Latest News

‘৭১ জয়ী ‘আইএনএস বিক্রান্ত’ ফিরছে দেশীয় প্রযুক্তিতে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ’৭১-এর ভারত-পাক যুদ্ধে গর্বের ইতিহাস লিখেছিল ভারতের এই রণতরী। পাকিস্তানের যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে করাচি বন্দর ছারখার করে দিয়েছিল ভারতীয় নৌসেনা। ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ভারতের সেই রণতরী ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল শত্রুপক্ষের দম্ভ। পরাক্রমী সেই যুদ্ধজাহাজ আইএনএস বিক্রান্তের পুনর্জন্ম হল। দেশের প্রতিরক্ষায় আরও একবার গর্বের ইতিহাস লিখতে চলেছে নতুন রূপে সেজে ওঠা দেশের বিমানবাহী রণতরী ‘আইএনএস বিক্রান্ত’।

এই প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে সমুদ্রে যাত্রা শুরু করল আইএনএস বিক্রান্ত। বিমানবাহী এই রণতরীকে বলা হয় ‘ইন্ডিজেনাস এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার-১’ (IAC-1)। এতদিন দেশের একমাত্র বিমানবাহী রণতরী বা এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার ছিল আইএনএস বিক্রমাদিত্য। এটি রাশিয়ার থেকে কিনেছিল ভারত। এবার প্রথম দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি বিমানবাহী রণতরী নৌসেনার অন্তর্ভুক্ত হতে চলেছে। আইএনএস বিক্রান্তের প্রথম সমুদ্রযাত্রা প্রসঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং টুইট করে লিখেছেন, “আত্মনির্ভর ভারত গড়ার লক্ষ্যে আরও একধাপ অগ্রগতি হল। ভারতবাসী হিসেবে আমরা গর্বিত।” রাজনাথ জানিয়েছেন, ২০২২ সালের মাঝামাঝি পূর্ব সেনা কম্যান্ডে এই রণতরী যোগ দেবে।

Indigenous Aircraft Carrier INS Vikrant to be commissioned in 2022, sea  trials to start in July- The New Indian Express

কোচির শিপইয়ার্ডে তৈরি করা হয়েছে এই রণতরী। ওজন প্রায় ৪০ হাজার টন। এটি বিমানবাহী রণতরী ‘বিক্রান্ত’ ক্লাসের প্রথম যুদ্ধজাহাজ। বিক্রান্ত কথার অর্থ হল সাহসী বা পরাক্রমী। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পূর্ব-পশ্চিম দুই সীমান্তেই যখন লড়ছে ভারত, তখন পরাক্রম দেখিয়েছিল ভারতের রণতরী আইএনএস বিক্রান্ত। ৩৬ বছর ভারতীয় নৌসেনার হয়ে কাজ করার পর পুরনো হয়ে পড়া বিক্রান্তকে বাতিল করে দিতে হয় ১৯৯৭ সালে। ভারতের গর্ব সেই যুদ্ধজাহাজের স্মরণেই দেশের প্রথম এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ারের নামও রাখা হয়েছে আইএনএস বিক্রান্ত। ২৬২ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৬০ মিটার প্রস্থের এই বিমানবাহী রণতরীর ডেকে মিগ-২৯ এর মতো যুদ্ধবিমান ওঠানামা করতে পারবে।

Aircraft carrier INS Vikrant to be launched on Aug 12 | Deccan Herald

আইএনএস বিক্রান্তের নকশা তৈরি হয় ১৯৯৯ সালে। ২০১৩ সাল থেকে এটির ট্রায়াল শুরু হয়েছিল। আশা করা হয়েছিল ২০১৮ সালের মধ্যে নৌসেনায় যোগ দিতে পারবে এই রণতরী। গত বছর অক্টোবরে সমুদ্রে পরীক্ষামূলকভাবে এর বেসিন ট্রায়ালও সফল হয়েছিল। কিন্তু করোনার কারণে নৌসেনায় এর অন্তর্ভুক্তি পিছিয়ে যায়।

India's Indigenous Aircraft Carrier INS Vikrant Set for 2022 Commissioning  - Naval News

’৭১-এর ভারত-পাক যুদ্ধের নায়ক ছিল ‘আইএনএস বিক্রান্ত’

১৯৭১ সালের ৩ ও ৪ ডিসেম্বর। ভারতীয় নৌবাহিনীর জ্বালাময়ী প্রতিঘাতে কেঁপে উঠেছিল পাকিস্তানের করাচির নৌবন্দর। ’৭১-এর ভারত-পাক যুদ্ধের একটি উল্লেখযোগ্য পর্ব হয়ে আছে এই নৌযুদ্ধ। ‘অপারেশন ট্রাইডেন্ট’ ও ‘অপারেশন পাইথন’ ভারতীয় নৌবাহিনীর গর্বের ইতিহাস লিখেছিল। সেই সময় দাঁড়িয়ে ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের প্রয়োগ চমকে দিয়েছিল শত্রুসেনাদের। আঘাতের পর আঘাত আর পাল্টা প্রত্যাঘাতের সময়টুকু দেয়নি। যুদ্ধের প্লট সাজানো চলছিল কয়েক বছর আগে থেকেই।

1971 War hero on role of INS Vikrant, Sea Hawks

পূর্ব পাকিস্তানে তখন মধ্যযুগীয় বর্বরতা চালাচ্ছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। পূর্ব পাকিস্তানিদের ভাষা আন্দোলন ততদিনে স্বাধীনতা আন্দোলনের রূপ নিয়েছে। মার্চে ভারতীয় সেনা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের হাত ধরে পাকিস্তানের কব্জা থেকে মুক্ত হয়ে জন্ম হয় স্বাধীন বাংলাদেশের। এই হার মেনে নিতে পারেনি পাকিস্তান। জলপথে ভারতকে জবাব দিতে পাঠানো হয় পিএনএস গাজিকে। ওই ডুবোজাহাজ তখন উন্নত ও শক্তিশালী। হামলা ঠেকাতে আসরে নামে ভারতের প্রথম উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন রণতরী ‘আইএনএস বিক্রান্ত’। জয় হয় ভারতীয় নৌবাহিনীর। এই জয় ‘অপারেশন ট্রাইডেন্ট’ এর পথে নিয়ে যায় ভারতীয় নৌবাহিনীকে। করাচিতে অতর্কিতে প্রবল প্রত্যাঘাতে পাকিস্তানের একের পর এক রণতরী ছাড়খাড় করে দেয় ভারতীয় নৌবাহিনী।

You might also like