Latest News

মোগলি এবার চলল স্কুলে! বহু বছর জঙ্গলে থাকার পরে, ইউনিফর্ম আর ব্যাগ নিয়ে এক্কেবারে জেন্টলম্যান সে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রুডইয়ার্ড কিপলিংয়ের কালজয়ী চরিত্র মোগলিকে মনে আছে? খালি গায়ে জঙ্গলে জঙ্গলে ঘুরে বেড়াত। গাছের ডালে বসে থাকত। ডাল ধরেই কখনও হেঁটে, কখনও দৌড়ে অন্য গাছের ডালে চলে যেত। মানুষের সঙ্গে মিশত না। তার বন্ধু ছিল বনের পশু, পাখি। এরা কেউ-ই কিন্তু মোগলিকে আঘাত করত না।

বাস্তবেও রয়েছেন এমনই এক মোগলি। চেহারা ও স্বভাবে তিনি ঠিক এমনটাই। ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার বাসিন্দা, ২২ বছরের যুবকের নাম এলি।সম্প্রতি সেই এলিকেই বেশ শান্তশিষ্ট অবস্থায় স্কুলের ইউনিফর্ম পরে স্কুলে যেতে দেখা গেছে। ছেলেকে এভাবে স্কুলে যেতে দেখে এলির বাবা-মাও খুব খুশি। তাঁরা তো এইভাবেই তাঁদের ছেলেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিলেন। এলির স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা, তাঁর চিকিৎসা ও উন্নত জীবনের জন্য অনুদানও সংগ্রহ করা হয়েছিল। এর পরেই এলিকে স্কুলে ভর্তি করা হয়েছে।

বস্তুত, বিরল অসুখে আক্রান্ত এলি। মাইক্রোসেফালি। এর ফলে দেহ মানুষের মতো হয়। কিন্তু মাথা দেহের থেকে খানিকটা ছোট হয়। এলি ছোট থেকেই কথা বলতে পারত না। তাই কোনওদিন স্কুলে যেতে পারেনি। জঙ্গলে ঘুরে কাঁচা ফল, শাক, সবজি, ঘাস, পাতা এগুলোই খেত। তার চেহারা, স্বভাব অন্য রকম। সেই কারণেই তাকে মোগলি বলে ডাকত সেখানকার মানুষ। অতিষ্ঠ করে তুলত এলির জীবন।আসলে কারও দুর্বলতাকে নিয়ে মজা করা, খেপানো, টোন টিটকিরি করার চল তো নতুন নয়। ‘সভ্য’ সমাজের মানুষেরাই এমন অসভ্যতা করার আগে দুবার ভাবেন না। যেমন বিশেষ করে কেউ যদি কালো, বেঁটে, মোটা, কিংবা প্রতিবন্ধী হন, তাঁদের নিয়ে একটু বেশি মজা করার প্রবৃত্তি অনেকের মধ্যে কাজ করে এখনও।

তেমনটাই হয়েছিল এলির সঙ্গে। তাই দিনের পর দিন আঘাত সহ্য করতে না পেরে ও সরে এসেছিল মানুষের থেকে। সারাদিন জঙ্গলেই কাটাত।

বছরখানেক আগে অ্যাফ্রিম্যাক্স টিভি চ্যানেলের এক সাংবাদিক এলির খবর সর্বসমক্ষে নিয়ে আসেন। সারা বিশ্বের মানুষ চমকে ওঠেন এলিকে দেখে। জানা যায় পাঁচ সন্তান মারা যাওয়ার পরে এলি এসেছিলেন তাঁর মায়ের কোলে। এলিকে ঘিরেই মায়ের জীবন। তিনি কোনও চাকরিও করেন না।‌ তিনিও ছেলের সঙ্গে জঙ্গলের খাবার খেয়েই কাটান।এলি আর তাঁর মায়ের দুর্দশার কথা জানার পর চ্যানেল কর্তৃপক্ষ তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘গো ফান্ড মি’ নামের এক পেজ খোলা হয়। সেখানেই তাঁদের কথা বর্ণনা করে লেখা হয়, “আপানারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে, ওরা দুবেলা দুমুঠো খেয়ে বেঁচে থাকতে পারবে। আসুন আমরা প্রত্যেকে হাতে হাত মেলাই। ওদের সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে দিই।”

আবেদনের পর সারা পৃথিবীর বেশ কিছু মানুষ এলি আর তাঁর মায়ের পাশের দাঁড়ানোর জন্য এগিয়ে আসেন। জমা পড়ে টাকা। সকলেই এলির জন্য প্রার্থনা করেন। এই পুরো টাকাটাই তুলে দেওয়া হয় এলির মায়ের হাতে, যাতে ভবিষ্যতে তাঁদের থাকা, খাওয়ার আর কোনও সমস্যা না থাকে।Real life mowgli now goes to school well dressed photos are going viral sankri - अब सूट-बूट पहनकर स्कूल जाता है 'मोगली', कभी जंगली जानवरों को मानता था मां-बाप – News18 हिंदीএবার শার্ট-প্যান্ট পরে, পিঠে স্কুলের ব্যাগ নিয়ে অন্যান্য বাচ্চাদের সঙ্গে স্কুলে যেতে দেখা গেল এলিকে। স্যোশাল মিডিয়ায় এই দৃশ্য ভাইরালও হয়েছে।

You might also like