Latest News

‘পণ নিইনি’, বিয়ের পর ঘোষণাপত্র দিতে হবে কেরলের পুরুষ সরকারি কর্মীদের, সই করবেন স্ত্রী, শ্বশুর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেরলের সব পুরুষ সরকারি কর্মচারীকে বিয়ের এক মাসের মধ্য়ে কর্তৃপক্ষের কাছে এই মর্মে ঘোষণাপত্র দিতে হবে, তিনি  বিবাহিত কিনা, হলে কবে বিয়ে করেছেন, বিয়েতে  স্ত্রীর পরিবারের কাছ থেকে পণ বাবদ  কিছুই নেননি। শুধু তাই নয়, সেই ঘোষণাপত্রের তথ্য যে সঠিক, তা নিশ্চিত করতে তাতে সই করবেন কর্মীর স্ত্রী, বাবা ও শ্বশুরমশাই। এ ব্যাপারে সার্কুলার দিয়েছে সরকারের মহিলা ও শিশুকল্যাণ দপ্তর। দপ্তরের ডিরেক্টর অনুপমা টিভি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানদের পুরুষ কর্মীরা যে বিয়ের সময় পণ চাননি বা নেননি, সেই ঘোষণাপত্র সংগ্রহ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। বছরে দুবার, একবার এপ্রিলে, আরেকবার সেপ্টেম্বরে দপ্তরের প্রধানরা সংশ্লিষ্ট  জেলা পণ নিষিদ্ধকরণ অফিসারদের রিপোর্ট পাঠাবেন। যেসব দপ্তর সময়মতো কর্মীদের ঘোষণাপত্র আদায় করতে পারবে না, তাদের উল্লেখ করে রিপোর্ট দেবেন জেলা অফিসাররা।

সম্প্রতি কেরলে নিষ্ঠুর পণপ্রথার জেরে একাধিক বিবাহিত মেয়ের মৃত্যু, আত্মহত্যার ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। গত জুনের এক সপ্তাহেই পণের জন্য স্বামী, শ্বশুরবাড়ির চাপ, নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিন যুবতী আত্মহত্যা করেন। সম্প্রতি ৩১ বছরের এক মহিলা মিডিয়াকে জানান, কীভাবে প্রযুক্তিবিদ স্বামী ও তাঁর পরিবারের প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে তাঁকে লাঞ্ছনা করে।  নড়েচড়ে বসে পিনারাই বিজয়ন সরকার। পণ নিষিদ্ধকরণ সংশোধনী নিয়মবিধি, ২০২১ গৃহীত হয়েছে, যাতে জেলায় জেলায় পণ নিষিদ্ধকরণ অফিসার নিযুক্ত হবেন, মহিলা ও শিশুকল্যাণ দপ্তরের প্রধান তাঁদের প্রধান হিসাবে কাজ করবেন।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, পণ দেওয়া নেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য  হবে। জেলের মেয়াদ ৫ বছরের কম হবে না। জরিমানার অঙ্ক ১৫ হাজার টাকার নীচে নয় অথবা যে পরিমাণ অর্থ পণ বাবদ নেওয়া হয়েছে, সেটা। পণ দাবি করাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হবে।

পাশাপাশি ২৬ নভেম্বর পণ বিরোধী দিবস পালন করা হবে বলে জানিয়েছে কেরল সরকার। সেদিন স্কুল,কলেজের পড়ুয়ারা শপথ নেবে, তারা পণ দেবে না, নেবে না।

You might also like