Latest News

আক্রমণ ছেড়ে পিঠ চাপড়ানি মোদী-হেমন্তের, ঝাড়খণ্ড কি ঘুরপথে মহারাষ্ট্র হতে চলেছে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) কোনও অবিজেপি শাসিত রাজ্যে গিয়ে সেখানকার রাজ্য সরকারের নিন্দামন্দ করেননি এমন নজির প্রায় নেই বললেই চলে। এমনকি দলের জনসভাতেও বিরোধী দলের সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খোলেননি, স্মরণকালের মধ্যে এমনটা ঘটেনি।

যেমন বিরল হল, অবিজেপি দল শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ এড়িয়ে যাওয়া। বরং শোনা গেল সহযোগিতা নিয়ে ভূয়সী প্রশংসা।

দেশের চলতি রাজনীতিতে এমনই উলটপুরাণের সাক্ষী ঝাড়খণ্ডের (Jharkhan) মানুষ, গতকাল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সেই রাজ্য সফর ঘিরে। তারপরই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা। ফের কি বিজেপি (BJP) ও ঝাড়খণ্ড মুক্তিমোর্চা (JMM) একে অপরের হাত ধরতে চলেছে রাজ্যে? রাঁচির কুর্সিতে কি ফের বসতে চলেছে বিজেপি-জেএমএম জোট সরকার?

প্রধানমন্ত্রী গতকাল দেওঘর বিমানবন্দর উদ্বোধন করেন। এটি দেশের ১৩৮ তম বিমানবন্দর। সেই উপলক্ষ্যে দেওঘরের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পাশে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা জেএমএম এর কার্যকরী সভাপতি হেমন্ত সরেন (Hemant Soren)। প্রধানমন্ত্রী ভাষণে ঝাড়খণ্ডের উন্নয়নের বিস্তর প্রতিশ্রুতি দেন। এক দিনে ১০ হাজার কোটি টাকার পরিকাঠামো প্রকল্পের শিলান্যাস, উদ্বোধন করেন তিনি।

অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত ভাষণে প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রশংসায় ভরিয়ে দেন। বলেন, যে ভাবে মোদীজির সরকার আমাদের রাজ্যের পাশে দাঁড়িয়েছে তাতে অচিরেই ঝাড়খণ্ড দেশের অন্যতম সমৃদ্ধশালী রাজ্য হয়ে উঠবে।

ওই অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রী দলের জনসভায় ভাষণ দেন। সেখানেও কংগ্রেস-জেএমএম জোট সরকারের বিরুদ্ধে একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি।

অথচ ঝাড়খণ্ডেই সাম্প্রতিককালে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় খনি দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তে নেমেছে সিবিআই এবং ইডি। রাজ্যের খনি সচিবকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে লাভজনক পদে থাকার অভিযোগে তদন্ত চালাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধায়ক পদ খোয়াবেন হেমন্ত। তার উপর মাত্র দিন সাত আগে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্তের বিধায়ক প্রতিনিধির বাড়ি, অফিস সহ ১৭ জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে ইডি পাঁচ কোটি টাকা নগদ বাজেয়াপ্ত করেছে। যে অভিযানের সূত্র ধরে তদন্ত গড়াতে পারে মুখ্যমন্ত্রী পর্যন্ত। তাছাড়া, রাজ্যে ইডি, সিবিআইয়ের হানাদারি তো লেগেই আছে।

তারপরও প্রধানমন্ত্রীর আতিথেয়তায় কোনও কার্পণ্য করেননি হেমন্ত। সরকারি অনুষ্ঠানে একেবারে প্রধানমন্ত্রীর ছায়াসঙ্গী হয়ে ছিলেন।

তাৎপর্যপূর্ণ হল, সরকারি অনুষ্ঠানের পাশাপাশি দলীয় কর্মসূচিতেও প্রধানমন্ত্রীর পাশে ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বাবুলাল মারান্ডি। জেএমএমের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ইতিপূর্বে যিনি সরকার চালিয়েছেন। হেমন্ত সরকারের সমালোচনা করেননি তিনিও। সব মিলিয়ে গতকাল গোটা দিনটাই ঝাড়খণ্ড ছিল রাজনীতির বিবাদমুক্ত।

কিন্তু এটাকে নিছকই রাজনীতির সৌজন্য বলে মনে করছে না রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। বরং, অনেকেরই ধারণা, এই ভালমানুষি আসলে বিজেপির অপারেশন লোটাসের আর এক কৌশল, রূপ। তারা চাইছে, ঝাড়খণ্ডে জেএমএমের হাত ধরে ক্ষমতায় ফিরতে।

বর্তমানে ৮১ বিধানসভা আসন বিশিষ্ট ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় জেএমএম- এর আসন ৩১। সঙ্গে কংগ্রেসের ১৬ এবং কয়েকটি ছোট দলের সমর্থনে জোট সরকার ক্ষমতায়। ২০১৯ এর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২৫টি আসন পাওয়ায় সরকার হাতছাড়া হয়ে যায় তাদের।

রাজনৈতিক মহলের খবর, মহারাষ্ট্রের পর ঝাড়খণ্ডেও সরকারে ফিরতে চাইছে গেরুয়া শিবির। হেমন্তকে মুখ্যমন্ত্রী পদে রেখে সরকারের শরিক হওয়া লক্ষ্য তাদের। ২০২৪ এর লোকসভা ভোটের আগে হেমন্ত ও জেএমএমকে কংগ্রেসের থেকে বিজেপির দিকে টেনে আনতে দ্বিমুখী কৌশল নিয়েছে তারা। এক, রাজ্যের উন্নয়নে সহযোগিতার দৃষ্টান্ত স্থাপন। দুই, কেন্দ্রীয় এজেন্সি দিয়ে লাগাতার অভিযান চালিয়ে হেমন্তকে কাবু করে ফেলা।

রাজনৈতিক মহলের খবর, বিজেপি ইতিমধ্যে এই কাজে বেশ সফল। দ্রৌপদী মুর্মুকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সমর্থনের কথা দিয়েছেন স্বয়ং জেএমএমের প্রতিষ্ঠাতা তথা আর এক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিবু সরেন। অন্যদিকে, হেমন্ত তাঁর সহযোগীর বাড়িতে ইডি হামলা, সিবিআইয়ের অনুসন্ধান, তাঁর নিজের বিরুদ্ধে তদন্ত নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে একটি কথাও উচ্চারণ করছেন না বিগত কয়েক মাস হল। গতকাল বিমানবন্দরে হেমন্ত প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে যে রাজকীয় আয়োজন করেছিলেন তাতে এই ধারণা আরও বদ্ধমূল হয়েছে, ‘ডাল মে কুছ কালা।’ যদিও জেএমএমের সাধারণ সম্পাদক সুপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আতিথেয়তায় সঙ্গে রাজনীতি খুঁজতে যাবেন না। এটা আদিবাসী সংস্কৃতির অঙ্গ। মুখ্যমন্ত্রী সেই সংস্কৃতি মেনেই প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: জলের তোড়ে ভেসে গেল আস্ত গাড়ি! বিয়েবাড়ি ফেরত ডুবে মৃত্যু তিনজনের, নিখোঁজ আরও

You might also like