Latest News

হুঁশিয়ারি সুপ্রিম কোর্টের, সেনার মহিলা অফিসারদের স্থায়ী কমিশনে কেন্দ্রের আশ্বাস

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুপ্রিম কোর্টের (supreme court) কড়া মনোভাবের মুখে কেন্দ্র (centre) আশ্বাস দিল, সেনাবাহিনীতে (army) সব যোগ্য মহিলা অফিসারের (women officers) স্থায়ী কমিশনের (permanent commission) জন্য ব্যবস্থা নেবে।   সুপ্রিম কোর্ট  এই মর্মে হুঁশিয়ারি  দেয়, বাহিনীকে আদালত অবমাননার (contempt) মুখে পড়তে হবে। তারপরই সর্বোচ্চ আদালতে নরেন্দ্র মোদী সরকারের এই প্রতিশ্রুতি। সেনাবাহিনীর ১১ জন মহিলা অফিসার স্থায়ী কমিশনের ব্যাপারে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন। তাঁদের ব্যাপারেও ১০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।

ওই ১১ মহিলা অফিসার অভিযোগ জানান, সেনা কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ পালন করছে না। যোগ্যতার নির্দিষ্ট যাবতীয় মাপকাঠি পূরণ করা সত্ত্বেও তাঁদের স্থায়ী কমিশন থেকে বঞ্চিত করছে  সেনা কর্তৃপক্ষ।  বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় ও বিচারপতি এএস বোপান্নার বেঞ্চ ১১ মহিলা অফিসারের পিটিশনের শুনানিতে এহেন অভিযোগ শুনে কেন্দ্রকে  আদালত অবমাননার হুঁশিয়ারি দেয়। অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল সঞ্জয় জৈন জানান, আদালতের নির্দেশ  অক্ষরে অক্ষরে পালিত হবে, সব অসন্তুষ্ট মহিলা অফিসারকে আগের রায়ের  সীমাবদ্ধতার বিষয়টি বিবেচনা করে স্থায়ী কমিশন দেওয়া হবে।

আদালত বলেছে, কোনও মহিলা অফিসার স্থায়ী কমিশনের যোগ্য নন বলে দেখা গেলেও তাঁকে খারিজ করার কারণ স্পষ্ট উল্লেখ করে তা জানাতে হবে। যে মহিলা অফিসাররা যোগ্যতার সব মাপকাঠি পূরণ করেছেন, কিন্তু এখনও  আদালতে আসেননি, তাঁদের সবাইকে তিন সপ্তাহের মধ্যে স্থায়ী কমিশন দিতে হবে।

গত ২২ অক্টোবর সেনাবাহিনীর ৩৯ জন মহিলা অফিসারকে স্থায়ী কমিশন ইস্যু করতে কেন্দ্রকে নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট।  কিন্তু ১১ জন মহিলা অফিসারের পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি চন্দ্রচূড় আজ বলেন, আমরা সেনাকে আদালত অবমাননায় দোষী সাব্যস্ত করব। সাবধান করে দিচ্ছি। সেনাবাহিনী তার নিজের পরিসর স্বয়ম্ভূ হতে পারে কিন্তু দেশের সাংবিধানিক আদালতও তাঁর নিজের চৌহদ্দিতে সর্বশক্তিমান।

স্থায়ী কমিশনের অর্থ অবসর পর্যন্ত গোটা কেরিয়ার। শর্ট সার্ভিস কমিশন হয় ১০ বছরের। তবে দশ বছরের শেষে হয় ছেড়ে দেওয়ার বা পার্মানেন্ট কমিশন বেছে নেওয়ার অপশন থাকে। কোনও অফিসার যদি তখন স্থায়ী কমিশন না পান, তবে চার বছরের এক্সটেনশন অর্থাত বাড়তি মেয়াদ পেতে পারেন। মূল্যায়নে ৬০ শতাংশ মার্কস পাওয়া সব মহিলা অফিসার স্থায়ী কমিশনের যোগ্য হবেন, তবে সেনাবাহিনীর ২০২০র ১ আগস্ট নির্ধারিত মেডিকেল সংক্রান্ত মাপকাঠি পূরণ করতে হবে, শৃঙ্খলামূলক ও ভিজিল্যান্সের ছাড়পত্রও পেতে হবে।

মোট ৭১ জন শর্ট সার্ভিস মহিলা কমিশন অফিসার স্থায়ী কমিশন প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন গত আগস্টে। দাবি, স্থায়ী  কমিশন চাই। সুপ্রিম কোর্টের এবছরের মার্চের রায় পালন না করায় প্রতিরক্ষামন্ত্রকের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার দায়ে ব্যবস্থাও চান তাঁরা। ওই রায়ে বলা হয়েছিল, প্রস্তাবিত মাপকাঠি পূরণ করলে সব মহিলা শর্ট সার্ভিস কমিশন অফিসারকে স্থায়ী কমিশন দিতে হবে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে। এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ  করতে তিন মাস সময় দেওয়া হয় সরকারকে। সেসময় সর্বোচ্চ আদালত বলেছিল, মহিলা অফিসারদের স্থায়ী কমিশন মঞ্জুর করায় সেনার মূল্যায়নের মাপকাঠিতে মহিলাদের প্রতি ধারাবাহিক বৈষম্য হয়ে আসছে।

You might also like