Latest News

হু হু করে বেরোচ্ছে মিথেন গ্যাস, ছেয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের বাতাস! উদ্বেগে বিজ্ঞানীরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: উষ্ণতা বাড়ছে পৃথিবীর। এতদিন খলনায়ক হিসেবে কার্বন-ডাইঅক্সাইডকে টেনে আনা হলেও এবার সেই জায়গা করে নিয়েছে মিথেন। ক্ষতিকারক গ্রিনহাউস গ্যাসের তালিকায় উপরের দিকেই রয়েছে এই গ্যাসটি। পরিবেশবিজ্ঞানীদের অভিমত, দূষণবৃদ্ধিতে প্রায় সবার নজর এড়িয়ে নিজের কাজ করে চলেছে মিথেন। আর এর উৎপাদন সবচেয়ে বেশি হয় যেখানে, তার নাম বাংলাদেশ।

কাইরোস সাস। প্যারিসের এই সংস্থাটি ডেটা অ্যানালিসিসের কাজ করে। মূলত উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে জলবায়ুর পরিবর্তন সংক্রান্ত কাটাছেঁড়াতে কাইরোসের সুনাম রয়েছে। সম্প্রতি এই সংস্থা পৃথিবীজুড়ে মিথেন নির্গমন নিয়ে কাজ চালায়। তাতেই মিথেন তৈরিতে বাংলাদেশের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভূমিকার বিষয়টি তাদের নজরে আসে।

সংস্থার তরফে বলা হয়েছে, ‘বিগত কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশে মিথেনের নিঃসরণ বেড়েই চলেছে। আমাদের হাতে আসা ছবি সেকথাই বলছে। কিন্তু এর যথাযথ উৎস কী — তা এখনও খোঁজা বাকি।’

গত মে মাসে ব্লুফিন্ড টেকনোলজিস নামে আরেকটি সংস্থা ফ্লোরিডায় বাড়তে থাকা মিথেনের কারণ অনুসন্ধান করে। তাদের হাতে আসা তালিকাতেও কিন্তু বাংলাদেশের নাম সবার উপরে রয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে পরিবেশবিদরা মিথেনের উৎস খুঁজতে কাজ চালাচ্ছেন। কিন্তু মেঘের স্তর, গ্যাসের ঘনত্বের কারণে সেই কাজ ব্যহত হয়।

তবুও বাংলাদেশে এই গ্যাসের লাগামছাড়া নিঃসরণ বিজ্ঞানীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। দেশের পরিবেশ বিজ্ঞানী শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘এই সমস্যা নিয়ে অবশ্যই আমাদের মাথাব্যথা আছে। আমাদের এখানে সিংহভাগ মিথেনই কিন্তু ধানখেত থেকে জন্মায়৷ যখন চাষীরা জমিতে জল দেয়৷ তখন মাটিতে থাকা ব্যাকটেরিয়া বিপুল পরিমাণ গ্যাস সৃষ্টি করে। এ ছাড়া জীবাশ্ম জ্বালানি এর অন্য একটা উৎস।’

বিজ্ঞানীদের দাবি, প্রাকৃতিক গ্যাস লাইনে ফাটল, কলকারখানার বর্জ্য, নির্গত দূষিত ধোঁয়া, খনিজ দ্রব্যের জ্বালানিজাত মিশ্রিত গ্যাস বাংলাদেশে মিথেনের স্তর বাড়িয়েই চলেছে৷ এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ তো রয়েছেই। যেমন, প্রবল ঝোড়ো বাতাস মিথেনকে তার উৎস থেকে বসতি অঞ্চলের দিকে ছড়িয়ে দেয়৷ এমনিতেই বাংলাদেশের আয়তনের তুলনায় জনঘনত্ব অনেকটা বেশি। তাই ছড়িয়ে পড়া মিথেন বাড়াতে থাকে উষ্ণায়ন।

এতেই সিঁদুরে মেঘ দেখেছেন এনভায়রনমেন্টাল ডিফেন্স ফান্ডের চেয়ারম্যান স্টিভেন হামবুর্গ। বাংলাদেশের পরিস্থিতি আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রাকৃতিক ও মানুষের তৈরি উৎসগুলোও চিহ্নিত করতে হবে। তবেই এই আশঙ্কার মেঘ দূর হবে৷ জানিয়েছেন তিনি।

You might also like