Latest News

Modinomics: গভীর সঙ্কটে ঘরোয়া অর্থনীতি, ‘রিসেট’ অপরিহার্য, চিন্তন শিবিরে দাবি কংগ্রেসের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরও উদারিকরণের হাওয়ায় ভেসে কেন্দ্রে বাজপেয়ী সরকার যখন ‘ভারত উদয়ের’ রথে সওয়ার, তখন সনিয়া গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস সামাজিক সুরক্ষার স্লোগান তুলেছিল (Modinomics)। ২০০৪ সালের ভোটে তার কতটা প্রভাব পড়েছিল তা নিক্তিতে মাপা কঠিন, তবে সে বার গ্রাম থেকে শহরে ধরাশায়ী হয়েছিল বিজেপি।

এখন ঘরোয়া অর্থনীতি এমনিতেই ধরাশায়ী। মুদ্রার অবমূল্যায়ন, মুদ্রাস্ফীতির চড়া হার, কর্মসংস্থানের অভাব, পেট্রপণ্যের আগুন দাম, গমের উৎপাদনে ঘাটতি সব মিলেমিশে বিপদ ঘনীভূত হয়ে রয়েছে চারপাশে। এ হেন পরিস্থিতিতে শনিবার উদয়পুরে কংগ্রেসের চিন্তন শিবির থেকে অর্থনীতিকে ‘রিসেট’ করার ডাক দিলেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম (P Chidambaram) সহ দলের শীর্ষ নেতারা। ‘রিসেট’ বলতে আর্থিক নীতি পরিবর্তনের কথাই বোঝাতে চেয়েছেন তাঁরা।

চিন্তন শিবিরে শনিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে চিদম্বরম বলেন, ঘরোয়া অর্থনীতির অবস্থা ভয়ঙ্কর উদ্বেগজনক। তার কারণ, দেশে বৈষম্য ক্রমশ আরও প্রকট হয়ে উঠছে। দেশের জনসংখ্যার নিচের দিকে ১০ শতাংশ মানুষ চরম দারিদ্রে ভুগছে। বিশ্ব ক্ষুধার সূচকে গোটা দুনিয়ার ১১৬ টি রাষ্ট্রের মধ্যে ভারত এখন ১০১ তম স্থানে রয়েছে। বিপুল সংখ্যক শিশু ও মহিলার মধ্যে অপুষ্টির ছাপ স্পষ্ট। এর নিদান চাই। নীতি বদল না করলে তা সম্ভব নয়। তাই রিসেট অপরিহার্য।
ভারতে আর্থিক উদারিকরণের জনক কংগ্রেসই। ১৯৮৪ সালে প্রণব মুখোপাধ্যায় দেশের অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন অর্থনৈতিক সংস্কারের ভিত তৈরি করেছিলেন। পরে নব্বইয়ের দশকের গোড়ায় নরসিংহ রাও সরকার মুক্ত অর্থনীতির পথে হাঁটা শুরু করে।

কেন্দ্রীয় কলেজেই সিইউইটি-এর বিশেষ প্রস্তুতি করে! সমলোচনায় পুনর্বিবেচনার ভাবনা

এদিন চিদম্বরম বলেন, ৯১ সালের সেই উদারিকরণ নীতি দেশের অর্থনীতিতে (Modinomics) নতুন অধ্যায় শুরু করেছিল। তার ফলে দেশ প্রভূত সম্পদ তৈরি করতে পেরেছে, নতুন ব্যবসা শুরু হয়েছে, নতুন উদ্যোগ শুরু হয়েছে, বিপুল সংখ্যক মানুষ নিয়ে মধ্যবিত্ত শ্রেণি গড়ে উঠেছে, লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে, রফতানি বেড়েছে। আর তার পরিণামে ১০ বছরের মধ্যে দেশের ২৭ কোটি মানুষকে সেই সময়ে দারিদ্র থেকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

চিদম্বরমের কথায়, আজ তিরিশ বছর পর ঘরোয়া ও বিশ্বজনীন পরিস্থিতি দেখে বোঝা যাচ্ছে, এবার ফের একটি বড় পদক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে। কারণ, বর্তমান সরকার দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় ডাহা ফেল করেছে। গত আট বছরে বৃদ্ধির হার ছিল ঐতিহাসিক ভাবে শ্লথ। ২০২২-২৩ আর্থিক বছরে বৃদ্ধির হার কত পারে তা গত পাঁচ ধরে হিসাব কষতে গিয়ে বার বার কমানো হয়েছে। মুদ্রাস্ফীতির হার সীমাহীন। খুচরো বাজারে মুদ্রাস্ফীতির হার ১৪.৫৫ শতাংশ। খোলা বাজারে তা ৭.৭৯ শতাংশ। সরকারের ভ্রান্ত নীতি তাতে আরও হাওয়া দিচ্ছে। সব থেকে বড় কথা হল, ইউপিএ জমানায় সামাজিক সুরক্ষা খাতে সরকারের মোট খরচের ৯ শতাংশ ব্যয় করা হত। তা কমিয়ে গত আট বছরে মোদী জমানায় করা হয়েছে মাত্র ৫ শতাংশ। তাতে দুর্ভোগ বাড়ছে গরীব মানুষের। ফলে গ্রামে চাহিদা বাড়ছে না।

চিদম্বরমকে এদিন প্রশ্ন করা হয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য কাটাতে তবে কি কংগ্রেস ফের পিছনের দিকে হাঁটার কথা ভাবছে? জবাবে বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা বলেন, “না, আমরা সামনের দিকে এগোনোর কথাই ভাবছি।
এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে কংগ্রেসের প্লেনারি অধিবেশন বা চিন্তন শিবিরে খসড়া আর্থিক প্রস্তাব রচনা করতেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। এ বার ওই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে চিদম্বরমকে। প্রাক্তন অর্থমন্ত্রীকে এদিন প্রশ্ন করা হয়, মোদী সরকার যে অর্থনীতি সামলাতে ব্যর্থ হয়েছে, সেটা কি কংগ্রেস সঠিক ভাবে মানুষের কাছে তুলে ধরতে পারেনি? উত্তরে চিদম্বরম বলেন, “একেবারেই ঠিক বলেছেন। এতে আমাদের ব্যর্থতা রয়েছে। আমরা মানুষকে বোঝাতে পারিনি। আমাদের সেই দক্ষতা বাড়াতেই হবে।”

বেশি রাত জাগছেন? শরীর ঠিক রাখতে কী কী করবেন

You might also like