Latest News

শীত আসতেই ভাগীরথীর তীরে রং ছড়াচ্ছে পরিযায়ী পাখির দল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পৌষমাস পড়ার আগেই শীত জাঁকিয়ে পড়তে শুরু করেছে। এই ঠান্ডা স্থায়ী হোক বা না হোক, রাজ্যে আসতে শুরু করে দিয়েছে পরিযায়ী পাখিরা। প্রতিবছরই শীতে এদের দেখা যায় খাল-বিলের ধারে, নদীর চরে।

নদিয়ার চাকদা ব্লকের গৌরনগর ঘাট এলাকায় ভাগীরথী নদীর পাড়ে প্রচুর পরিযায়ী পাখির আনাগোনা শুরু হয়ে গেছে এখনই। এসেছে সাইবেরিয়ান ক্রেন। এই পাখিকে বাংলায় বলা হয় শামুকখোল। এরা শামুক তো খায়ই, মাছও এদের পছন্দের খাবার। সাধারণত এরা দলবেঁধে ঘুরে বেড়ায় খালবিলের ধারে, নদীর পাড়ে ও নির্জন চরে।

আসতে শুরু করেছে জলপিপির দল। এরা জলাশয়ের ধারে ঘুরে বেড়ায়, আবার দরকারে শালুক পাতা-পদ্মপাতার উপর দিয়ে দিব্যি হেঁটে বেড়ায়।

জলপিপি-জাতীয় পাখি ঘুরে বেড়ায় বিভিন্ন জলাশয়ে

এসেছে পেলিক্যান। এরা বেশ অদ্ভুদ পাখি। নীচের চঞ্চুটা অনেকটা গরুর গলকম্বলের মতো। এখানে এরা জলসমেত শিকার ভরে নেয়, জল বার করে দিলে মুখের মধ্যে থেকে যায় শিকার। এরা অনেকটা হাঁসের মতো — জলে সাঁতার কাটে, দরকারে আবার আকাশেও ওড়ে।

এখনও শীত সেভাবে পড়েনি, শীত পড়লে আরও অনেক পাখি আসবে বলে মনে করছেন পক্ষীবিদরা।

প্রতিদিন সকালের আলো ফুটলেই ঝাঁকে ঝাঁকে এসে এই সব পাখির দল ভিড় করে ভাগীরথীর চড়ায়। সন্ধ্যা হবার আগেই আবার তারা ফিরে যায় বাসায়। দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আপাতত দু’তিন মাসের জন্য পশ্চিমবঙ্গের জলাশয়ের ধারে ঘুরে বেড়াবে এইসব পাখির দল। আসে নানা প্রজাতির হাঁস ও বক। নিশাচর বকও আসে এইসব এলাকায়।

পেলিক্যান

চাকদার পরিবেশকর্মী বিবর্তন ভট্টাচার্য বলেন, “বছর কয়েক আগেও চোরা শিকারীদের উপদ্রব ছিল। বর্তমানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তা বন্ধ হয়েছে। এর ফলে পরিযায়ী পাখিদের আনাগোনা বেড়েছে। আমরা চাই পরিযায়ী পাখিদের বংশবৃদ্ধি হোক।”

চাকদার বাসিন্দা অজয় হালদার বলেন, “শীত পড়তেই পরিযায়ী পাখিরা গঙ্গা পাড় ধরে খাবারের খোঁজে ঘুরে বেড়ায়। প্রত্যেক বছরই এরা এসে ভিড় জমায়। আবার গরম পড়তে না পড়তেই পাখির দল চলেও যায়।”

এইসব পাখি প্রকৃতপক্ষে যে সব জায়গার বাসিন্দা, সেই জায়গায় শীতকালে হাড়কাঁপানো ঠান্ডা পড়ে। তখন জায়গায় জলাশয় জমে বরফ হয়ে যায়, তাই খাবার জোটানো কঠিন হয়ে পড়ে। তাই ঠান্ডা পড়তে শুরু করলে তারা চলে আসে দক্ষিণে, কম ঠান্ডার জায়গায়। দক্ষিণে গরম পড়তে শুরু করলে তারা আবার উড়ে যেতে শুরু করে উত্তরে, যেখানে তাদের প্রকৃত বাস।

পৌষ-মাঘ মাসে শীত বাড়বে, তখন এই এলাকা ভরে উঠবে রংবেরঙের পাখিতে। তখন অনেকে আবার চলে আসেন দূরবীণ দিয়ে পাখি দেখতে, অনেকে আসেন পাখির ছবি তুলতে।

You might also like