Latest News

দেশের দুই তৃতীয়াংশ অঞ্চলে নির্ধারিত সময়ের ১৫ দিন আগেই ঢুকেছে বর্ষা

দ্য ওয়াল ব্যুরো : চাষিদের জন্য সুখবর। উত্তর ও মধ্যভারতের বিস্তীর্ণ অংশে নির্ধারিত সময়ের ১৫ দিন আগেই ঢুকেছে বর্ষা। সোমবার আবহাওয়া অফিসের এক কর্তা জানিয়েছেন, আগামী দিনে দেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলেও দ্রুত বর্ষার বৃষ্টি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বহু জায়গায় এগিয়ে এসেছে চাষের সময়। কৃষকরা গ্রীষ্মকালীন ফসলের বীজ রোপণ করা শুরু করেছেন। ওই আবহাওয়াবিদ জানিয়েছেন, এবার আগেভাগে বর্ষা আসার ফলে ধান, তুলো, সয়াবিন ও নানারকম ডালের ফলন ভাল হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

প্রতিবছর ১ জুন কেরলে বর্ষা ঢোকে। এবার কিন্তু সেখানে বর্ষা ঢুকেছে ৩ জুন। তারপর অত্যন্ত দ্রুত বর্ষা দেশের অন্যান্য প্রান্তে বিস্তৃত হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের হিসাব অনুযায়ী, বর্ষার মরসুম শুরু হওয়ার পরে এখনও পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে স্বাভাবিকের চেয়ে ২৫ শতাংশ বেশি। দেশের অর্থনীতির স্বার্থে ভাল বর্ষা হওয়া জরুরি। কারণ কৃষিকার্যে প্রয়োজনীয় জলের ৭০ শতাংশ আসে বৃষ্টি থেকে। বর্ষায় জলাধারগুলিও পূর্ণ হয়ে যায়। তাতে অন্যান্য মরসুমেও চাষের সুবিধা হয়।

একটি গ্লোবাল ট্রেডিং ফার্মের মুম্বইয়ের ডিলার জানিয়েছেন, দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতে ইতিমধ্যে ধান, তুলো, সয়াবিন ও ডালের চাষ শুরু হয়ে গিয়েছে। মধ্য ও উত্তর ভারতে চলতি সপ্তাহেই চাষ শুরু হয়ে যাবে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার সম্ভবত বেশি জায়গা জুড়ে ধান আর সয়াবিনের চাষ হবে। তাছাড়া চাষিরা এখন তৈলবীজ চাষেও বিশেষ উৎসাহ দেখাচ্ছেন।

ভারত বিশ্বে সর্ববৃহৎ ধান উৎপাদনকারী। বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে ভোজ্য তেল আমদানি করে এই দেশ। দেশের অর্ধেক কৃষিজমিতে সেচের ব্যবস্থা নেই। জুন থেকে সেপ্টেম্বরে বৃষ্টির ওপরেই সেখানকার চাষ নির্ভরশীল। দেশের অর্থনীতির ১৫ শতাংশ আসে কৃষি থেকে। কিন্তু ভারতের ১৩০ কোটি মানুষের অর্ধেকই কৃষির ওপরে নির্ভরশীল।

বর্তমানে কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কায় সংকটে পড়েছে দেশের অর্থনীতি। ২০২০-২১ আর্থিক বছরে ঘরোয়া অর্থনীতি ৭.৩ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। অর্থাৎ বৃদ্ধির হার ঋণাত্মক— (-) ৭.৩ শতাংশ।

গত আর্থিক বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে ঘরোয়া অর্থনীতির সংকোচন হয়েছিল ২৪ শতাংশ। পরের ত্রৈমাসিকে তা কমে হয় ৭.৫ শতাংশ। এত খারাপের মধ্যেই ইতিবাচক যে ২০২০-২১ অর্থবর্ষের শেষ ত্রৈমাসিকে বৃদ্ধি হয়েছে ১.৬ শতাংশ হারে।
গত চার দশকে ভারতীয় অর্থনীতিতে এত খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। এই পরিস্থিতিতে কৃষি উৎপাদন ভাল হলে অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়াতে সুবিধা হবে।

You might also like