Latest News

বিধবা পুত্রবধূর সঙ্গে বিয়ে বিপত্নীক জামাইয়ের! অনন্য দৃষ্টান্ত দু’জোড়া শ্বশুর-শাশুড়ির

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বছর পাঁচেক আগে আচমকা হৃদরোগে মারা গেছিলেন তরতাজা যুবক অভিষেক রাঠোর। সাত বছরের মেয়েকে নিয়ে অথৈ জলে পড়েছিলেন স্ত্রী মণিকা। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ তাঁর বাবা-মা, রামচন্দ্র রাঠোর এবং গায়ত্রী রাঠোর। শোকের ছায়া যেন ঘিরে রেখেছিল গোটা বাড়িকে। কিন্তু এভাবে কি জীবন চলে? অল্পবয়সি বৌমা কি গোটা জীবন এমন একাই কেঁদে কাটাবেন? এ কথা ভেবেই তাঁর বিয়ে দিলেন (Widow got hitched) রাঠোর দম্পতি। তাঁরা যেন শ্বশুর-শাশুড়ি নন, বাবা-মা হয়ে উঠলেন মণিকার।

মধ্যপ্রদেশের খান্ডোয়া জেলায় এই বিধবা-বিবাহের ঘটনা সমাজে একটি দারুণ বার্তা পৌঁছে দিল। বিধবা পুত্রবধূর জন্য অনেক খুঁজে পাত্র ঠিক করেন শ্বশুর-শাশুড়ি। তার পরে শনিবার রাতে কন্যাসম যত্নে মণিকার বিয়ে দেন তাঁরাই।

অন্যদিকে, মণিকার সঙ্গে যাঁর বিয়ে ঠিক করেন রাঠোর দম্পতি, সেই দীনেশের জীবনেও রয়েছে অন্ধকার। গত বছর কোভিডে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তাঁর স্ত্রী সমিতা। ছোট দুই মেয়েকে নিয়ে একলা হয়ে পড়েন দীনেশ। দীনেশের শ্বশুর শাশুড়ি মোহনলাল রাঠোর এবং শকুন্তলা রাঠোর, তাঁরাও একই ভাবে জামাইয়ের বিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন।

শেষমেশ যোগাযোগ হয় দুই রাঠোর দম্পতির। এক পক্ষ বিধবা পুত্রবধূর জন্য জীবনসঙ্গী খুঁজছেন, অন্যপক্ষ বিপত্নীক জামাইয়ের বিয়ে দিতে চাইছেন। দু’জোড়া উদারমনস্ক দম্পতির উদ্যোগে অবশেষে এক হল মণিকা-দীনেশের চার হাত। আবার মা-বাবা পেল দীনেশ-মণিকার তিন মেয়ে। শনিবার খান্ডোয়ার গায়ত্রী মন্দিরে, গায়ত্রী পদ্ধতিতে বিয়ে হয় তাঁদের।

বিয়ের পরে দীনেশ জানান, গত বছর করোনায় তার স্ত্রীর মৃত্যুর পর তিনি ভেঙে পড়েছিলেন। ছোট দুটি মেয়েও মাকে হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়ে। তখন থেকেই তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁর বিয়ে নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। প্রথমে এই প্রস্তাব খারিজ করে দিলেও, পরে ছোট দুই মেয়ের দেখভালের কথা ভেবে রাজি হন দীনেশ। শেষমেশ শ্বশুর-শাশুড়িকে পাত্রী খোঁজার জন্য সম্মতি দেন তিনি। মণিকার খোঁজ মেলে তার পরেই।

মণিকার শ্বশুরমশাই রামচন্দ্র রাঠোর বলেন, ‘যখন ছেলের বিয়ে দিয়েছিলাম, মণিকাকে সম্প্রদান করার পরে বেয়াইমশাই আমায় বলেছিলেন, আমার মেয়ের দায়িত্ব এখন আপনার। বিয়ের কয়েক বছর পরেই যখন আমার ছেলে অভিষেক মারা গেল, আমি বৌমার মুখের দিকে তাকাতে পারতাম না। ওর কষ্ট দেখে আমার মনে পড়ে বিয়ের সময়ে শোনা সেই কথাগুলো। আমি তখনই ঠিক করি, আমার পুত্রবধূর জীবন এভাবে শেষ হতে দেব না। ওর আবার বিয়ে দেব। পাঁচ বছর ধরে খোঁজার পরে মনের মতো ছেলে খুঁজে পাই। আশা করি ওরা ভাল থাকবে। এবার থেকে আমার বাড়িতে মেয়ের মতো আসবে মণিকা, বৌমার মতো নয়!’

সারি দিয়ে চলছে গাড়ি, না আছে ওভারটেক, না বাজছে হর্ন! এই দেশেরই ভিডিও ভাইরাল, কোন সে শহর

You might also like