Latest News

শচীনকে পরামর্শ শরদ পাওয়ারের, ‘অন্য বিষয়ে মন্তব্যের আগে সতর্ক হোন’

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কৃষক আন্দোলনের সমর্থনে পপ তারকা রিহানার করা টুইটের জবাবে ভারতের ক্রীড়াক্ষেত্র ও অভিনয় জগতের অনেক সেলিব্রিটি মুখ খুলেছেন। তাঁদের সবার বক্তব্যের মোদ্দা কথা হল ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশীদের নাক গলানোর প্রয়োজন নেই। ভারতের বিষয় ভারতের নাগরিকরাই বুঝে নেবেন। এই সেলিব্রিটিদের তালিকায় রয়েছেন মাস্টার ব্লাস্টার শচীন তেণ্ডুলকরও। তাঁর টুইটের পরে তাঁকে পরামর্শ দিলেন এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ার। অন্য কোনও বিষয়ে মন্তব্য করার আগে তাঁকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিলেন এই বর্ষীয়ান নেতা।

সংবাদসংস্থা এএনআইকে পাওয়ার বলেন, “অনেক দেশবাসীই সেলিব্রিটিদের মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। আমি শচীনকে বলব অন্য কোনও বিষয় নিয়ে মন্তব্য করার আগে সতর্ক হওয়া উচিত।”

আন্দোলনকারীদের খালিস্তানি বা জঙ্গি বলার জন্য কেন্দ্রের সমালোচনাও শোনা গিয়েছে পাওয়ারের মুখে। ইউপিএ সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শরদ পাওয়ার সংবাদসংস্থা পিটিআইকে বলেন, “যাঁরা আন্দোলন করছেন তাঁরা দেশের মুখে খাবার তুলে দেন। তাই তাঁদের খালিস্তানি কিংবা জঙ্গি বলা উচিত নয়।”

অবশ্য পাওয়ারের এই মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন বিজেপি নেত্রী মীনাক্ষি লেখি। তিনি টুইট করে বলেন, “আমি আশা করছি উনি রিহানা, মিয়া খলিফা, গ্রেটা থুনবার্গদেরও উপদেশ দেবেন। প্রাক্তন কৃষিমন্ত্রী থাকাকালীন কৃষি আইন পরিবর্তনের পক্ষে চিঠিও লিখেছিলেন তিনি। তাহলে সব জেনেও কীভাবে তিনি চুপ আছেন সেটাই ভাবছি আমি।”

রিহানার টুইটের জবাবে অক্ষয় কুমার, অজয় দেবগণ, করণ জোহরের মতো টুইট করেন শচীনও। তিনি লেখেন, ভারতের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনও আপস নয়। বাইরের শক্তি দর্শক হতে পারে কিন্তু তাদের নাক গলানোর অধিকার নেই। ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে ভারতীয়রাই সিদ্ধান্ত নেবে। এ ব্যাপারে গোটা দেশ ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

টুইটে কেবল এ কথা লেখেননি শচীন। গোটা বিষয়টি নিয়ে এদিন ট্যুইটারে যে ট্রেন্ডিং হ্যাশট্যাগ চলছে, (#IndiaTogether এবং #IndiaAgainstPropaganda) তাও ব্যবহার করেছেন।

একই মত প্রকাশ করেছেন অনিল কুম্বলেও। টুইটে তিনি লিখেছেন, বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসাবে ভারত তার অভ্যন্তরীণ সমস্যা শান্তিপূর্ণ ভাবেই সমাধানে সক্ষম। শচীন-কুম্বলের টুইট রিটুইট করে এ ব্যাপারে তাঁর পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।

শচীনের এই টুইট কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকারকে যে বল দিয়েছে সে ব্যাপারে কোনও সংশয় নেই। ভুলে গেলে চলবে না অতীতে ইউপিএ জমানায় দশ নম্বর জনপথের সৌজন্যে রাজ্যসভায় মনোনীত সদস্য হয়েছিলেন শচীন। অনেকের মতে, তাঁর এদিনের টুইটের সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক নেই। জাতীয় স্বার্থে ও ভারতের স্বাভিমানের প্রশ্নে শচীন বারবার সরব হয়েছেন।

অন্যদিকে এই মন্তব্যের পরে শচীনের সমালোচনাও শোনা গেছে। নেটিজেনদের অনেকেই শচীনকে কটাক্ষ করেছেন। অনেকে জানিয়েছেন, এই মন্তব্যের জন্য শচীনের প্রতি শ্রদ্ধা কমে গিয়েছে তাঁদের। এই বিরূপ সমালোচনার মধ্যেই এবার মাস্টার ব্লাস্টারকে পরামর্শ দিলেন মহারাষ্ট্রের এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ।

You might also like