Latest News

কারও খারাপ লাগলে দুঃখিত, কিন্তু ‘কাশ্মীর ফাইলস’… ফের কী বললেন ইজরায়েলি পরিচালক

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ যেন জুতো মেরে গরু দান, তার পরে ফের জুতো মারা। ‘কাশ্মীর ফাইলস’ (The Kashmir Files) সিনেমা নিয়ে যেন এমনটাই করছেন ইজরায়েলি পরিচালক নাদাভ লাপিড (Nadav Lapid)। গোয়ার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে (IFFI) এসে এই সিনেমাটি নিয়ে ‘মোটা দাগের প্রোপাগান্ডা’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার পরে বিতর্কের মুখে পড়ে ক্ষমা চাইলেও, ফের দাবি করলেন, ছবিটি যে ‘অশ্লীল’, ‘হিংসাত্মক’ এবং ‘প্রচারমূলক’, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। নিজের অবস্থান থেকে তিনি সরছেন না।

বিবেক অগ্নিহোত্রী পরিচালিত ‘দ্য কাশ্মীর ফাইল‌স্’ ছবিটি নিয়ে গোড়া থেকেই বিতর্ক রয়েছে। একাংশের মানুষের দাবি, এই সিনেমায় নয়ের দশকে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উপর যে অত্যাচার হয়েছিল, তার বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এর পাল্টা মত হিসেবে উঠে এসেছে, ছবিটিতে একপেশে ভাবে পণ্ডিতদের দিকটি এমনভাবেই দেখানো হয়েছে, যাতে সত্যগোপন করা হয় এবং কাশ্মীরের মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষ চাগিয়ে তোলা হয়। তবে এই বিতর্কের মাঝেই বিপুল ব্যবসা করে নিয়েছে ছবিটি।

এবার গোয়ার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে (IFFI) মোট ১৫টি ছবি নিয়ে একটি প্রতিযোগিতা হয়, যাতে দেখানো হয়েছে এই কাশ্মীর ফাইলসও। জুরি বোর্ডের সদস্য নাদাভ লাপিড এই ছবি দেখেই বিতর্ক উস্কে দেন। এই ধরনের ‘প্রোপাগান্ডা’ ছবি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মঞ্চে স্থান পাওয়ার যোগ্য নয় বলেও জানান লাপিড। নাদাভের মন্তব্যে পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রী, সিনেমার অভিনেতা অনুপম খের– সকলেই ক্ষোভ উগরে দেন।

এমনকি ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূতও তীব্র নিন্দা করেন লাপিডের। তাঁর হয়ে ক্ষমাও চেয়ে নেন নায়োর গিলন। একের পর এক টুইট করেন তিনি। নাদাভ লাপিডের উপর তাঁর বিরক্তি উপচে পড়ে তাতে। তিনি লেখেন, ‘নাদাভ লাপিডের সমালোচনা করে, বোধগম্য ভাষায় এই কথা লিখছি। গোয়া আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অতিথি হিসেবেই নিয়ে যাওয়া হয়েছিল আপনাকে (নাভাদ লাপিডকে) আরও দুই ইজরায়েলি শিল্পীও আমন্ত্রিত ছিলেন। ভারতের সহজাত সংস্কৃতি এটাই।’

এখানেই থামেননি তিনি। একের পর এক টুইট করে লিখতে থাকেন, ‘কিন্তু তাই বলে কোনও ঐতিহাসিক ঘটনা নিয়ে আলটপকা মন্তব্য করা যায় না। আমি নিজে হলোকাস্টের শিকার। …কাশ্মীর এবং ইজরায়েলে যা ঘটেছে, তার মধ্যে মিল আছে। আপনাকে আমার পরামর্শ, স্বাধীনভাবে ইজরায়েলের সমালোচনা করুন। কিন্তু নিজের হতাশা অন্য দেশে প্রকাশ করবেন না। আপনি হয়তো ভাববেন, দারুণ সাহসী মন্তব্য করেছেন। কিন্তু ভারত-ইজরায়েলের যা সুসম্পর্ক, তাতে এমনটা মানায় না। আমি আপনার আচরণের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।’

এর পরে অবশ্য সামাল দিতে মাঠে নামে ইফি-র জুরি বোর্ড। তারা সাফ জানায়, ‘এটা পরিচালকের ব্যক্তিগত মতামত।’ তবে এই কথায় বিতর্কের ঝড় থামেনি।

এবার ‘দ্য কাশ্মীর ফাইল‌স্’ নিয়ে তাঁর মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়ে নিলেন নাদাভ লাপিড নিজেও। জানালেন, কাশ্মীরি পণ্ডিতদের ভাবাবেগে আঘাত করার কোনও উদ্দেশ্য তাঁর নেই, যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত তাঁদের অপমানও করতে চাননি তিনি। তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। যাঁদের খারাপ লেগেছে, তাঁদের কাছে পরিচালক ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন।

তবে ক্ষমা চাইলেও নিজের বক্তব্যে অনড় লাপিড। তিনি ফের দাবি করেছেন, বিবেক অগ্নিহোত্রী পরিচালিত ‘দ্য কাশ্মীর ফাইল‌স্’ ছবিটি ‘হিংসাত্মক’ এবং ‘প্রচারমূলক’। সবকিছুর পরেও এই কথা তিনি জোর গলায় বারবার বলতে পারেন বলেই জানান লাপিড। একইসঙ্গে এ-ও বলেন, এটা মোটেই তাঁর একার মত নয়, জুরি বোর্ডের অন্যান্য সদস্যেরও ‘দ্য কাশ্মীর ফাইল‌স্’ ছবিটি নিয়ে একই কথা মনে হয়েছিল।

নাদাভ লাপিডের কথায়, ‘কাশ্মীরে যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন, তাঁদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা রয়েছে। ছবি নিয়ে আমি কোনও রাজনৈতিক বা ঐতিহাসিক বিষয়ে মন্তব্য করিনি। আমি কেবল ছবিটি নিয়ে মন্তব্য করেছিলাম। এতে ধারাবাহিক ভাবে ঘটনা অতিরঞ্জিত করা হয়েছে, অশ্লীল এবং হিংসাত্মক বিষয় টেনে আনা হয়েছে। হিংসা ছড়ানোর জন্যই এমনটা করা হয়েছে বলে আমার মনে হয়। আমার মতে, এমন জরুরি একটি বিষয় নিয়ে ছবি করলে তা আরও সিরিয়াস হওয়া উচিত। এমন মোটা দাগের প্রোপাগান্ডা নয়।’

গাড়ি সারাচ্ছেন বাবা, পাশেই খেলছে দেড় বছরের ছেলে, খোলা পড়ে ডিজেলের বোতল! তারপর…

You might also like