Latest News

‘স্যার’, ‘ম্যাডাম’ সম্বোধন আর নয়, লিঙ্গবৈষম্যের ঊর্ধ্বে এই স্কুলে সবাই শিক্ষক

 দ্য ওয়াল ব্যুরো: হয় স্যার, নয় ম্যাডাম। এতকালের প্রচলিত সম্বোধন। সব স্কুলেই এই প্রথাই চালু রয়েছে। কিন্তু কেরলের একটি গ্রামের স্কুল চিরাচরিত এই প্রধার বিরুদ্ধে নিঃশব্দে প্রতিবাদ জানাল। শিক্ষার আলো দেবেন শিক্ষক, তাঁর আবার লিঙ্গ পরিচয় কী? এই স্কুলে সবাই শিক্ষক, আলাদা করে স্যার বা ম্যাডাম সম্বোধনের তাই দরকারই নেই।
প্রচলিত ধ্যান-ধারণার বেড়াজাল ছিন্ন করা সহজ হয় না অনেক সময়েই। নিয়ম-নীতির ঊর্ধ্বে গিয়ে সমানাধিকার ছিনিয়ে আনার প্রয়াস করতে সঙ্কোচ করেন অনেকেই।

শহরের নামী দামি স্কুলগুলো যে পদক্ষেপ নেওয়ার আগে বহুবার ভেবেছে, কেরলের পালাক্কাড় জেলার একটি সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত স্কুল তাই করে দেখিয়ে দিয়েছে। সংস্কারের পাঁচিল ভেঙে বৈষম্যের আঁধার দূর করতে প্রথম পদক্ষেপ নিয়েছে।

পালাক্কাড়ের গ্রামের সিনিয়র বেসিক স্কুলের পড়ুয়া ৩০০ জন। আট জন শিক্ষক ও ন’জন শিক্ষিকা। এতদিন শিক্ষিকাদের ম্যাডাম ও শিক্ষকদের স্যার বলেই ডাকতেন পড়ুয়ারা। কিন্তু এবার থেকে আরা আলাদা সম্বোধন নয়। সকলেই শিক্ষক। পুরুষ ও মহিলার সমানাধিকার নিয়ে সমাজে যে নিঃশব্দ বিপ্লব চলছে, তারই প্রথম সিঁড়িটা অতিক্রম করে ফেলেছে এই স্কুল। ছাত্রছাত্রীরাও সংস্কারমুক্ত শিক্ষার প্রথম পাঠ পেয়ে গিয়েছে।

স্কুল বোর্ডের সদস্য সঞ্জীব কুমার জানিয়েছেন, পালাক্কাড়ের সমাজকর্মী বোবান মাত্তুমান্থার থেকে তিনি এই অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। সমাজ সংস্কারের নানা দিক তিনি তুলে ধরেন যুবসমাজের সামনে। লিঙ্গবৈষম্য রোখার এই প্রয়াস স্কুল থেকেই শুরু হোক, সেই চেষ্টাই তাঁরা করেছেন।

কেরলের মাথুর পঞ্চায়েতও কিছুদিন আগেই ইতিহাস গড়েছে। পঞ্চায়েত অফিসে স্যার বা ম্যাডাম বলে কাউকে সম্বোধন করা যাবে না, সেই ঘোষণাই করা হয়েছে। দল-মত নির্বিশেষে পঞ্চায়েতের সকল সদস্যই এই প্রস্তাবে সম্মত হয়েছেন। মূলত সাধারণ মানুষই নানা প্রয়োজনে পঞ্চায়েত অফিসে আসেন। এতকাল ধরে এইসব ক্ষেত্রে স্যার, ম্যাডাম সম্বোধনই প্রচলিত ছিল। এখন তা তুলে নেওয়ার উদ্দেশ্য হল নেতা ও জন প্রতিনিধিদের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনা। জনতাই জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করে, সেখানে স্যার বা ম্যাডাম জাতীয় সম্বোধন করে কাউকে উচ্চ আসনে বসানোর দরকার নেই বলেই মনে করছেন এই পঞ্চায়েতের সদস্যরা।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকাসুখপাঠ

You might also like