Latest News

অতিমহামারীতে পেশা বদলে বিখ্যাত হয়ে উঠেছেন চেন্নাইয়ের ট্রান্সজেন্ডার

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ১৪ বছর বয়সে বাড়ি থেকে পালিয়েছিলেন ট্রান্সজেন্ডার (Transgender) আর কালাইভানি (R Kalaivani)। চেন্নাইয়ে (Chennai) মহাজনের হয়ে দোকানে দোকানে টাকা আদায় করতেন তিনি। ২০২০ সালে কোভিড অতিমহামারী শুরু হওয়ার পরে দেশ জুড়ে জারি হয় লকডাউন। দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। কালাইভানির পক্ষে প্রাণধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতেই তিনি পান নতুন জীবিকার সন্ধান। চেন্নাইয়ের নন্দনবক্কম ট্রেড সেন্টারে খোলা হয়েছিল কোভিড কেয়ার সেন্টার। সেখানে কালাইভানি রোগীদের সেবা করতে থাকেন।

তিনি বলেন, “লকডাউন শুরু হওয়ার পরে আমি কোভিড রোগীদের সেবা করতে গিয়েছিলাম। তখন আমার আর কিছু করার ছিল না। আমি রোগীদের খাইয়ে দিতাম। স্নান করাতাম। ডায়াপার বদলে দিতাম।” ক্রমশ ওই কাজ ভাল লেগে যায় কালাইভানির। তিনি বলেন, “কোভিড কেয়ার সেন্টারে যে রোগীরা সেরে উঠতেন, তাঁরা আমাকে আশীর্বাদ করতেন। আমি ঠিক করলাম, আগামী দিনেও রোগীদের সেবা করব।”

কালাইভানি বলেন, “সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার সময়ে অনেক রোগী আমাকে জড়িয়ে ধরতেন। ২০২১ সালে সেকেন্ড ওয়েভের সময় আমি অক্সিজেন বেডে রোগীদের পাশে থাকতাম। মৃত্যুপথযাত্রী রোগীদের সঙ্গ দিতাম।”

কালাইভানির ধারণা, রোগীদের আশীর্বাদেই তিনি নিজে কখনও কোভিডে আক্রান্ত হননি। রাজীব গান্ধী সরকারি হাসপাতালের নার্স অমৃতাবল্লী এস একসময় নন্দমবক্কম কোভিড কেয়ার সেন্টারের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি বলেন, “থার্ড ওয়েভের সময়েও কালাইভানি রোগীদের অনেক সেবা করেছেন। তাঁকে যা করতে বলা হত, তাই করতেন। অনেক সময় স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য খাবার আনতেন। কোভিড কেয়ার সেন্টার সাফ করতেন।” কনট্রাক্ট ওয়ার্কার হিসাবে মাসে ন’হাজার টাকা পেতেন কালাইভানি। কিন্তু তিনি তাতে খুশি হতেন।

সম্প্রতি নন্দমবক্কম কোভিড কেয়ার সেন্টার বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কালাইভানি ফের মহাবলীপুরম রোডের বিভিন্ন দোকান থেকে টাকা সংগ্রহ করছেন। কিন্তু অনেকসময় রোগীদের আত্মীয়স্বজন ডেকে নিয়ে যান তাঁকে। কিছু অর্থের বিনিময়ে তিনি রোগীর সেবা করেন। অর্থাৎ অতিমহামারীর প্রভাব স্তিমিত হওয়ার পরেও রোগীর সেবা করার পেশা তিনি ছাড়েননি।

You might also like