Latest News

জলপাইগুড়িতে গলায় দড়ি দিলেন মা, পাশের ঘরে বসে টেরই পেল না মোবাইলে ডুবে থাকা মেয়ে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভরদুপুরে মোবাইল (Mobile) ফোনে মগ্ন হয়ে ঘরে বসেছিল কিশোরী মেয়ে (Daughter)। ঠিক পাশের ঘরেই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা (Suicide) করলেন তার মা! কিছু টের পেল না মেয়ে। আজ, রবিবার দুপুরে জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) আশ্রম পাড়া এলাকার এই ঘটনায় মেয়ের কথা শুনে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন। এমনটাও সম্ভব! খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে নিয়ে গেছে, আগামীকাল ময়নাতদন্ত হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, খবর পেয়ে তারা গিয়ে দেখে, মাঝবয়সি মহিলা রত্না ভৌমিক সরকার সিলিং ফ্যান থেকে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলছেন। খাটের উপরে চেয়ার রাখা ছিল। মৃতার দেহটি ছিল, বিছানায় হাঁটু গেড়ে, চেয়ারে হেলান দেওয়া অবস্থায়। ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে সুইসাইড নোট। তাতে লেখা রয়েছে, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।’ এই একই কথা তিনবার লেখা রয়েছে সাদা কাগজে, নীচে রত্না সরকার নামও লেখা রয়েছে।

Image - জলপাইগুড়িতে গলায় দড়ি দিলেন মা, পাশের ঘরে বসে টেরই পেল না মোবাইলে ডুবে থাকা মেয়ে

জানা গেছে, পাশের ঘরেই মৃতার মেয়ে অন্বেষা ভৌমিক ছিল। তার দাবি, সে মোবাইল ফোনে মগ্ন ছিল বলে আত্মহত্যা সংক্রান্ত কিছুই টের পায়নি। তবে মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।

মৃতা রত্না ভৌমিক সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মী, পোস্ট মাস্টার পদে কর্মরত ছিলেন। গত বেশ কয়েকবছর আগে তাঁর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ ওঠায় বর্তমানে তিনি সাসপেন্ড অবস্থায় ছিলেন। তাঁর ডিভোর্স হয়ে গিয়েছিল আগেই। কয়েকমাস আগে তিনি মেয়েকে নিয়ে আশ্রম পাড়ায় একটি বাড়িতে দুটি ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন। মা-মেয়া বেশিরভাগ সময় বাড়িতেই থাকতেন বলে জানা গেছে। মাঝেমধ্যে ওই বাড়িতে একজন লোককে দেখা যেত বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা। তবে তিনি কে, তা কেউ বলতে পারেননি। প্রতিবেশীদের সঙ্গে তেমন কথা বলতেন না রত্না বা অন্বেষা কেউই।

অন্বেষা ভৌমিক বলে, ‘মায়ের খুব মানসিক যন্ত্রণা ছিল। আবার বাবার সঙ্গে অনেক আগেই ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। মা পোস্ট মাস্টার ছিল, পরে অফিসে একটা কেস হয় বলে সাসপেন্ড হয়েছিল। এখন আমাদের খুব আর্থিক অনটন চলছিল। আজ দুপুরে আমি আমার ঘরে মোবাইল দেখছিলাম। পাশের ঘরে মা ছিল। মা আমাকে ভাত খাওয়ার কথা বলেছিল। আমি বলেছিলাম পরে খাব। এরপর মা চলে যায়। কিছু পরে আমি ভাত খাওয়ার জন্য মাকে ডাকতে গিয়ে দেখি এই ঘটনা। দরজা ভেজানো ছিল, আমি কিছুই বুঝতে পারিনি।’

Image - জলপাইগুড়িতে গলায় দড়ি দিলেন মা, পাশের ঘরে বসে টেরই পেল না মোবাইলে ডুবে থাকা মেয়ে

অন্বেষার মামা, অর্থাৎ মৃতা রত্নার ভাই আশিস সরকার বলেন, ‘আমি বাড়িতেই ছিলাম। ভাগ্নী আমাকে ফোন করে। আমি এসে দেখি এই অবস্থা। ভাগ্নীকে জিজ্ঞেস করলে ও বলে ফোনে ব্যস্ত ছিল।’

এই অস্বাভাবিক মৃত্যু প্রসঙ্গে স্থানীয় কাউন্সিলর দীনেশ রাউত বলেন, ‘তিন মাস আগেই এখানে এসেছিলেন উনি। আজকে শুনলাম অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে ওই মহিলার। পুলিশ এসেছে। শুনেছি পারিবারিক কোনও সমস্যা ছিল।’

ঘটনায় ডিএসপি হেডকোয়ার্টার সমীর পাল জানিয়েছেন, মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অস্বাভাবিক মৃত্যুর তদন্তও শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরে যদি মৃত্যুর কোনও অস্বাভাবিক কারণ পাওয়া যায়, তবে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হবে।

‘বউ’ নিয়ে পালাতে গিয়ে সবাই ভাবল ‘ছাগল চোর’! তাড়া করে গণধোলাই জলঙ্গিতে

You might also like