Latest News

৯১-র চেয়েও কঠিন রাস্তা সামনে, আর্থিক উদারীকরণের ৩০-তম বর্ষপূর্তিতে মনমোহন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা মহামারী পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতির বেহাল হয়ে পড়ার অভিযোগ তুলে সেজন্য নরেন্দ্র মোদী সরকারকে দুষছেন বিরোধীরা। তার মধ্যেই আর্থিক উদারীকরণের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে শুক্রবার বিবৃতি দিয়ে সামনের দিনগুলিতে কঠিন রাস্তায় ভারতীয় অর্থনীতিকে হাঁটতে হবে বলে অভিমত জানালেন ডঃ মনমোহন সিং।

১৯৯১ সালে তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী নরসিমা রাওয়ের অর্থমন্ত্রী মনমোহনের হাত ধরেই দেশের অর্থনীতির উদারীকরণের সূচনা হয়েছিল। লাল ফিতের ফাঁস প্রত্যাহার করে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য অর্থনীতির দরজা খুলে দিয়েছিলেন মনমোহন। তারপর ৩০টা বছর পেরিয়ে গিয়েছে। করোনা আবহে আর্থিক বৃদ্ধির হার কমছে। সংশয় অর্থনীতির ভবিষ্যত্ নিয়ে।

এই প্রেক্ষাপটেই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেছেন, ১৯৯১ এর সঙ্কটের চেয়েও বেশি কঠিন পরিস্থিতি আসছে আগামী দিনগুলিতে। এখন আনন্দ, উচ্ছ্বাস প্রকাশের নয়, তলিয়ে ভাবা, অনুসন্ধান,  সমীক্ষার সময়। দেশ হিসাবে আমাদের অগ্রাধিকারগুলির পুনর্বিন্যাস করতে হবে, যাতে প্রতিটি ভারতবাসী একটা স্বাস্থ্যকর, সম্মানজনক জীবন কাটাতে পারেন। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি কি নাম না  করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কোনও বার্তা দিতে চাইলেন?

তিনি অতীত স্মরণ করে বলেন, ৩০ বছর আগে কংগ্রেস দল ভারতীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের পথে পা রেখেছিল, ভারতের আর্থিক নীতির নতুন পথে যাত্রা সুগম করেছিল। পরবর্তী সরকারগুলিকেও গত তিন দশকে সেই পথ অনুসরণ করে ‘আমাদের দেশকে তিন ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতিতে পরিণত করায়’ কৃতিত্ব দেন তিনি। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা আরও বলেন, আরও বড় কথা হল, প্রায় ৩০ কোটি ভারতীয় সহনাগরিককে এই ৩০ বছরের সময়কালে গরিবি সীমারেখার ওপরে তুলে নিয়ে আসা গিয়েছে, কয়েক লাখ নতুন কাজ দেওয়া হয়েছে যুবকদের।

১৯৯১ এর আর্থিক উদারীকরণ প্রক্রিয়া যদিও একটা অর্থনৈতিক সঙ্কটের জেরে শুরু হয়েছিল, কিন্তু তা শুধুমাত্র সঙ্কট মোকাবিলার স্তরেই সীমিত ছিল না বলেও অভিমত জানান মনমোহন। বলেন, ভারতের আর্থিক সংস্কারের মৌলিক ভিত ছিল সমৃদ্ধির বাসনায়, আমাদের নিজেদের শক্তিতে বিশ্বাস, অর্থনীতিতে সরকারি নিয়ন্ত্রণ ঝেড়ে ফেলার ভরসার ওপর। আমার সৌভাগ্য বলব যে, আমি কংগ্রেস দলে আমার সহকর্মীদের অনেকের সঙ্গে এই সংস্কার প্রক্রিয়া চালানোয় একটা ভূমিকা নিতে পেরেছিলাম।

পাশাপাশি কোভিড ১৯ মহামারীজনিত বিপর্যয়েও গভীর দুঃখ প্রকাশ  করেন তিনি। বলেন, আর্থিক উন্নয়নের সঙ্গে তাল রাখতে পারেনি, অনেক পিছিয়ে রয়েছে স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো সামাজিক সেক্টরগুলি। অনেক বেশিই জীবন, জীবিকা নষ্ট হয়ে গিয়েছে, যা হওয়ার কথা ছিল না।

মনমোহন বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, ১৯৯১ সালে তিনি তাঁর বাজেট ভাষণ শেষ করেছিলেন ভিক্টর হুগোর উদ্ধৃতি দিয়ে যে, যে আইডিয়ার আসার সময় হয়েছে, তাকে বিশ্বের কোনও শক্তিই দমিয়ে রাখতে পারবে না। ৩০ বছর বাদে, ভারতকে রবার্ট ফ্রস্টের স্টপিং বাই উডস অন এ স্নোয়ি ইভনিং কবিতা সেই দুটি অমর লাইন মনে করতে বলেছেন মনমোহন,

বাট আই হ্যাভ প্রমিসেস টু কিপ, অ্যান্ড মাইলস টু গো বিফোর আই স্লিপ।

 

 

 

 

You might also like