Latest News

প্রতিরক্ষায় শক্তি আরও বাড়ছে, ৪৯৬০টি অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইলের চুক্তি পাকা করল কেন্দ্র

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পে প্রতিরক্ষায় শক্তি আরও মজবুত হচ্ছে। দেশের সংস্থার থেকেই যুদ্ধট্যাঙ্ক বিধ্বংসী আধুনিক মিসাইল কিনতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। রাশিয়ার তৈরি দ্বিতীয় প্রজন্মের অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড ‘মিলান-২টি’ মিসাইল ভারতেই তৈরি করার চেষ্টা শুরু হয়েছিল বহুদিন থেকেই। এ ব্যাপারে দেশীয় অস্ত্র নির্মাতা সংস্থা ভারত ডায়ানামিক্সের সঙ্গে কথাবার্তা চলছিল। জানা গেছে, ৪ হাজার ৯৬০টি মিলান-২টি মিসাইল কেনার জন্য ভারত ডায়ানামিক্সের সঙ্গে চুক্তি পাকা হয়েছে।

গত কয়েকমাস ধরেই ভারত ডায়ানামিক্সের সঙ্গে আলোচনা করছিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। ফ্রান্সের থেকে লাইসেন্স পাওয়ার পরে দেশীয় প্রযুক্তিতেই মিলান-২টি ক্ষেপণাস্ত্র ভারতে তৈরি করা শুরু করেছিল ভারত ডায়ানামিক্স। জানা গেছে, ১ হাজার ১৮৮ কোটি টাকার চুক্তি হয়েছে। আগামী তিন বছরের মধ্যে উৎপাদন শেষ করবে ভারত ডায়ানামিক্স।

Indian Army Seeking 5,000 Anti-Tank Guided Missiles 'MILAN 2T' to Fulfil  Immediate Shortage; DAC To Take Decision on January 31 – Defence Stories

অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল আগে বিদেশ থেকে আনানো হত। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পে এখন দেশেই আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র তৈরিতে জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পূর্ব লাদাখে ভারত ও চিনের সেনার মুখোমুখি সংঘর্ষের পর থেকে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চলছে। তারমধ্যে বার কয়েক অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইলের পরীক্ষাও হয়েছে।

Indian Defence Research Wing – Latest and In-depth coverage, analysis of  Indian Defence News from 2006

দেশের হাতে যে সমস্ত অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল (এটিজিএম) আছে তার মধ্যে সেরা মিলান-২টি। ভূমি থেকে এই মিসাইল ছোড়া যায়, আবার লঞ্চার ভেহিকল থেকেও নিক্ষেপ করা যায়। এই মিসাইলের পাল্লা বেশি নয়, উৎক্ষেপণ স্থল থেকে ১৮৫০ মিটারের মতো, মানে ২ কিলোমিটারের কাছাকাছি। তবে সর্বোচ্চ রেঞ্জ ৪ কিলোমিটারের কাছাকাছি।

মিলান-২টি মিসাইলের নির্মাতা ফ্রান্স। দেশীয় প্রযুক্তিতে এই মিসাইল এবার ভারতেই তৈরি হতে চলেছে। স্থলসেনা, নৌ ও বায়ুসেনা, তিন বাহিনীরই কাজে লাগবে এই মিসাইল। মিলানের পাঁচটি ভ্যারিয়ান্ট আছে–  মিলান ১, মিলান ২, মিলান ২টি, মিলান ৩ ও মিলান ইআর। শেষ ভ্যারিয়ান্টটির রেঞ্জ ৩০০০ মিটার।

Spike anti-tank missile from Israel likely in India's armoury - Mail Today  News

১৯৬২ সাল থেকে মিলান মিসাইল তৈরি করা শুরু করে রুশ সংস্থা। ১৯৭২ সাল নাগাদ এই ক্ষেপণাস্ত্র সেনাবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত হয়। চাদ-লিবিয়ানের যুদ্ধ, দক্ষিণ আফ্রিকার সীমান্ত যুদ্ধ, ২০১৭ সালে ইরাক-কুর্দ যুদ্ধ, সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে এই মিসাইলের বড় ভূমিকা ছিল।

মিলান সিরিজের মিসাইলের বড় বৈশিষ্ট্য হল এই মিসাইল ছুঁড়ে বিপক্ষের ট্যাঙ্ক, সামরিক পরিকাঠামো ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া যায়। নিক্ষেপ স্থল থেকে ছুটে গিয়ে সঠিক নিশানায় আঘাত করতে পারে এই ক্ষেপণাস্ত্র। এতে রয়েছে  বিশেষ ধরনের বৈদ্যুতিন সেন্সর, যা শত্রুপক্ষের রাডারে ধরা পড়ে না চট করে। দিনে হোক বা রাতে, এই মিসাইল সঠিক নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম। বিপক্ষের মিসাইলকে ট্র্যাক করার জন্য এতে আছে ইনফ্রারেড ল্যাম্প। একবার এই মিসাইল নিক্ষেপ করলে এর গতি থামানো খুব মুশকিল।

সুপারসনিক মিসাইল অ্যাসিস্টেড রিলিজ টর্পেডো বা ‘স্মার্ট’(SMART) ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষায় সাফল্য মিলেছে আগেই। কিছুদিন আগেই ওড়িশার চাঁদিপুরের টেস্ট রেঞ্জ থেকে রাতের অন্ধকার পৃথ্বী ২ মিসাইলের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সফল হয়েছে। সারফেস-টু-সারফেস শর্ট-রেঞ্জ ব্যালিস্টিক মিসাইল পৃথ্বী ২ বহু দূর থেকেই শত্রুঘাঁটি চিনে নিতে পারে। অর্জুন যুদ্ধট্যাঙ্ক থেকে অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইলের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণও সফল। শব্দের চেয়েও দ্রুতগামী সুপারসনিক শৌর্য ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক নিক্ষেপেও সাফল্য পেয়েছে ডিআরডিও। ৭০০ কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র পরমাণু অস্ত্র বহু করতে পারে। শৌর্য সাবমেরিন-লঞ্চড ব্যালিস্টিক-০৫ মিসাইলের ল্যান্ড ভার্সন। অর্থাৎ ভূমি থেকে ভূমিতে ছোড়া যায় এই মিসাইল। ডিআরডিও জানিয়েছে, পাঁচ হাজার কিলোমিটার পাল্লার কে-৫ সাবমেরিন-লঞ্চড ব্যালিস্টিক মিসাইলও তৈরির পথে।

You might also like