Latest News

পরিবারতন্ত্র নিয়ে মুখর মোদী ঢুকে পড়ছেন মুলায়ম-অখিলেশদের বাপ-বেটার বিবাদেও

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের (Yogi Adityanath) মতো সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও (Akhilesh Yadav) এবারই প্রথম বিধানসভা ভোটে লড়াই করছেন। দু’জনেই উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হন বিধান পরিষদ থেকে জিতে। তিনি মৈনপুরীর কারহাল কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছেন। রবিবার সেখানে ভোট হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তাতে কী! চতুর্থ দফার ভোটের প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) রবিবার অনেকটা সময় ব্যয় করলেন মুলায়ম-অখিলেশ বিবাদ নিয়ে।

মৈনপুরী হল মুলায়ম সিং যাদবের লোকসভা কেন্দ্র। মৈনপুরীর অন্তর্গত কারহাল বিধানসভা কেন্দ্র মুলায়মের শিক্ষা এবং রাজনৈতিক জীবনের আতুঁড়ঘর বলা চলে। ১৯৯৩ থেকে এ পর্যন্ত সেখানে মাত্র একবার সমাজবাদী পার্টি হেরেছে। বাকি সব ভোটেই যাদব ও মুসলিম ভোটের জোরে জিতেছে মুলায়মের সাইকেল। সেই নিরাপদ আসনেও অখিলেশ মোটেই স্বস্তিতে নেই বলে বিজেপি উত্তরপ্রদেশের সর্বত্র প্রচার করে বেড়াচ্ছে। রবিবার তাতে গলা মেলান প্রধানমন্ত্রীও।

অসুস্থ মুলায়ম এবারের ভোটে খুব একটা সক্রিয় নন। তবু ছেলের বিধানসভা কেন্দ্রে দিন কয়েক আগে প্রচার করে এসেছেন। মুলায়মদের গোটা পরিবারের ভোট সেখানে। দিন চারেক আগে সপরিবারে মুলায়ম সেখানে গিয়েছেন। গতকাল ভোট দিয়েছেন। তা নিয়েও পারিবারিক বিবাদ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। গতকাল মুলায়ম, অখিলেশ, অখিলেশের স্ত্রী ডিম্পল এবং দুই কাকা ভোট দিয়েছেন। কিন্তু ভোট দিতে যাননি মুলায়মের দ্বিতীয় স্ত্রী সাধনা, তাঁদের ছেলে প্রতীক এবং তাঁর স্ত্রী অপর্ণা, যিনি দিন কয়েক আগে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।

অখিলেশ এখানে প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই বিজেপি বলা শুরু করেছে, ছেলের জন্য শেষে কি না অসুস্থ বাবাকেও প্রচারে নামতে হল। আসলে মুলায়মের উপর জোর খাটানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী রবিবার হরদৌয়ের সভায় সেই প্রসঙ্গে টেনে পুরনো কাহিনি তুলে ধরেন। বলেন, আগের ভোটের সময় একটা ভিডিও খুব ছড়িয়ে ছিল, আপনাদের নিশ্চয়ই স্মরণে আছে?

আরও পড়ুনঃ ‘রাজ্যের হাতে অধিক ক্ষমতা চাই,’ মোদীকে জব্দ করতে পারে অবিজেপি মুখ্যমন্ত্রীদের কনফেডারেশন

কী ছিল সেই ভিডিও-তে? প্রধানমন্ত্রীর কথায়, তাতে দেখা গিয়েছে বাবাকে ছেলে কীভাবে ধাক্কা দিয়ে স্টেজ থেকে নামিয়ে দিচ্ছে। এভাবেই দলের ক্ষমতা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। আর আজ সেই বৃদ্ধ বাবার দ্বারস্থ হতে হয়েছে জয় হাসিল করার জন্য।

২০১৭-র বিধানসভা ভোটের বছর খানেক আগে সমাজবাদী পার্টিতে জোর গোলমাল বাঁধে মুলায়নের উত্তসূরী বাছাই নিয়ে। যদিও মুলায়ম তখনই দলীয় সভাপতি পদ ছাড়তে রাজি ছিলেন না। অন্যদিকে, অখিলেশ ও মুলায়মের এক ভাই ওই পদে বসতে প্রকাশ্যে গোলমালে জড়িয়ে পড়েন। অখিলেশ এমনকী কাকাকে মন্ত্রিসভা থেকে পর্যন্ত বরখাস্ত করেন। পরে জানা যায়, অমর সিংয়ের মদতে অখিলেশ বাবাকে সরিয়ে দলীয় সভাপতির পদ ছিনিয়ে নিয়েছেন। যদিও সবদিক খতিয়ে দেখে নির্বাচন কমিশন তাঁকেই দলের সভাপতি মেনে নিয়ে সাইকেল প্রতীক ব্যবহারের অনুমতি দেয়।

সেই পুরনো কাসুন্দি এবার জোর ঘাঁটাঘাঁটি শুরু করেছে বিজেপি শিবির। বিজেপি নেতাদের অনেকেই নাম না করে অখিলেশকে ঔরঙ্গজেবের সঙ্গে তুলনা করছেন। এরই মধ্যে আবার মুলায়মের ছোট ছেলের বউ বিজেপিতে গিয়েছেন ভোটের মুখে। ফলে মুলায়ম পরিবারের বিবাদ এবারের ভোটে বিজেপির মস্ত বড় অস্ত্র।

প্রধানমন্ত্রী কথায় কথায় সমাজবাদী পার্টি এবং কংগ্রেসকে পরিবারবাদী বলে উল্লেখ করে চলেছেন। তিন যখন বারাণসি থেকে জিতে প্রথমবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হন উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতায় তখন সমাজবাদী পার্টি। মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ।

সভায় মোদী অভিযোগ করেন, ২০১৭ পর্যন্ত পরিবারবাদীদের বাধায় আমি বারাণসিতে সেভাবে কাজ করতে পারিনি।

প্রচারে খুল্লামখুল্লা ধর্মের তাসও খেলছেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ভাবতে পারেন, পরিবারবাদীরা ওসামা বিন লাদেনের মতো মানুষকেও কি না ‘জি’ বলে সম্মোধন করে! দিল্লির বাটালা হাউসের হামলাকারীদের জন্য ওদের মন কাঁদে। সতর্ক প্রধানমন্ত্রী এই ক্ষেত্রে কোনও দল বা নেতা-নেত্রীর নাম নেননি।

You might also like