Latest News

নাগাল্যান্ড ভারতের অঙ্গ ছিলও না, হবেও না, বললেন নাগা নেতা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রীয় সরকার তাঁদের চুক্তির ভুল ব্যাখ্যা করেছে, নাগাল্যান্ড কোনও দিন ভারতের অঙ্গ ছিল না, কোনও দিন ভারতের সঙ্গে মিশেও যাবে না – একথা বললেন ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট কাউন্সিল অফ নাগাল্যান্ড-ইশাক-মুইভা (এনএসসিএন-আইএম) সাধারণ সম্পাদক থুইঙ্গালেন মুইভা।  একটি দৈনিক সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ইনক্লুশন’ শব্দটির ভুল ব্যাখ্যা করেছে ভারত (ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন)।

নাগাল্যান্ডের পেরেন জেলায় ৮৬ বছরের বৃদ্ধ নেতা থুইঙ্গালেন মুইভা বলেন, “আমরা কোনও দিনই ভারতের মধ্যে ছিলাম না এবং কখনও তা হবও না।  যদি অন্তিম সমাধান এটাই হয় যে নাগাদের ভারতের অন্তর্ভুক্ত হতে হবে, তা হলে আমরা তা কোনও ভাবেই মানব না, যাই ঘটুক না কেন।”

ব্যাখ্যা যাই হোক না কেন, ঘটনা হল: ১৯৯৭ সালে অস্ত্রবিরতি এবং তারপরে শান্তি আলোচনা।  তবে মুইভার কথায়, “আমরা (সমাধানের) খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিলাম, কিন্তু তখনও ওরা (ভারত সরকার) আমাদের কথা উপলব্ধি করেনি।  তারা চায় নাগারা তাদের সঙ্গে পুরোপুরি মিশে যাক… ভারতের সংবিধান পুরোপুরি গ্রহণ করুক, ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিশে যাক। এখনও আমাদের সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনা বাকি রয়েছে, তবে সমস্যাও তৈরি হয়ে আছে।  আমাদের সিদ্ধান্তে পৌঁছতে হবে।  এখন আমাদের পক্ষে ওদের (কেন্দ্রীয় সরকার) বিশ্বাস করা কঠিন। ”

পরে তিনি বলেন, “ভারতের পৃথক সংবিধান ও পতাকা রয়েছে।  এটা খুবই ভালো এবং এটা আপনি গ্রহণ করতেই পারেন।  আমাদের স্বতন্ত্র ইতিহাস ও সার্বভৌমত্ব রয়েছে।  তা হলে কেন আমাদের পৃথক সংবিধান ও পৃথক পতাকা থাকবে না? গণতন্ত্রে প্রত্যেকের সার্বভৌম অধিকার রয়েছে এবং ভারত সরকার সেকথা স্বীকারও করে।  সুতরাং, ভারতের সার্বভৌমত্ব ভারতীয়দের অধিকার এবং নাগাদেরও সেই একই অধিকার রয়েছে। ”

সমাধানের ক্ষেত্রে আর একটি বাধা হল অরুণাচলপ্রদেশ, অসম ও মণিপুরের যেসব অঞ্চল নাগাপ্রধান, সেগুলি।  কেন্দ্রীয় সরকার খুব ভালো ভাবে জানে যে এই দাবি মানতে যাওয়ার অর্থ হল উত্তর পূর্বাঞ্চলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া।

মুইভাও খুব ভালো ভাবেই জানেন যে কেন্দ্রীয় সরকারে সমস্যা কোথায়।  মুইভার কথায়, “নাগাদের দীর্ঘদিন বিভক্ত করে রাখা হয়েছে।  মণিপুরে যে নাগারা রয়েছেন তাঁদের সঙ্গে আলাদা ভাবে কথা বলে আলাদা সমাধান হতে পারে না।  অসম, অরুণাচলপ্রদেশ ও বর্মার ক্ষেত্রেও পৃথক আলোচনা ও পৃথক চুক্তি হতে পারে না।  চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সব নাগাদেরই এর অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, এ কথা আমরা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছি। ”

ক্যাম্প হেব্রনে এনএসসিএন-আইএমের প্রধান কার্যালয়।  সেখানে এখন একটা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, শান্তি বজায় থাকবে নাকি আবার অশান্তি শুরু হবে।  এখন সেখানে আশার আলো একটাই, রাজ্যপাল আরএন রবির পাশাপাশি এখন এই আলোচনায় থাকবেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালও।

অক্টোবরের মধ্যেই শান্তিপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে চান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।  তবে এই ভাবে সময় বেঁধে দেওয়াকে মোটেই ভালো চোখে দেখছেন না মুইভা। তিনি বলেন, “ওঁরা বলেছেন তিন মাস সময় দেওয়া হচ্ছে, তার মধ্যেই নাগাদের যুক্তরাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়া হবে।  এটা চরমসীমা, আমরা তা মানছি না।  আজই হোক আর কালই হোক, এটা আমরা মানছি না। ”

তবে এখনও তিনি ‘ভারতীয় ও নাগাদের’ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পক্ষেই, এ কথা জানিয়েছেন মুইভা।  এজন্য উপযুক্ত চুক্তি দরকার বলে তিনি মনে করেন।

আরও পড়ুন : প্রাচীন সচিত্রে পোস্টকার্ডে সিপাহি বিদ্রোহ 

https://www.four.suk.1wp.in/pujomagazine2019/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a7%80%e0%a6%a8-%e0%a6%b8%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8b%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d/

You might also like