Latest News

মেয়ে হয়েছে কেন! হরিহরপাড়ায় স্ত্রীর মাথা ন্যাড়া করে ‘শাস্তি’ দিল স্বামী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এখনও কি মধ্যযুগে পড়ে রয়েছে সমাজ? কয়েকটি ঘটনা বারে বারে একই প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায়। এবার কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ার ‘অপরাধে’ স্ত্রীর মাথা ন্যাড়া করে ‘শাস্তি’ দেওয়ার অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। মুর্শিদাবাদের (Mursidabad) হরিহরপাড়া থানার সলুয়া বিলধারি পাড়া এলাকা এমনই বর্বর অত্যাচারের সাক্ষী থাকল।

নির্যাতিতার অভিযোগ, দেড় বছর আগে হরিহরপাড়ার সলুয়া বিলধারী পাড়া এলাকার আবদুল্লাহ শেখের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। সেই সময় পাত্রপক্ষ পণের দাবি করেনি। তবু সাধ্যমতোই তাঁর বাবা সোনার গয়না, আসবাবপত্র দিয়েছিলেন। বিয়ের পরেও সবকিছু ঠিকই ছিল। একবছর পর কন্যা সন্তানের জন্ম হলে তাঁর উপর অত্যাচার শুরু করে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। পণের জন্য চাপ দিতে থাকে তারা। অভিযোগ, দাবি মতো টাকা আনতে না পারায় প্রতিদিনই চলত অকথ্য মারধর। এমনকি অন্য এক মহিলার সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে তাঁর স্বামী। তাতে তাঁর উপর অত্যাচারের মাত্রা বাড়তেই থাকে। তারপর আচমকাই তাঁর হাত-পা বেঁধে মাথা ন্যাড়া করে দেয় স্বামী আবদুল্লাহ শেখ।

লজ্জায় বাড়ি থেকে বেরোতে না পেরে ফোনেই স্বামীর কুকীর্তির কথা নির্যাতিতা তাঁর বাবা-মাকে জানান। মেয়ের খবর শুনে বুধবার হরিহরপাড়ায় ছুটে এসেছিলেন নির্যাতিতার বাবা-মা। এরপর বৃহস্পতিবার হরিহরপাড়া থানায় জামাইসহ মেয়ের শ্বশুর, শাশুড়ির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

নির্যাতিতার বাবা-মায়ের দাবি, তাঁরা মুম্বাইয়ে ভিক্ষা করেন। বিনা দাবি-দাওয়ায় মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু নাতনি হওয়ার পর থেকে মেয়ের উপর অত্যাচার শুরু করে জামাই ও তার পরিবার। মেয়ের চুল কেটে নেয়। তাই জামাইয়ের কঠিন শাস্তি দাবি করেছেন তাঁরা।

যদিও ঘটনার কথা ভিত্তিহীন বলে অস্বীকার করে অভিযুক্ত আবদুল্লাহ শেখ। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে হরিহরপাড়া থানার পুলিশ।

আরও পড়ুন: একাধিক পিস্তল, গুচ্ছ গুচ্ছ কার্তুজ নিয়ে কোথায় যাচ্ছিলেন ৫৫-র মার্জিনা? গ্রেফতার করল পুলিশ

You might also like