Latest News

Nagendra Tripathi: নগেন্দ্রর পয়লা এপ্রিল— একুশে মুখ্যমন্ত্রীর চোখে চোখ, বাইশে সিবিআইয়ের স্ক্যানারে

শোভন চক্রবর্তী

একটা বছরে কত জল গড়িয়ে যায়। হলদি নদীর তীর থেকে রামপুরহাটের বগটুইয়ের আয়নায় আইপিএস নগেন্দ্র ত্রিপাঠীকে (Nagendra Tripathi) দেখলেই তা ঠাওর করা যায়।

একুশের পয়লা এপ্রিল। গনগনে দুপুর। নন্দীগ্রামে ভোট চলছে। বয়াল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হুইলচেয়ারে বসে পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ পেয়েই পৌঁছেছিলেন দিদি। জানতে পেরেছিলেন ওই বুথের বাইরে লোকের ভিড়, স্লো পোলিং হচ্ছে।

মমতা যাওয়ার আগে সেখানে নিরাপত্তা আরও দুর্ভেদ্য করা হয়। অকুস্থলে হাজির হন নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত নন্দীগ্রামের জন্য বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত আইপিএস নগেন্দ্র ত্রিপাঠী (Nagendra Tripathi)।

তারপর বয়াল প্রাথমিক স্কুলের একফালি বারান্দায় হুইলচেয়ারে বসা মুখ্যমন্ত্রী আর তাঁর সামনে দাঁড়ানো নগেন্দ্রর কথোপকথন বাংলার রাজনীতিতে মাইলফলক হয়ে রয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর চোখে চোখ রেখে সেদিন নগেন্দ্রকে বলতে শোনা গিয়েছিল, খাকি পরে দাগ নেব না ম্যাডাম। মমতা পাল্টা বলেছিলেন, দাগ তো অনেকেই নেয়! থামেননি নগেন্দ্র (Nagendra Tripathi)। ফের বলেছিলেন, “আমি দাগ নেব না!”

দেখুন সেই ভিডিও (Nagendra Tripathi)

সেদিন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের অনেকের মতো বহু সাধারণ মানুষও সেই ফুটেজ দেখে বলেছিলেন, সাহস বটে অফিসারের! যখন বিভিন্ন দল শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে শাসকদল ও নেতামন্ত্রীদের সামনে পুলিশ প্রশাসনের আত্মসমর্পণের অভিযোগ উঠছে তখন নগেন্দ্রর সেই ‘মুখ্যমন্ত্রীর মুখে মুখে তর্ক’ করা সামগ্রিক ভাবে পুলিশের পিঠে শিরদাঁড়া ফিরিয়ে দিয়েছিল বলেই মত অনেকের। দিল্লির পুরস্কারও পেয়েছেন নগেন্দ্র (Nagendra Tripathi)।

এখন সেই তিনি বীরভূমের পুলিশ সুপার। সেই বীরভূমের রামপুরহাট, রামপুরহাটের বগটুই এখন রাজ্য রাজনীতির এপিসেন্টার। আদালতের নির্দেশে গণহত্যার তদন্ত করছে সিবিআই। হাইকোর্ট সিবিআইকে বলে দিয়েছে ৭ এপ্রিলের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। তাই রামপুরহাটে অস্থায়ী শিবির করে জেরা করছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।

অন্তত একডজন বিভিন্ন স্তরের পুলিশকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিবিআই। যাঁদের বিগ বস নগেন্দ্র ত্রিপাঠী (Nagendra Tripathi)। বগটুই কাণ্ডের শুরু থেকেই পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠছে। এমনকী গত ২৪ মার্চ মুখ্যমন্ত্রী যখন ওই গ্রামে গেলেন তখনও বলেছিলেন, পুলিশ যদি আগে থেকে পিকেট করত তাহলে এই ঘটনা ঘটত না।

মুখ্যমন্ত্রী নিজেই পুলিশমন্ত্রী। তিনি যদি নিজেই পুলিশের ব্যাপারে এমন বলেন তাহলে বুঝতে হয়, ফাঁক ছিল বইকি। বখরার রাজনীতির দানবীয় আস্ফালন ঠেকাতে পুলিশ যদি একটু নড়েচড়ে বসত তাহলে পিটিয়ে, কুপিয়ে, পুড়িয়ে মারা হতো না এতগুলো মানুষকে।

সিবিআই সূত্রে জানা যাচ্ছে, তাদের আতস কাচের নীচে রয়েছেন বীরভূমের পুলিশ সুপারও। তবে কবে তাঁকে ডাকা হবে বা আদৌ ডাকা হবে কি না তা স্পষ্ট নয়।

একটা বছর। একটা মানুষ। একই খাকিতে। দাগ না নেওয়ার সাহস দেখানো থেকে গণহত্যা ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার দাগ।

আরও পড়ুন: নলহাটি থেকে উদ্ধার ভাদুর খুনের আগ্নেয়াস্ত্র! জেরার মুখে গোপন তথ্য ফাঁস করল সেরা শেখ

You might also like