Latest News

Congress: প্রশান্তের পরামর্শই পাথেয়, বিজেপি ও আঞ্চলিক দলের মোকাবিলায় কর্পোরেট পথে কংগ্রেস

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শর্ত নিয়ে টানাপোড়েনে প্রশান্ত কিশোর শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসে (Congress) যোগ দেননি। কিন্তু উদয়পুরে কংগ্রেসের তিনদিনের চিন্তন শিবিরে গৃহীত সিদ্ধান্তে ছাপ রেখে গেল ওই ভোট কুশলীর অনেক পরামর্শই।

উদয়পুরে রবিবার চিন্তন শিবিরের শেষ দিনে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি গৃহীত সিদ্ধান্তের যে তালিকা প্রকাশ করেছে তাতে পুরোদস্তুর কর্পোরেট পথে চলার ভাবনা স্পষ্ট। ঠিক হয়েছে, কংগ্রেস সভাপতিকে প্রতিনিয়ন নীতিগত ইস্যুতে পরামর্শ দিতে একটি রাজনৈতিক পরামর্শদাতা গ্রুপ সারা বছর কাজ করবে।

রাজ্যগুলিতেও প্রদেশ কংগ্রেসের (Congress) আওতায় কাজ করবে একটি রাজনৈতিক বিষয়ক কমিটি। এই কমিটিগুলির কাজ হবে কোনও ইস্যুতে দল কোন কোন বক্তব্য কোন মাধ্যমে কীভাবে জনসাধারণের মাঝে তুলে ধরবে। বর্তমানে দলে এই ধরনের কোনও পেশাদার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে চলার ভাবনা এবং ব্যবস্থা কোনওটাই নেই।

নির্বাচন পরিচালনার জন্যও সারা বছর কাজ করবে একটি কমিটি, সিদ্ধান্ত হয়েছে চিন্তন শিবিরে। বরাবরই কংগ্রেস এই ব্যাপারে লেট লতিফ। অনেকেরই বক্তব্য, দীর্ঘ সময় শক্ত প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করতে না হওয়ায় কংগ্রেসের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে সাংগঠনিক প্রস্তুতি বরাবরই কম। সব নির্বাচনেই দেখা গিয়েছে, একেবারে শেষ মূহূর্তে দল গা ঝাড়া দিয়ে উঠেছে। কিন্তু বিজেপি ও আঞ্চলিক দলগুলি এখন অনেক শক্তিশালী তাই-ই শুধু নয়, তারা অনেক বেশি পেশাদারিত্বের সঙ্গে ভোট পরিচালনা করছে।

প্রশান্ত কিশোর বা তাঁর মতো ভোট কুশলীদের প্রথমসারির প্রায় সব দলই কোনও না কোনও সময় ব্যবহার করেছে। বাদ শুধু বাম দলগুলি এবং কংগ্রেস (Congress)। প্রশান্ত কিশোরকে দলে নেওয়া নিয়ে কংগ্রেসের সাম্প্রতিক নাটকেও স্পষ্ট নির্বাচন নিয়ে এখনও কংগ্রেস প্রচলিত ব্যবস্থা হাঁটতে আগ্রহী।

যদিও উদয়পুর থেকে নতুন পথে হাঁটার ইঙ্গিত মিলল। প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শ ছিল নির্বাচন হল ২৪x৭ সাংগঠনিক প্রক্রিয়া। পরীক্ষার আগে রাত জেগে পড়ে পাশ করার মতো করে ভোট করলে বিজেপি ও আঞ্চলিক দলগুলিকে আরও টেক্কা দিতে পারবে না কংগ্রেস। দেখা গেল এই ব্যাপারে প্রশান্তের পরামর্শ মাথায় রেখে কংগ্রেস নির্বাচন নিয়ে সারা বছর কাজ করার জন্য আলাদা একটি উইং খুলতে যাচ্ছে। এছাড়া, বিজেপি এবং প্রথমসারির অন্য দলগুলির মতো কংগ্রেস একটি দলীয় কমিউনিকেশন মেকানিজম গড়ে তুলতে চলেছে। উদ্দেশ প্রচার মাধ্যম এবং সামাজিকভাবে দলের উপস্থিতি আরও বাড়ানো এবং বক্তব্য ধারালো করে তোলা।

কেরলে রাজীব গান্ধী ইনস্টিটিউট অফ ডেভেলপমেন্টাল স্টাডিজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান আছে। সেটি পরিচালনা করে প্রদেশ কংগ্রেস (Congress)। উদয়পুরে ঠিক হয়েছে জাতীয় স্তরেও ওই ধরনের একটি ইনস্টিটিউশন দল গড়ে তুলবে। সেটির কাজ হবে সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে নেতাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া। সর্বভারতীয় প্রতিষ্ঠানটি চালু না হওয়া পর্যন্ত গোটা দেশের পার্টির জন্য এই কাজ করবে কেরল কংগ্রেস।

এই সব সিদ্ধান্ত দেখে অনেকেই মনে করছেন কংগ্রেস কিছুটা হলেও কর্পোরেট সংস্থার ধাঁচে এগতে চাইছে। এখন কংগ্রেস সভাপতির একজন রাজনৈতিক সচিব আছেন। ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যদের সঙ্গে তিনিই দলীয় সভাপতির যোগসূত্র। কিন্তু নয়া ব্যবস্থায় ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যদের মধ্যে থেকে কয়েকজনকে বেছে নেবেন দলীয় সভাপতি যাঁরা রাজনৈতিক বিষয়ে তাঁর উপদেষ্টার কাজ করবেন।

বড় কর্পোরেট কোম্পানিগুলিতে চেয়ারম্যান, ম্যানেজিং ডিরেক্টরদের পরামর্শ দিতে কাজ করে বিশেষ উপদেষ্টা কমিটি। উদ্দেশ্য হল সিদ্ধান্ত কার্যকর করার আগে সেটির সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া যাচাই করে নেওয়া এবং সুদুরপ্রসারী ফলাফল অনুধাবন করে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলার রাস্তা তৈরি রাখা।

এর ফলে কংগ্রেস (Congress) সভাপতির রাজনৈতিক সচিবের গুরুত্ব খানিক কমবে সন্দেহ নেই। তবে সনিয়া ও তাঁর টিম খুব কৌশল করেই এই নয়া ব্যবস্থা বলবৎ করতে চলেছেন। কারণ, কংগ্রেসের বিক্ষুব্ধরা বারে বারেই একক সিদ্ধান্ত নিয়ে সরব। এখন সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় একাধিক নেতাকে যুক্ত করা হচ্ছে। এর ফলে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির গুরুত্ব কমবে কিনা ভবিষ্যতই তা বলবে।

উদয়পুরের চিন্তন তথা নব সংকল্প শিবির থেকে কংগ্রেস আগেই ঘোষণা করেছে সংগঠনের সর্বস্তরে ৫০-এর কম বয়সিরা থাকবেন অন্তত্য ৫০ শতাংশ। সাংগঠনিক পদের ৫০ শতাংশ দলিত, সংখ্যালঘু এবং অন্যান্য অনুন্নতদের রাখা হবে। এছাড়া এক পরিবার এক প্রার্থী নিয়মও এবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বলবৎ হতে যাচ্ছে। এই ক্ষেত্রে ছাড় মিলবে পরিবারের অন্য কেউ সাংসদ বা বিধায়ক পদে প্রার্থী হতে গলে অন্তত পাঁচ বছর দলের কাজ করে থাকতে হবে।

‘ভারতীয় ব্যাডমিন্টনে ইতিহাস’, শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী, ঘোষণা আর্থিক পুরস্কারও

You might also like