: ছত্তীসগড় হাইকোর্ট

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেরল হাইকোর্ট এ মাসেই রায় দেয়, ভারতে যদিও অপরাধ বলে দেখা হয় না, কিন্তু দাম্পত্য ধর্ষণ ‘নিষ্ঠুরতা’, তা ডিভোর্সের বৈধ ভিত্তি হতে পারে। কিন্তু একেবারে এক উল্টো রায়ে ছত্তিশগড় হাইকোর্ট বৃহস্পতিবার স্ত্রীকে ধর্ষণে অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে বিচারের হাত থেকে অব্যাহতি দিল। হাইকোর্টের যুক্তি, স্ত্রীর বয়স ১৫-র ওপর হলে ভারতীয় আইনে দাম্পত্য ধর্ষণের স্বীকৃতিই নেই।

স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে তিনি ফৌজদারি সংশোধনীর আর্জি জানান। হাইকোর্ট তার শুনানিতে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ ধারায় (ধর্ষণের জন্য শাস্তি) গঠিত চার্জ ‘ভ্রান্ত, অবৈধ’ বলে জানায়, তবে ৩৭৭ (অস্বাভাবিক যৌনতা) ও ৪৯৮ এ (মহিলার প্রতি নিষ্ঠুরতা) ধারায় গঠিত চার্জ বহাল রাখে।

বিচারপতি এন কে চন্দ্রবংশী ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারার আওতায় উল্লিখিত ব্যাতিক্রমের ওপর ভিত্তি করে রায় দেন। তাতে বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি যদি স্ত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক গড়েন, সেক্ষেত্রে স্ত্রীর বয়স ১৫-র কম না হলে তা ধর্ষণ নয়। এই মামলায় অভিযোগকারিনী প্রথম আবেদনকারীর বৈধ বিবাহিত স্ত্রী। তাই স্বামী যদি জোর করেও তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে যৌন সংসর্গ করেন, সেটা ধর্ষণ বলা যাবে না।

এই মামলায় অভিযোগকারিণী মহিলা দাবি করেছেন, বিয়ের পর থেকে পণের জন্য তাঁর ওপর অত্যাচার হত। নিষ্ঠুরতা, যৌনতার শিকার  হতেন তিনি। স্বামী তাঁর সঙ্গে বিকৃত যৌনাচার  করতেন, তিনি প্রতিবাদ  করলে, বাধা দিলেও তাঁর যৌনাঙ্গে আঙুল বা অন্য বস্তু ঢুকিয়ে দিতেন। তাঁর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ স্বীকার করেন মহিলার বাবা-মা, ‘পড়শি প্রত্যক্ষদর্শীরাও’।

অভিযোগ শুনে বিচারপতি বলেন, আবেদনকারীর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮-এ/৩৪ অনুচ্ছেদে চার্জ গঠনে কোনও খামতি দেখছি না।  ৩৭৭ অনুচ্ছেদেও চার্জ বহাল রাখে হাইকোর্ট। বলে, যেখানে অপরাধীর মূল লক্ষ্যই হল অস্বাভাবিক যৌন সুখ উপভোগ করা,  বারবার নির্যাতিতার যৌনাঙ্গে কোনও বস্তু প্রবেশ করিয়ে যৌন তৃপ্তি পাওয়া, তা প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মরীতি বিরোধী পাশবিক যৌনতার পর্যায়ে পড়ে।

You might also like