Latest News

ভয়ে মিথ্যে বলেছিল কৃষকদের হাতে পাকড়াও যুবক, সব দাবি ভুয়ো, ধৃতকে মুক্তি পুলিশের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লি-হরিয়ানা সীমান্তে সিঙ্ঘুতে এক যুবককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন আন্দোলনরত কৃষকরা। অভিযোগ ওঠে, ওই যুবককে পাঠানো হয়েছিল ২৬ জানুয়ারি ট্র্যাক্টর র‍্যালি চলাকালীন অশান্তি পাকানোর জন্য। এমনকি চার কৃষক নেতাকে খুনের ছকও ছিল। এই কাজের জন্য ১০ জনের একটি দলকে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকরা। তাদেরই মধ্যে ছিল ওই ব্যক্তি। সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজেদের পরিকল্পনার কথা স্বীকারও করেছে ওই ব্যক্তি। কিন্তু তাকে জেরার পরে পুলিশ জানাল, ভয়ে এই সব কথা বানিয়ে বলেছে সে। তার সব দাবি মিথ্যে। ওই যুবককে মুক্তি দিয়েছে পুলিশ।

সোনিপত জেলার পুলিশ প্রধান জশনদীপ সিং রনধাওয়া সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, “গতকাল ওই যুবক বলেছিল যে রাই পুলিশ স্টেশনের এসএইচও প্রদীপ সিং তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে। কিন্তু আমাদের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে রাই পুলিশ স্টেশনে প্রদীপ নামের কোনও অফিসারই নেই।”

রনধাওয়া আরও জানান, “ওই যুবক সোনিপতের বাসিন্দা। তার বাবা রান্নার ও মা বাসন ধোয়ার কাজ করেন। ওই যুবকও একটি কারখানায় কাজ করত। কোভিড-১৯ সংক্রমণের কারণে লকডাউনে ওই যুবকের চাকরি চলে যায়। জেরা করে জানা গিয়েছে, হেনস্থার একটি ঘটনায় কৃষকদের সঙ্গে বিরোধ হয়েছিল তার। ওকে একটা ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়। যুবক জানিয়েছে, ভয়ে ওই সব কথা বলেছে সে। যুবকের বিরুদ্ধে কোনও অপরাধের রেকর্ড নেই।”

পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্তে যুবক জানিয়েছে, একটি ল্যান্ডলাইন নম্বর থেকে বেশ কিছুদিন ধরে ফোন করে ভয় দেখানো হচ্ছিল ওই যুবককে। যদিও পুলিশের কাছে সেই ধরনের কোনও প্রমাণ নেই। অবসশ্য ১০ জানারি কারনালে মুখ্যমন্ত্রীর মিছিলে যুবক উপস্থিত ছিল না বলেই জানা গিয়েছে। এইসব কারণেই যুবককে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার সন্ধেবেলা আটক করা হয় ওই যুবককে। তারপরে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখে কালো কাপড় পরা ওই যুবক নিজেদের পরিকল্পনার কথা জানায়। সে বলে, “আমাদের পরিকল্পনা ছিল ২৬ জানুয়ারি যখনই দিল্লি পুলিশ ট্র্যাক্টর র‍্যালি আটকানোর চেষ্টা করবে তখনই মিছিলের সামনের সারি থেকে গুলি চালানো। আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল প্রথমে কৃষকদের থামানোর চেষ্টা করা। যদি তারা না থামে তাহলে গুলি চালানো।”

ওই যুবক আরও জানায়, “২৪ জানুয়ারি আমাদের পরিকল্পনা ছিল মঞ্চের মধ্যে চার নেতাকে গুলি করে খুন করা। রাই পুলিশ স্টেশনের এসএইচও প্রদীপ সিং আমাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। যখনই উনি আমাদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন, মুখে মাস্ক পরে ছিলেন।” অবশ্য পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দিল, এই ধরনের কোনও ঘটনা ঘটেনি। ভয়ে এই ধরনের মন্তব্য করেছে ওই যুবক।

You might also like