Latest News

বিচ্ছেদের পরে বিল গেটসের সংস্থা ক্যাসকেড থেকে মেলিন্ডা পেলেন ১৪ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘ ২৭ বছরের দাম্পত্য শেষ করে বিচ্ছেদের কথা ঘোষণা করেছেন বিল গেটস ও মেলিন্ডা গেটস। তার তিন দিন পরেও জল্পনার শীর্ষে তাঁরা। মাইক্রোসফ্টের প্রতিষ্ঠাতা, বিশ্বের ধনকুবের কেন এই সিদ্ধান্ত নিলেন, মেলিন্ডাই বা এর পরে কী করবেন, বিশ্বের অর্থ-বাজারে এই ঘটনার কেমন প্রভাব পড়বে, তাই নিয়েই তোলপাড় তামাম বিশ্ব।

এরই মধ্যে জানা গেল, বিচ্ছেদের এই সিদ্ধান্তের পরেই বিল গেটসের সংস্থা ক্যাসকেড ইনভেস্টমেন্ট প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের শেয়ার বিনিয়োগ করেছে মেলিন্ডা গেটসের দুটি সংস্থায়। ভারতীয় টাকায় যার মূল্য  ১৪ হাজার কোটিরও বেশি।

তবে পরিবারের তরফ থেকে এই সময়ে খানিক প্রাইভেসির আবেদন করেছেন বিল  ও মেলিন্ডা গেটস। তাঁরা জানিয়েছেন, তাঁদের সংস্থা বিশ্বজুড়ে যা যা কাজ করে থাকে, তাতে কোনও প্রভাব ফেলবে না এই বিচ্ছেদ। প্রসঙ্গত, গতবছর করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু-কে প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছিল বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন। প্রয়োজনে তা ২৫০ মিলিয়ন ডলার অবধি পৌঁছবে বলে আশ্বস্ত করেন তাঁরা। তারই মাঝে এই বিচ্ছেদের ঘোষণা। 

Image - বিচ্ছেদের পরে বিল গেটসের সংস্থা ক্যাসকেড থেকে মেলিন্ডা পেলেন ১৪ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ

এই মুহূর্তে বিলের সম্পদের আর্থিক মূল্য় প্রায় ১০৫ বিলিয়ন ডলার। বিল গেটস ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন যে, তাঁর মৃত্যুর পরে তিনি তাঁর আয়ের ৯৯.৯৬ শতাংশ দান করে দেবেন। তাঁর তিন সন্তান পাবে মাত্র ৩০ মিলিয়ন ডলার।

সোমবার ট্যুইটে বিচ্ছেদের কথা ঘোষণা করার পরে বিল ও মেলিন্ডা লেখেন, ‘তিনটি সন্তানকে আমরা ভালভাবে মানুষ করেছি। গড়ে তুলেছি এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যা দুনিয়াজুড়ে মানুষের সেবায় ও সকলের ভালোভাবে বেঁচে থাকার স্বার্থে নিরলস কাজ করে চলেছে।’

বিল ও মেলিন্ডার সম্পত্তির বাঁটোয়ারা নিয়ে জল্পনায় অনেকে অবশ্য বছর দুই আগে অ্যামাজন কর্তা জেফ বেজোস এবং তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী ম্যাকেঞ্জি স্কটের বিচ্ছেদের ঘটনাকে টেনে আনেন। সম্পর্ক ভাঙার পর তাঁদের যৌথ সম্পদ ভাগাভাগি হয়। শর্ত অনুযায়ী, অ্যামাজনের ৪ শতাংশ শেয়ারের মালিক হন ম্যাকেঞ্জি। যার মূল্য ছিল প্রায় ৩৫০০ কোটি ডলার। এর মধ্যে অতিমারির সময়ে অ্যামাজনের শেয়ারের দাম বেড়ে যায়। ফলে তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ আরও বেড়ে গিয়ে ৫ হাজার ৩৫০ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। অনেক ধনকুবেরকে পেছনে ঠেলে ধনীদের তালিকায় সামনে চলে আসেন ম্যাকেঞ্জি।

গেটস দম্পতির ক্ষেত্রে অবশ্য সমীকরণ কিছুটা আলাদা। তার কারণ, বিল গেটস মাইক্রোসফট থেকে সম্পত্তি বাড়িয়েছেন ঠিকই। কিন্তু তারপর ধীরে ধীরে নিজের শেয়ারের অংশ বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা ফাউন্ডেশন এবং অন্যান্য খাতে কাজে লাগিয়েছেন। এরই মধ্যে মাইক্রোসফট কর্পোরেশনের বোর্ড থেকে গত বছর বেরিয়ে যান বিল। ফলে এখন তাঁর সম্পদের আনুমানিক হিসেব করাটাও বেশ কঠিন। তাই বিচ্ছেদে কার লাভ, কার ক্ষতি— সেই অঙ্কও জটিল হয়ে পড়েছে।

জটিলতা আরেকটা কারণ রয়েছে। বিল এবং মেলিন্ডা তাঁদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী নিতে চলেছেন, সেটা কেউ অনুমান করতে পারছেন না। ওয়াশিংটনে যে বাড়িতে তাঁরা এতদিনে ছিলেন, তার ভাগাভাগির হিসেব বিয়ের আগে কীভাবে লেখা হয়েছিল, ফাউন্ডেশনে দু’জনের ভূমিকা কী হতে চলেছে— এগুলোও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তাই মুখ বন্ধ রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ বলে মেনে নিয়েছেন তাঁরা।

Image - বিচ্ছেদের পরে বিল গেটসের সংস্থা ক্যাসকেড থেকে মেলিন্ডা পেলেন ১৪ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ


দাম্পত্য জীবনের শেষটা অঙ্কের মারপ্যাঁচে মোড়া। এর শুরুটাও কিন্তু আঁক কষেই হয়েছিল। গল্পটা খোলসা করেছিলেন মেলিন্ডা নিজে। নেটফ্লিক্স ডকুমেন্টারি ‘ইনসাইড বিল’স ব্রেইন’-এ। আশির দশক। তখনও বিয়ের সিদ্ধান্ত নেননি তাঁরা। কিন্তু প্রেমপর্ব চুটিয়ে চলছে। একসঙ্গে থাকবেন কি থাকবেন না— ধোঁয়াশায় মেলিন্ডা। বিলকেও বেশ চিন্তান্বিত দেখাচ্ছে। হঠাৎ একদিন বেডরুমে ঢুকতেই মেলিন্ডার নজরে এল বিশাল হোয়াইটবোর্ডে দু’টো আলাদা ছক কেটেছেন বিল। একদিন লেখা ‘ডুস’। অন্যদিকে ‘ডোন্টস’। বিয়ে করলে কোন, কোন ফ্যাক্টর কাজ করবে আর করবে না— মাথা খাটিয়ে তারই তালিকা করেছিলেন তিনি। এরপর পাওয়া-না পাওয়ার তাল-মিলে কেটে গেছে ২৭ বছর। বিচ্ছেদের পর এবার নতুন অঙ্ক। হিসেবের নিক্তিটা কিন্তু একই— লাভ না ক্ষতি? পাওয়া নাকি না-পাওয়া?

You might also like