Latest News

জাত সমীকরণে বিজেপি: ধর্মান্তরিত তফসিলিদের সুলুক-সন্ধানে কমিশন গড়ল মোদী সরকার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: তফসিলি সম্প্রদায়ভুক্ত যেসব জন গোষ্ঠী নিজেদের ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম অথবা খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহণ করেছে তাদের চিহ্নিত করতে একটি কমিশন (Caste Identity) গঠন করল কেন্দ্রীয় সরকার (Modi government)। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি কে জি বালাকৃষ্ণানকে চেয়ারম্যান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠনের কথা শুক্রবার ঘোষণা করেছে কেন্দ্রের সামাজিক কল্যাণ মন্ত্রক।

দেশে অহিন্দু নাগরিকদের অনেকেই দাবি করে আসছেন, তাঁরা আদতে হিন্দু এবং তফসিলি জাতিভুক্ত। বৌদ্ধ এবং শিখ ধর্মাবলম্বীদেরও অনেকেই একই দাবি করে আসছেন।

কিন্তু বিভিন্ন সময় পরিস্থিতির চাপে ইসলাম ও খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহণ করতে বাধ্য হন তাঁদের পূর্ব পুরুষেরা। তার জেরে তফসিলি জাতির স্বীকৃতিও হাতছাড়া হয় তাঁদের। ফলে শিক্ষা, চাকরিতে সংরক্ষণ সহ তফসিলি সম্প্রদায়ের জন্য বরাদ্দ সরকারি সুবিধাদি থেকে তাঁরা বঞ্চিত। কারণ, অহিন্দুদের তফসিলি বিবেচনা করা হয় না।

এই কমিশন সেই সমস্ত তফসিলি জাতি বা দলিতদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করবে যারা ধর্মান্তরিত হয়ে খ্রিস্টান অথবা মুসলমান হয়েছে। কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে সরকার ধর্মান্তরিত দলিতদের তফসিলি জাতির জন্য বরাদ্দ সংরক্ষণের সুবিধা দেওয়ার কথা বিবেচনা করা হবে। বলাইবাহুল্য তাদেরও তফসিলি জাতির তালিকা ভুক্ত করে নেওয়া হবে।

রাজনৈতিক মহল মনে করছে, কেন্দ্রীয় সরকারের এই ভাবনা বাস্তবায়িত হলে দলিত-রাজনীতি ঘিরে ভোটের অঙ্কে বড় পরিবর্তন আসবে। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার ইতিমধ্যে তাঁর রাজ্যে জাতি সমীক্ষার (Caste Survey) সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। লোকসভা ভোটের আগেই সেই রিপোর্ট রাজ্য সরকারের কাছে জমা পড়ার কথা। নীতীশের লক্ষ্য ওই রিপোর্টকে হাতিয়ার করে তার মুখ্যমন্ত্রিত্বের সময়ে পশ্চাৎপদ অংশের অগ্রগতি দাবি করা এবং পিছিয়ে থাকা অংশকে বাড়তি সুবিধা প্রদান।

নরেন্দ্র মোদী সরকার সারা দেশে জাতি সমীক্ষায় সায় দেয়নি। কিন্তু রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘ-সহ গেরুয়া শিবিরের বৃহত্তর হিন্দু সমাজকে এক ছাতার তলায় আনার ভাবনার বাস্তবায়ন প্রস্তাবিত সমীক্ষার উদ্দেশ্য বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার অগ্রসর হচ্ছে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া মামলাকে সামনে রেখে।

ধর্মান্তরিত দলিতদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে কমিশন গঠনের প্রস্তাব বহু বছর ধরেই বিবেচনাধীন ছিল বলে সরকারি মহলের দাবি। সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলায় খ্রিস্টান এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারী দলিতদের সংরক্ষণের সুবিধা দেওয়ার দাবি করা হয়েছে। কিন্তু সরকারের কাছে এই সংক্রান্ত কোনও তথ্য নেই। সেই কারণে এই ধরনের কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত।

সংবিধানের ৩৪১ নন্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, হিন্দু, শিখ এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের পশ্চাৎপদ অংশকেই শুধু তফসিলি জাতি ভুক্ত বলে মান্যতা দেওয়া হবে। শুরুতে শুধু হিন্দুদেরই এই তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। ১৯৫৬ ও ১৯৯০ সালে যথাক্রমে শিখ এবং বৌদ্ধদের এই তালিকায় যুক্ত করা হয়।

৩০ অগাস্ট সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে খ্রিস্টান এবং ইসলামে ধর্মান্তরিত দলিতদেরও তফসিলি জাতি হিসাবে সংরক্ষণের সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে তিন সপ্তাহের মধ্যে মতামত দিতে বলে। সর্বোচ্চ আদালতে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় হিন্দু, বৌদ্ধ এবং শিখ ধর্মের তফসিলি জাতি যেমন সংরক্ষণ পায় সেভাবে ধর্মান্তরিত দলিতদের জন্য সংরক্ষণের দাবি করা হয়েছে।

নোটবন্দির পর এবার ডিজিটাল টাকা, শিগগির শুরু করতে চলেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক

You might also like