Latest News

নাকের নীচে মাস্ক দেখলেই ধরবে পুলিশ, বিমানবন্দরে কোভিড বিধি ভাঙলেই কড়া আইনি ব্যবস্থা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিদেশ থেকে করোনার নতুন স্ট্রেন ঢুকে পড়ার ভয়ে এতদিন আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল। অন্তর্দেশীয় পরিষেবাতেও নানা নিয়ম বেঁধে দিয়েছিল অসামরিক বিমান পরিবহণের ডাইরেক্টরেট জেনারেল (ডিজিসিএ)। কিন্তু বিমান পরিষেবা আবার স্বাভাবিক হতে শুরু করার পরেই দেখা দিয়েছে বিপত্তি। বিমানবন্দরে সোশ্যাস ডিস্টেন্সিং মানার বালাই নেই। তার ওপর মাস্কটাও ঠিকঠাক করে পরছেন না যাত্রীরা। কারও মাস্ক নাকের নীচে ঝুলছে, তো কারও একেবারে গলার কাছে সাঁটা। নাক ও মুখ ঢেকে ফেস মাস্ক পরছেন হাতে গোনা লোকজন। একেই দেশে করোনা সংক্রমণ বেড়ে চলছে, তার মধ্যে বিমানে ওঠানামা করছেন যে যাত্রীরা তাঁরা একেবারেই কোভিড প্রোটোকল মানছেন না। এসব দেখেই এবার কড়া গাইডলাইন চালু করেছে ডিজিসিএ।

আজ, শনিবার একটি সার্কুলার জারি করে ডিজিসিএ বলেছে, বিমানবন্দরে বেশিরভাগ যাত্রীই কোভিডের বিধিনিষেধ মানছেন না। বিমানবন্দরে ঢোকার পরে ঠিক করে মাস্ক পরছেন না। বিমানবন্দরে পারস্পরিক দূরত্ব মেনে চলছেন না কেউই। এমনকি বিমান ওঠার পরেও যে শারীরিক দূরত্বে বিধি মেনে চলার কথা, তাও মানছেন না অনেকে। কোভিড প্রোটোকল মেনে ঠিক যেভাবে মাস্ক পরতে বলা হয়েছে তা করছেন না যাত্রীরা। অনেকেরই মাস্ক নাকের নীচে ঝুলছে। যাত্রীদের এমন বেপরোয়া মনোভাব বরদাস্ত করা হবে না।

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যে যাত্রীরা সঠিকভাবে মাস্ক পরবেন না, তাঁদের বিমান থেকে নামিয়ে দেওয়া হবে। যদি বিমানবন্দরে কাউকে নাকের নীচে মাস্ক পরে ঘুরতে দেখা যায় তাহলে কড়া ব্যবস্থা নেবে সিআইএসএফ। প্রয়োজনে অবাধ্য যাত্রীদের বিমানবন্দর থেকে বের করে দেওয়াও হতে পারে।

বিমানবন্দরে মোতায়েন পুলিশ ও সিআইএসএফ কড়া নজর রাখবে। যাত্রীরা ঠিকমতো কোভিড প্রোটোকল মানছেন কিনা তা খেয়াল রাখা হবে। কোনও যাত্রীকে দায়সারাভাবে কাজ করতে দেখা গেলে তাঁকে প্রথমে সতর্ক করা হবে। সেই সতর্কবার্তা না মানলে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডিজিসিএ-র নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বিমানবন্দরের ডিরেক্টর বা টার্মিনাল ম্যানেজার এই দায়িত্ব পালনের জন্য দায়বদ্ধ থাকবেন। কোভিড প্রোটোকল কড়াভাবে মেনে চলতে হবে বিমানে ও বিমানবন্দরে।

আন্তর্জাতিক উড়ানে নিষেধাজ্ঞা এবং ছাড় সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি শেষ বার জারি হয়েছিল গত বছর ২৬ জুন। ওই বিজ্ঞপ্তিতে কয়েকটি বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া আন্তর্জাতিক উড়ানে নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। আনলক-৫ পর্বের মেয়াদও ছিল ওই দিন পর্যন্ত। পরে পঞ্চম আনলক পর্বের মেয়াদ আরও এক মাস বাড়িয়ে ৩০ নভেম্বর অবধি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। কেন্দ্রের ঘোষণার পরে তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই আন্তর্জাতিক উড়ানে বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়ায় ডিজিসিএ। বিমানে ওঠা ও বিমান থেকে নামার পরে যাত্রীদের কোভিড টেস্ট করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। কোনও যাত্রীর শরীরের তাপমাত্রা বেশি থাকলে বা সন্দেহজনক মনে হলে তাঁকে আইসোলেশনে পাঠানো হচ্ছিল। বিদেশ ফেরত কোনও যাত্রীকে সাত দিন অথবা পনেরো দিনের কোয়ারেন্টাইন পর্ব মিটিয়ে তবেই দেশে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ব্রিটেন ও দক্ষিণ আফ্রিকার কোভিড স্ট্রেন ভারতে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই আরও কড়া বিধিনিষেধ চালু করেছিল ডিজিসিএ।

You might also like