Latest News

সিএএ-বিক্ষোভে পাথর, তবু নিষ্ক্রিয় কেন পুলিশ? প্রশ্ন তোলায় শিক্ষিকাকে গ্রেফতার করে বেধড়ক মার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার অভিযোগে এক প্রাক্তন শিক্ষিকা তথা সমাজকর্মীকে গ্রেফতার করে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল উত্তরপ্রদেশ পুলিশের বিরুদ্ধে। ঘটনার কথা সামনে আসতেই প্রতিবাদে ফেটে পড়ছেন নেটিজেনরা। দু’দিন আগেই কর্নাটক পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল ইতিহাসবিদ রামচন্ত্র গুহকে গ্রেফতার করে নিগ্রহ করার। এবার প্রায় একই ঘটনা ঘটল লখনউয়ে।

জানা গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের শিক্ষিকা সাফাদ জাফর এক জন কংগ্রেস কর্মীও। দিন কয়েক আগে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে অভিযোগ করেছিলেন, পরিস্থিতি যখন উত্তপ্ত হচ্ছে, তখন নিষ্ক্রিয় থাকছে পুলিশ। দিন কয়েক আগে থেকেই উত্তরপ্রদেশ জুড়ে নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যায়লয়ের প্রতিবাদী পড়ুয়ারা পুলিশি হামলার মুখে পড়লে রাজ্য জুড়ে মাত্র ছাড়ায় আন্দোলন। গত দু’দিনে নিহত হয়েছেন অন্তত ছ’জন বিক্ষোভকারী, জ্বালানো হয়েছে একাধিক যানবাহন। আটক করা হয়েছে ২০০ জন রাজ্যবাসীকে। সেই ২০০ জনের মধ্যে ছিলেন সাদাফ জাফরও।

পুলিশি হেফাজতে তাঁর উপর চরম নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ব্যাটন দিয়ে সজোরে মারা হয়েছে হাতে ও পায়ে। পেটে লাথিও মারা হয়েছে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় লখনউ জেলে। তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে সরব হয়েছে নেট-দুনিয়া।

Sadaf Jafar এতে পোস্ট করেছেন বৃহস্পতিবার, 19 ডিসেম্বর, 2019

আটক হওয়ার ঠিক আগেই প্রতিবাদ-বিক্ষোভে উত্তল ঘটনাস্থলে দু’টি ভিডিও তুলে তিনি পোস্ট করেছিলেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। একটি ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, প্রতিবাদীরা পাথর ছুড়ছে। কিন্তু পুলিশ কিছুই করছে না। ভিডিও সাদাফ জাফরের গলা শোনা গিয়েছে, “ওরা পাথর ছুড়ছে! ওদের থামাচ্ছেন না কেন? ওদের গ্রেফতার করছেন না কেন? আপনাদের মাথায় তো হেলমেট আছে, আপনারা কেন ওদের থামাচ্ছেন না?” অন্য একটি ভিডিওয় তাঁকে বলতে শোনা গেছে, “আমরা কী করেছি? আমাদের কেন গ্রেফতার করছেন? যারা অশান্তি করছে তাদের কেন ধরছেন না?” পাথর ছোড়ার ঘটনাটি সাজানো ছিল, সে জন্যই পুলিশ নিষ্ক্রিয় ছিল– এমনও অভিযোগ করেন সাদাফ।

Sadaf Jafar এতে পোস্ট করেছেন বৃহস্পতিবার, 19 ডিসেম্বর, 2019

এর পরেই গ্রেফতার হয়ে যান তিনি। সাদাফের বোন নাহিদ ভার্মার অভিযোগ, তাঁর দিদির হাতে কোনও অস্ত্র ছিল না। তাঁর দিদি কোনও স্লোগানও তোলেননি। সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক ও আইনি ভাবে বৈধ পদ্ধতিতে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সামিল হয়েছিলেন তাঁর দিদি। তার পরেও গ্রেফতার হতে হয়েছে তাঁকে! শুধু তাই নয়। নাহিদের দাবি, “আমার দিদির বিরুদ্ধে হিংসা ছড়ানোর অভিযোগ এনেছে পুলিশ। এমনকি খুনের চেষ্টার অভিযগো করা হয়েছে ওর বিরুদ্ধে। আমাদের কাউকে কথা পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে না ওর সঙ্গে। খবর পাচ্ছি, ওকে মেরেছে পুলিশ। ওকে দ্রুত ছেড়ে দেওয়া হোক।

সূত্রের খবর, জেলে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে সাদাফকে। তাঁর হাতে ও পায়ে ব্যাটনের বাড়ি মারা হয়। পেটে লাথি মারলে তাঁর রক্তপাত শুরু হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। সাদাফের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে সরব হয়েছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, উমর খলিদ প্রমুখ।

Sadaf Jafar is one of the strongest woman I have known. She is a single mother of two children, and is one of the media…

Umar Khalid এতে পোস্ট করেছেন শনিবার, 21 ডিসেম্বর, 2019

 

You might also like