Latest News

লক্ষ্য আত্মনির্ভরতা, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পে হ্যালের কপ্টার, মাহিন্দ্রার ফাইটিং ভেহিকল পাচ্ছে সেনা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিনের নজরে পূর্ব লাদাখের দৌলত বেগ ওল্ডি। সংলগ্ন আকসাই চিন থেকে যখন তখন দৌলত বেগ ওল্ডি হয়ে ভারতীয় নিয়ন্ত্রনাধীন এলাকায় ঢুকে পড়া সহজ। চিন এই চেষ্টা আগেও করেছে। তাই ওই এলাকায় নজরদারি চালানো এবং পাহাড়ি উপত্যকায় অবতরণের জন্য হাল্কা ওজনের হেলিকপ্টার দরকার ছিল ভারতীয় বাহিনীর। দেশীয় সংস্থা হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেডের থেকে আধুনিক প্রজন্মের ‘লাইট ইউটিলিটি কপ্টার’ পেতে চলেছে সেনাবাহিনী। বিদেশ থেকে আমদানি করার বদলে সেনাবাহিনীর হাতে আসছে দেশের সংস্থার তৈরি লাইট আর্মার্ড ফাইটিং ভেহিকল। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে মাহিন্দ্রা গ্রুপের।

HAL Light Utility Helicopter - Wikipedia

প্রতিরক্ষায় আত্মনির্ভরতার কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষেত্রগুলিকে চাঙ্গা করার লক্ষ্যে বিদেশি সংস্থাগুলির থেকে যুদ্ধ সরঞ্জাম কেনায় রাশ টানা হয়েছে। কামান থেকে জাহাজ বিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, হাল্কা যুদ্ধবিমান থেকে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল, অনেক কিছুই রয়েছে এই তালিকায়। বদলে দেশের হ্যাল বা ভারত ডায়ানামিক্স লিমিটেডের সঙ্গে একাধিক অস্ত্র চুক্তি করা হয়েছে। চলতি বছরই ঘরোয়া প্রতিরক্ষা উৎপাদনে ব্যয় করা হবে ৫০ হাজার কোটিরও বেশি টাকা। আগামী ৬-৭ বছর ধরে দেশীয় প্রযুক্তিতে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের লক্ষ্যে চার লক্ষ কোটি টাকা লগ্নি করা হবে বলে খবর। সশস্ত্র বাহিনীর তিন শাখার জন্য ২০১৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২০ মধ্যে অস্ত্র ও সরঞ্জাম সরবরাহের প্রায় ২৬০টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। যার মোট অঙ্ক প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন: জঙ্গিরা শায়েস্তা হবে, ‘স্টিল কোর’ বুলেট প্রতিরোধী ট্রাক, জ্যাকেট পাচ্ছে কাশ্মীরের সেনা

Rotor Recap: The Light Utility Helicopter story so far | India News | Manorama English

হ্যালের লাইট ইউটিলিটি হেলিকপ্টার (এলইউএইচ) কেনার জন্য কথাবার্তা চলছিল অনেকদিন ধরেই। জানা যাচ্ছে, আগামী বছরের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে হ্যালের ১২টি কপ্টার চলে আসবে সেনাবাহিনীর হাতে।

HAL's Light Utility Helicopter For IAF And Indian Army Undergoes Final Trials In Ladakh

কেমন এই লাইট ইউটিলিটি হেলিকপ্টার?  আমেরিকার রোমিও কপ্টারের চেয়ে হ্যাল কপ্টারেই বেশি ভরসা রাখছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। সিয়াচেনের হাড়হিম ঠান্ডায় নজরদারি চালানোর দক্ষতা আছে এই কপ্টারের। হাল্কা ওজনের এই মাল্টিরোল হেলিকপ্টার এএলএইচ তথা হ্যাল-ধ্রুব যে কোনও দুর্গম এলাকায় দ্রুত পৌঁছে যেতে পারে। পাহাড়ি ঠান্ডায় ও প্রতিকূল পরিবেশে রাতেও নজরদারি চালানোর ক্ষমতা আছে এই কপ্টারের। নিজের ওজনের থেকে অনেক বেশি ওজনের পে-লোড বয়ে নিয়ে যেতে পারে। লাদাখে মোতায়েন ভারতীয় বাহিনীর জন্য রেশন, বিশেষ পোশাক ও অন্যান্য জরুরি পণ্য বয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সীমান্তে নজরদারিও চালাতে পারে।

Indian Army To Get 1,300 Light Specialist Vehicles Made By Mahindra Defence In Deal Worth Rs 1,056 Crore

হ্যালের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ৫০০০ মিটার উচ্চতায় দৌলত বেগ ওল্ডির অ্যাডভান্সড ল্যান্ডিং গ্রাউন্ডে সহজেই অবতরণ করতে পারবে এই হেলিকপ্টার। যে কোনও দুর্গম পাহাড়ি খাঁজের কাছাকাছি নেমে এসে নজরদারি চালাতে পারবে এই কপ্টার। ওজনে হাল্কা হওয়ায় এর গতিও বেশি এবং খুব দ্রুত এই কপ্টার উড়িয়ে শত্রুঘাঁটির খবর নিয়ে আসতে পারবেন বায়ুসেনার পাইলটরা। লাইট ইউটিলিটি হেলিকপ্টার ডিজাইন করেছে হ্যালের রোটারি উইং রিসার্চ অ্যান্ড ডিজাইন সেন্টার। হ্যালের চেতক ও চিতা হেলিকপ্টারের আপগ্রেডেড ভার্সন হল লাইট ইউটিলিটি হেলিকপ্টার। হ্যাল জানিয়েছে, লাদাখ সীমান্ত সংঘাতের আবহে আকাশসীমাকে আরও সুরক্ষিত রাখতে এই লাইট কপ্টারকেই আরও উন্নত করে তোলা হয়েছে। এর নতুন ভ্যারিয়ান্টই পাঠানো হবে বায়ুসেনার কাছে।

Mahindra Bags Order For 1300 Light Specialist Vehicles Worth Rs. 1,056 Crore From Ministry Of Defence

মাহিন্দ্রা ডিফেন্স সিস্টেম লিমিটেড ভারতীয় বাহিনীর জন্য তৈরি করছে লাইট আর্মার্ড ফাইটিং ভেহিকল। এই ধরনের আর্মার্ড ভেহিকল আগে বিদেশ তেকে আমদানি করতে হত। মাহিন্দ্রা গ্রুপ জানিয়েছে, হাল্কা ওজনের এই গাড়ির গতি বেশি। এটি হল লাইট স্পেশালিস্ট ভেহিকল যা অস্ত্র বয়ে নিয়ে যেতে পারে। এই আর্মার্ড ভেহিকল থেকে মিডিয়াম রেঞ্জের মেশিনগান, অটোমেটিক গ্রেনেড লঞ্চার ও অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইলও বয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। যে কোনও ঠোখাটো বিস্ফোরণের ধাক্কা সামলাতে পারবে এই ফাইটিং ভেহিকল, স্টিল-কোর বুলেটও ভেদ করতে পারবে না। আগামী বছরের মধ্যে এই ফাইটিং ভেহিকলও চলে আসবে ভারতীয় বাহিনীর হাতে। ১৩০০টি এই লাইট স্পেশালিস্ট ভেহিকলের জন্য ১০৫৬ কোটি টাকার চুক্তি হয়েছে।

You might also like