Latest News

বিটকয়েন দিয়ে ড্রাগ কিনত আরিয়ানরা? ডার্ক-ওয়েবে কীভাবে বেড়ে উঠছে মাদকচক্র

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অন্ধকার অন্তর্জালে আটকে মাদকচক্র (Drug)। ডার্ক-ওয়েবের ধাঁধাঁয় সব বাঁধা। মাদক-কাণ্ডে শাহরুখ-পুত্র আরিয়ান (Aryan Khan) ও তাঁর সঙ্গীসাথীদের গ্রেফতার করার পরে তদন্তের এক একটা পর্দা খুলছেন নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর (এনসিবি) অফিসাররা।

আরিয়ানকে জেরা করেই মাদক কারবারীদের একজনকে পাকড়াও করেছে এনসিবি। সেই পাচারকারীর নাম শ্রেয়স। জেরায় সে জানিয়েছে গোয়াগামী ওই প্রমোদতরীতে মাদক সরবরাহ করার বরাত দেওয়া হয়েছিল তাকেই। এই বরাত দিয়েছিল একটি চক্র যারা ডার্ক-ওয়েবের মাধ্যমে কাজ করে। এনসিবি-র জ়োনাল ডিরেক্টর সমীর ওয়াংখেড়ে বলেছেন, এদের নাম-ধাম, পরিচয় সবই থাকে আড়ালে। নগদ টাকা দিয়ে নয়, মাদক কেনাবেচা চলে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করে। আরিয়ানদের জন্য মাদক কেনা হয়েছিল এই ডার্ক-ওয়েব থেকেই।

এমনিতে অপরাধে যুক্তদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে এবং ইন্টারনেটে লাগাতার নজরদারি চালিয়ে মাদকচক্রীদের মাদক-সহ গ্রেফতার করে এনসিবি। ওই পাচারকারীরা কাদের সঙ্গে মিশছে, নজর থাকে সে দিকেও। এনসিবি-র অফিসাররা বলছেন, এখন তদন্তকারীদের সতর্ক নজর এড়িয়ে মাদক পাচারের কাজ চালানো জন্য ডার্ক-ওয়েবের ব্যবহার বেশি হচ্ছে। ডার্ক-ওয়েবের মাধ্যমে বিদেশ থেকে সরাসরি মাদকদ্রব্য আমদানি করছেন কলেজ পড়ুয়া তরুণ-তরুণীরা।

তদন্তকারীরা অনুমান করছেন, মাদক কেনাবেচার কোনও চক্রের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেনি আরিয়ান ও তার সঙ্গীরা। বরং ডার্ক-ওয়েবের মাধ্যমে মাদকের বরাত দিয়েছিল। শ্রেয়স নামের যে ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সেই মাদকের জোগান দিত আরিয়ানদের।

গোয়াগামী প্রোমোদতরীতে নিজের লেন্সের বক্সে মাদক লুকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন আরিয়ান। প্রায় ১৩ গ্রাম কোকেন, ২১ গ্রাম চরস, ২২টি পিল (এমডিএমএ) ও ৫ গ্রাম এমডি পাওয়া গেছে তাঁর ও তাঁর সঙ্গীদের কাছ থেকে। অফিসাররা বলছেন, মাদক লুকনোর অভিনব কায়দা আয়ত্ত করেছিলেন সকলে। মহিলাদের স্যানিটারি প্যাড, অন্তর্বাসের সেলাইয়ের মধ্যে ও ওষুধের বাক্সে মাদক লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। প্রমোদতরী থেকে আরও মাদক উদ্ধার করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। আরিয়ান ছাড়া রয়েছে মুনমুন ধামেচা, আরবাজ মার্চেন্ট, ইসমিত সিং, মোহক জয়সওয়াল, গোমিত চোপড়া, নুপূর সারিকা ও বিক্রান্ত চোকারকে গ্রেফতার করেছে এনসিবি।

ডার্ক-ওয়েবে জাল বিছিয়ে পাচারকারীদের সরাসরি নাগাল পাওয়া সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন সাইবার বিশেষজ্ঞদের অনেকে। ‘টর ব্রাউজারের’ মাধ্যমে ব্যবহার হওয়া ডার্ক ওয়েবের আসল ফান্ডাই হচ্ছে চূড়ান্ত গোপনীয়তা। যেহেতু এই ব্রাউজার ব্যবহারকারীর আইপি (ইন্টারনেট প্রোটোকল) অ্যাড্রেস সেভ করে না, ফলে এক বার লগ-ইন করে লগ-অফ করে দিলে ব্যবহারকারীর পরিচয় জানতে পারা প্রায় অসম্ভব। যেহেতু ইন্টারনেটে আইপি অ্যাড্রেস খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়, তাই কোন চক্র ওয়েবের মাধ্যমে অপরাধমূলক কাজ করছে তা জানতে পারাও একপ্রকার অসম্ভব ব্যাপার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এইভাবেই ডার্ক-ওয়েবে পরিচয় গোপন রেখে বেআইনি কাজকর্ম চলে। অবাধে আগ্নেয়াস্ত্র কেনাবেচা থেকে মাদক পাচারের কাজ চলে।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা সুখপাঠ

You might also like