Latest News

অভাবে-অশান্তিতে ৩ দিনের সন্তানকে খুন করল মা! খোদ কলকাতার বুকে এমন ঘটনা, স্তম্ভিত পুলিশও

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফেব্রুয়ারি মাসে রহস্যজনক ভাবে মারা গিয়েছিল ৩ দিনের শিশুকন্যা। তদন্তে নেমে পুলিশ জানিয়েছিল, আনন্দপুরের নোনাডাঙা এলাকারওই ঘটনায় শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে শিশুকে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ অনুমান করেছিল, বাচ্চাটির দাদা, দেড় বছর বয়সি, সেই হয়তো খেলতে গিয়ে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। কিন্তু আজ, সোমবার যে তথ্য পুলিশের হাতে এল, তাতে শিউরে উঠেছেন সকলে। জানা গেছে, শিশুটির মা নিজেই খুন করেছে সন্তানকে!

জানা গেছে, জেরার মুখে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে ওই মা। জানিয়েছে, অভাবের তাড়নায়, সাংসারিক অশান্তিতে দিশাহারা হয়ে সে খুন করে বসেছে সন্তানকে। মাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

আনন্দপুরের ওই ঘটনায় অভিযুক্ত মা-ই প্রাথমিক ভাবে বাচ্চাটিকে হাসপাতালে নিয়ে গেছিল। দাবি করেছিল, বাচ্চাকে দুঘ খাওয়াতেই সে নিস্তেজ হয়ে গেছে। কিন্তু চিকিৎসকদের সন্দেহ হওয়ায় ঘটনাটি পুলিশ পর্যন্ত পৌঁছয়। জানা যায়,  দিনে তিন দিনের ওই সন্তানের সঙ্গে ছিল তার মা ও দেড় বছরের দাদা। ময়নাতদন্তের পাঠানো হয় দেহ। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে পুলিশ।

প্রাথমিক রিপোর্টে জানা যায়, বাচ্চাটির গলায় ও শরীরে ছোট ছোট নখের আঁচড় রয়েছে। তাতেই অনুমান করা হয়েছিল, তার দেড় বছরের দাদাই রয়েছে এই ঘটনার পেছনে। জানা যায়, সেদিন তার বাবা বাড়িতে ছিলেন না। দেড় বছরের দাদা তার বোন জন্মানোর পরে কোনও অস্বাভাবিক আচরণ করেছিল কিনা, তাও জানার চেষ্টা করে পুলিশ

কিন্তু তদন্ত যত এগোয়, পুলিশের সন্দেহ হয়, মাত্র দেড় বছরের বাচ্চার পক্ষে এত জোরে গলা টিপে খুন করা মুশকিল। নখের আঁচড় যতটা গভীর, তার জন্য যত জোরে চাপ দেওয়া দরকার, সে শক্তি পূর্ণবয়স্ক মানুষের পক্ষেণ প্রয়োগ করা সম্ভব। এর পরেই রবিবার মা সনিয়া বারুইকে থানায় এনে লাগাতার জেরা চালায় পুলিশ।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, একটানা ১২ ঘণ্টা জেরার পরে শেষমেশ ভেঙে পড়ে মা। পুলিশের দাবি, খুনের কথা স্বীকার করে নিয়েছে তরুণী। সে জানিয়েছে, সংসারে চরম অভাব। স্বামী টাকা দেয় না, উল্টে অন্য সম্পর্কে জড়িত। কোনও রকমে পরিচারিকার কাজ করে দিন কাটাত সে। তার উপর সদ্য সন্তান প্রসব করেছে সে, কাজ নেই। কিন্তু সন্তান জন্মের তিন দিন হয়ে গেলেও বাবা এসে কোনও খোঁজ করেনি। সেই কারণেই বাচ্চাকে শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সে।

You might also like