Latest News

বিহারে মুখ্যমন্ত্রী যিনিই হোন, জিতেছি আমিই, দাবি তেজস্বীর

দ্য ওয়াল ব্যুরো : অর্থ, পেশিশক্তি ও প্রতারণা। এই তিনটির জোরে বিহারের ভোটে জিততে চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু তার পরেও আরজেডি হয়েছে একক বৃহত্তম দল। বৃহস্পতিবার এমনই মন্তব্য করেন রাষ্ট্রীয় জনতা দলের প্রধান তেজস্বী যাদব। ৩১ বছর বয়সী তেজস্বী ভোটগণনায় কারচুপির অভিযোগ তোলেন। নতুন করে ভোট গণনার দাবিও করেন আরজেডি প্রধান। সেইসঙ্গে বলেন, বিহারের জনাদেশ রয়েছে তাঁর পক্ষেই। মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে কে বসল তাতে কিছু যায় আসে না।

অন্তত ২০ টি আসনে কারচুপি হয়েছে বলে দাবি করেন তেজস্বী। তাঁর প্রশ্ন, পোস্টাল ব্যালটগুলি আগে গোনা হয়নি কেন? অভিযোগ, অনেক আসনে পোস্টাল ব্যালটগুলি বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়েছে। তেজস্বীর কথায়, “আপনারা সকলেই দেখেছেন, নীতীশ কুমারের আর সে ঔজ্জ্বল্য নেই। তাঁর দল ভোটে তিন নম্বরে নেমে গিয়েছে। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসতে পারেন। কিন্তু মানুষের হৃদয়ে রয়েছি আমরাই।”

বিহারে ২৪৩ টি আসনের মধ্যে এনডিএ পেয়েছে ১২২ টি। তার মধ্যে বিজেপি পেয়েছে ৭৪ টি আসন। নীতীশের জনতা দল ইউনাইটেড পেয়েছে ৪৩ টি। আরজেডি পেয়েছে ৭৫ টি। তেজস্বী বলেন, “মানুষ মহাগঠবন্ধনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। নীতীশ কুমার পিছনের দরজা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন।”

বিহারে ভোটের ফলে স্পষ্ট, রাজ্য বিজেপিতে তেমন কোন বলিষ্ঠ নেতা না থাকা সত্ত্বেও শক্তপোক্ত জায়গা নিয়েছে বিজেপি। পর্যবেক্ষকদের মতে, বিহার বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা সুশীল মোদী অত্যন্ত ভাল ভাবে নীতীশ কুমারের সঙ্গে বোঝাপড়া রেখেছিলেন। ধারাবাহিক ভাবে রাজ্যের ভোটগুলিতে খারাপ ফল করছিল বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। কোথাও কোথাও শরিকী কোন্দলে সরকারি পড়ে গিয়েছে।তার অন্যতম উদাহরণ মহারাষ্ট্র। রাজ্যের ভোটে খারাপ সময়ের পর বিহার যেন বিজেপির কাছে বসন্ত এনে দিয়েছে। অন্যান্য রাজ্যেও উপনির্বাচনগুলিতে ব্যাপক জয় পেয়েছে বিজেপি। মধ্যপ্রদেশ থেকে মণিপুর পর্যন্ত গেরুয়া শিবিরের জয়জয়কার।

জনসভাগুলিতে বিপুল ভিড় হলেও বিজেপি-জেডিইউকে সেভাবে বিপাকে ফেলতে পারেনি তরুণ তেজস্বী যাদবের নেতৃত্বাধীন মহাজোট। তবে নীতীশের দলকে তিনে ঠেলে দিয়ে বিজেপির সঙ্গে একক বৃহত্তম দলের যে লড়াই আরজেডির চলছে তাতে লালু পুত্রের কৃতিত্ব অস্বীকার করা যায় না। আগের বারের থেকে বেশি আসনে লড়লেও বিহারে কংগ্রেসের শোচনীয় অবস্থা হয়েছে। কংগ্রেসকে বেশি আসন ছাড়া তেজস্বীরও অঙ্কে ভুল বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের অনেকে। রাহুল গান্ধী ছাড়া কংগ্রেসের আর কোনও তারকা নেতা বিহারের মাটিতে ভোটের প্রচারে পা রাখেননি। না সনিয়া গান্ধী না প্রিয়ঙ্কা গান্ধী। কংগ্রেসের পরাজয়ের পিছনে এটিও অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন অনেকে।

You might also like