Latest News

জরুরি অবস্থার সময় গণতন্ত্রকে চূর্ণ করার চেষ্টা হয়: মোদী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জরুরি অবস্থার (Emergency Period) বিরুদ্ধে রবিবারের মন কি বাত অনুষ্ঠানে মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Modi on Maan Ki Baat)। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর (Indira Gandhi) জারি করা জরুরি অবস্থার সময় ভারতে গণতন্ত্রকে চূর্ণ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। আবার বিশ্বে এমন দৃষ্টান্ত খুঁজে পাওয়া কঠিন যেখানে লোকেরা গণতান্ত্রিক উপায়ে একটি স্বৈরাচারকে পরাস্ত করেছে।

গতকাল ছিল ভারতে জরুরি অবস্থা জারির ৪৭তম বর্ষ। অন্যান্য বছর প্রধানমন্ত্রী এ দিনে সকাল সকাল টুইট করে জরুরি অবস্থার কালো দিনগুলির কথা স্মরণ করিয়ে দেন। কিন্তু এবার তা করেননি। সেটা ‘আজ মন কি বাতে’-তে যা বলার বলবেন বলে? রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তা মোটেই নয়। বরং গতকাল প্রধানমন্ত্রীর এ বিষয়ে মুখ খোলার মুখ ছিল না।

কেন? আসলে গত পরশু সুপ্রিম কোর্ট গুজরাত দাঙ্গায় ভূমিকা নিয়ে নরেন্দ্র মোদীকে ক্লিন চিট দেয়। সর্বোচ্চ আদালত বলে একটি এনজিও গুজরাতের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নাম ষড়যন্ত্র করে মামলায় যুক্ত করে। তাদের ভূমিকারও তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। কালক্ষেপ না করে সুপ্রিম কোর্টের রায়কে হাতিয়ার করে সক্রিয় হয়ে ওঠে গুজরাতের বিজেপি সরকার। গতকাল বিকালে মুম্বই থেকে গুজরাত পুলিশের অ্যান্টি টেরোরিস্ট গ্রুপ আটক করে সমাজকর্মী তিস্তা শেতলবাদকে। তার আগে সকালে একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গুজরাত দাঙ্গার ঘটনা নিয়ে মোদীর অবমাননার চেষ্টার বিরুদ্ধে আদালতের রায়কে হাতিয়ার করে সরব হন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ

শেতলাবাদের গ্রেফতারির খবরে দেশের নানা প্রান্তে বিক্ষোভ শুরু হয়। আজও প্রতিবাদ চলছে। জরুরি অবস্থার মতো কালো দিনে তিস্তার গ্রেফতারি নিয়ে অনেকেই বলেন, মোদী সরকারের মুখোশ আরও খুলে পড়েছে।

একদিন পর রবিবার প্রধানমন্ত্রী বলেন, জরুরি অবস্থার সময় সব অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। এই অধিকারগুলির মধ্যে ছিল সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার। সেই সময়ে, ভারতে গণতন্ত্রকে চূর্ণ করার চেষ্টা করা হয়েছিল, দেশের আদালত, প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, প্রেস, সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এতটাই কঠোর সেন্সরশিপ ছিল যে অনুমোদন ছাড়া কোনো কিছু প্রকাশ করা যেত না। আমার মনে আছে, বিখ্যাত গায়ক কিশোর কুমার যখন সরকারের প্রশংসা করতে অস্বীকার করেছিলেন, তখন তাঁকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, তাঁকে রেডিওতে গান গাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি।”

এরপরই প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এতকিছুর পরও গণতন্ত্রের প্রতি দেশবাসীরর বিশ্বাস টলাতে পারেনি।” প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ আমাদের মধ্যে বহু শতাব্দী ধরে গেঁথে আছে। গণতন্ত্রের যে চেতনা আমাদের শিরায় প্রবাহিত, শেষ পর্যন্ত তা জয়ী হয়েছেয়।” তাঁর মতে, “গণতান্ত্রিক উপায়ে স্বৈরাচারী মানসিকতাকে পরাজিত করার এমন নজির বিশ্বে বিরল।”

জরুরি অবস্থার দিনগুলি নাম-পরিচয় গোপন করে থাকতে হয়েছিল নরেন্দ্র মোদীকে। তিনি আন্ডারগ্রাউন্ডে থাকা স্বয়ংসেবকদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলতেন। জরুরি অবস্থার অবসানের পর সেই দিনগুলি নিয়ে একটি বই প্রকাশ করেন মোদী। আজ ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে অত বিশদ আলোচনায় না গেলেও তিনি বলেন, জরুরি অবস্থার সময় দেশবাসীর লড়াইয়ের সাক্ষী এবং তাতে অংশ নেওয়ার সুযোগ আমার হয়েছিল। আজ দেশের স্বাধীনতার ৭৫ বছর উদযাপনের সময় আমাদের জরুরি অবস্থার অন্ধকার দিনগুলিকে ভুলে যাওয়া উচিত নয়।

যশবন্ত-মমতা-সিপিএম

You might also like