Latest News

এক টাকায় চিকিৎসা, ওষুধও বিনামূল্যে, গরিবদের জন্য এগিয়ে এলেন ওড়িশার ডাক্তারবাবু

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সম্বলপুর জেলার বুরলা শহরে এখন এই ডাক্তারবাবুরই নাম। গরিব, অসহায়, সমাজে বঞ্চিতদের তালিকায় যাদের নাম রয়েছে তাদের এক ডাকেই হাজির হবেন ডাক্তার শঙ্কর রামচন্দানি। অথর্ব, বৃদ্ধদের জন্য তাঁর দরজা সবসময় খোলা। ভালবাসার দিনে নিজের নতুন খুলেছেন, নাম দিয়েছেন ‘এক টাকার ক্লিনিক’ । শুনতে অবাক লাগলেও সত্যি। এক টাকাতেই চিকিৎসা হবে এই ক্লিনিকে। গরিব রোগীরা বিনা পয়সায় ওষুধও পাবেন। লম্বা লাইন দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে হয়রান হতে হবে না।

বীর সুরেন্দ্র সাই ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড রিসার্চ (ভিমসার)-এ এখন সহ-অধ্যাপক হিসেবে কাজ করছেন ডক্টর শঙ্কর রামচন্দানি। চাকরির সময়ের বাইরে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার অনুমতিও পেয়েছেন। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই খুলে ফেলেছেন তাঁর এক টাকার ক্লিনিক। ডাক্তারবাবু বলেছেন, বহুদিন থেকেই এমন একটি চেম্বার খোলার ইচ্ছা ছিল তাঁর। তবে ভিমসারে সিনিয়র রেসিডেন্ট হিসেবে থাকার সময় প্রাইভেট প্র্যাকটিসের অনুমতি পাননি। এখন সে সুযোগ এসেছে। তাই আর সময় নষ্ট না করে নিজের লক্ষ্যপূরণের দিকে এগিয়ে চলেছেন।

Image result for Doctor Opens "One Rupee" Clinic In Odisha

চাকরির সময় বাদ দিয়ে যে সময় থাকবে তার সবটুকুই গরিবদের চিকিৎসার কাজে লাগাতে চান ডাক্তারবাবু। বলেছেন, গরিব ও পিছিয়ে পড়াদের জন্য তাঁর ফি মাত্র এক টাকা। যেমন ওষুধ দরকার হবে তার ব্যবস্থাও তিনি করবেন। বিনা চিকিৎসায় মরতে দেবেন না একজনও অসহায় রোগীকে। শিশু ও বয়স্কদের জন্যও আলাদা ব্যবস্থা থাকবে তাঁর। প্রবীণদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাসপাতালের চক্কর কাটতে হবে না। তাঁর চেম্বারেই সব সুবিধা পাওয়া যাবে।

Image result for Doctor Opens "One Rupee" Clinic In Odisha

বুরলা শহরে গতকাল থেকেই খুলে গেছে এক টাকার ক্লিনিক। সকাল ৭ টা থেকে ৮টা এবং সন্ধে ৬টা থেকে ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকবে তাঁর ক্লিনিক। দরকার হলে সময় বাড়াবেন। শারীরিক প্রতিবন্ধী রোগীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখছেন ডাক্তারবাবু। তাঁদের বেশি সময় কষ্ট করে অপেক্ষা করতে হবে না।

ডাক্তারবাবু বলছেন, ভিমসারের ওপিডিতে রোজই অনেক রোগী আসেন। তাঁদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। ফর্ম ভরে টাকা জমা না দিলে চিকিৎসা শুরু হয় না। সব হাসপাতাল ও নার্সিংহোমেরই এক নিয়ম। যার ফলে গরিবদের চিকিৎসা ঠিক মতো হয় না। এইসব রোগীদের জন্যই তাঁর ক্লিনিক। ডক্টর রামচন্দানির স্ত্রী শিখা ডেন্টাল সার্জন। তাঁর চেম্বারেও গরিব রোগীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা আছে।

“বাবা চেয়েছিলেন আমার নিজস্ব নার্সিংহোম হোক। কিন্তু নার্সিংহোম খোলার খরচ অনেক। সেখানে কম পয়সায় চিকিৎসা করা সম্ভব নয়। তাই এই ক্লিনিক খুলেছি। আমি নামি ডাক্তার হতে চাই না, জনসাধারণের মাঝে থেকে তাঁদের সেবা করতে চাই”, বলেছেন ডাক্তারবাবু। তাঁর এক টাকার ক্লিনিকে এখন রোগীদের ভিড় উপচে পড়ছে। ধন্য ধন্য করছে এলাকার মানুষজন।

You might also like