Latest News

#মি_টু: সাংবাদিক প্রিয়া রামানির বিরুদ্ধে মানহানির মামলা রুজু এমজে আকবরের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাংবাদিক প্রিয়া রামানির বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করলেন যৌন হেনস্থায় অভিযুক্ত কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ও প্রাক্তন সাংবাদিক এম জে আকবর। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগ নাকি ভিত্তিহীন– এই মর্মে ইতিমধ্যেই দীর্ঘ বিবৃতি দিয়েছিলেন তিনি। যাঁরা এই অভিযোগ করেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানিয়েছেন আকবর। এতে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ সাংবাদিক মহল।

প্রধানমন্ত্রীর দফতরকে ট্যাগ করে সাংবাদিক স্বাতী চতুর্বেদী টুইট করেছেন, “কী লজ্জাজনক ভাবে আপনারা সরকার চালাচ্ছেন! আকবর পদত্যাগ করলেন না। অথচ ১৪ জন মহিলা তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ এনেছেন।” আকবর পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন, লোকসভা নির্বাচনের মুখে মুখে তাঁর বিরুদ্ধে এই রকম অভিযোগ ওঠার পিছনে কোনও রাজনৈতিক ‘অ্যাজেন্ডা’ আছে কি না। এই প্রসঙ্গে যে সাংবাদিকেরা আকবরের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিলেন, তাঁদের অন্যতম, হরিন্দর বাওয়েজা টুইট করেছেন, “গত দু’-তিন দশক ধরে যে মহিলারা এই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুঝে গিয়েছেন, তাঁদের নাকি মাথায় থাকবে লোকসভা!” সাংবাদিক বরখা দত্তের কথায়, ‘‘অবিশ্বাস্য! সরকার যদি আকবরকে বরখাস্ত না-করে, তা হলে আমাদের উচিত তাঁর সমস্ত সরকারি অনুষ্ঠান বয়কট করা। যে ১৪ জন কথা বলার সাহস দেখালেন, তাঁদের কিছুতেই হেরে যেতে দিতে পারি না।’’

বস্তুত, আকবর প্রসঙ্গে হিরন্ময় নীরবতা পালন করেছে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দূরের কথা, অন্য নেতারাও একটি শব্দ খরচ করেননি আকবর প্রসঙ্গে। অথচ মি_টু ঝড় ওঠার পরে, একের পর এক যৌন হেনস্থার ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরে, বেশ কয়েক জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীই অভিযোগকারিণীদের সমর্থনে দুঃখপ্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবারই স্মৃতি ইরানি বলেন, “এ বিষয়ে যাঁরা মুখ খুলছেন, তাঁদের কোনও ভাবে অবিশ্বাস করা বা ব্যঙ্গ করা ঠিক নয়।” এমজে আকবরের প্রসঙ্গে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমি তো ঘটনাস্থলগুলোয় ছিলাম না, তাই বলতে পারব না কিছু। এ বিষয়ে উনিই সব চেয়ে ভাল উত্তর দিতে পারবেন।”

অভিযোগের জবাব হিসেবে যে পাল্টা বিবৃতি আকবর দিয়েছিলেন, তাতেই নাম করেছিলেন গাজ়ালা ওয়াহাব, প্রিয়া রামানি, সুতপা পালদের। তাঁর বক্তব্য, ‘‘কোনও প্রমাণ ছাড়াই অভিযোগ তোলাটা ভাইরাল জ্বরের মতো ছড়িয়ে পড়েছে একটি অংশের মধ্যে। মিথ্যার কোনও পা থাকে না, কিন্তু সে বিষ বহন করে। এটা অত্যন্ত মর্মান্তিক ব্যাপার। আমি যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেব।’’ তাঁর ভাবমূর্তি নষ্টেরও অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি।

প্রিয়া রামানি এই প্রচার শুরু করেছিলেন বলে উল্লেখ করে আকবর বলেন, ‘‘তিনি আমার নাম নেননি। কেন নেননি, জানতে চাওয়ায় টুইটারে লিখেছিলেন, আমি নাকি কিছু করিনি। তা হলে তো গল্পটাই দাঁড়াচ্ছে না। অঞ্জু ভারতী নামে এক মহিলা বলেছেন, আমি সুইমিং পুলে পার্টি করছিলাম। তাজ্জব ব্যাপার হল, আমি সাঁতারই জানি না!’’ গাজ়ালা ওয়াহাবের অভিযোগের উত্তরে আকবরের বক্তব্য, যখনকার কথা বলা হচ্ছে, সেই সময়ে সংশ্লিষ্ট সংবাদপত্রের অফিসে তাঁর একটি ছোট্ট কিউবকল ছিল। প্লাইউড এবং কাচ দিয়ে ঘেরা। তার দু’ফুট দূরেই চেয়ার-টেবিলে অন্য সাংবাদিকেরা বসতেন। বিদেশ প্রতিমন্ত্রীর কথায়, ‘‘এটা বিশ্বাস করা খুবই কঠিন যে, ওইটুকু ছোট্ট ঘরে এত কিছু ঘটত এবং আশেপাশের কেউ টেরই পেতেন না। তা-ও আবার ভরা কাজের সময়ে! এই সব অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’’

You might also like