Latest News

ওঁর শেষযাত্রায় ছিলাম… কার কথা বলতে গিয়ে চোখ ছলছল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২২ বছর কেটে গেছে। কিন্তু আজও কফিনবন্দি দেহটার কথা মনে পড়লে চোখ ছলছল করে ওঠে এই এলাকার বাসিন্দাদের। কেউ কেউ বলেন, ‘যারা বাঙালিদের ভীতু বলে, তাঁদের কারগিল যুদ্ধে প্রথম বাঙালি শহিদ কণাদ ভট্টাচার্যের (Kanad Bhattacharya) নাম বলবেন।’

১৯৯৯ সালের ২১ মে’র বিকেলের পর থেকেই সেনাবাহিনীর শিখ রেজিমেন্টের ক্যাপ্টেন কণাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। দু’মাস পর খবর আসে বরফের নিচে পাওয়া প্রায় ছ’ফুট লম্বা, ২৪ বছরের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়া দেহ। ১৭ জুলাই সন্ধ্যায় কফিনবন্দি হয়ে কলকাতায় (Kolkata) ফেরে কণাদের দেহ।

Image - ওঁর শেষযাত্রায় ছিলাম... কার কথা বলতে গিয়ে চোখ ছলছল

বরাহনগর ও টালায় প্রতিবছরই কারগিল দিবস ও অগাস্ট মাসে একাধিক কর্মসূচি নেওয়া হয়। এদিনও বরাহনগরের প্রগতি সঙ্ঘ সকালে শহিদ কণাদ ভট্টাচার্যের মূর্তিতে মাল্যদান করে তাঁকে স্মরণ করেছে। অগস্ট মাসে তাঁর নামে ফুটবল টুর্নামেন্ট হবে।

তবে ছেলে যুদ্ধে শহিদ হওয়ার চারবছরের মাথায় বাবা কমলাকান্ত ভট্টাচার্য মারা যান। তারপর থেকে কণাদের মা পূর্ণিমাদেবী দিল্লিতে দুই মেয়ে পূর্বা ও জবার কাছেই থাকেন। মাঝেমধ্যে আসেন। একথা জানালেন তাঁদের ফ্ল্যাটের কেয়ারটেকার গোবিন্দ দাস। তিনি বললেন, ‘ওইদিনের কথা আজও মনে আছে। কফিনবন্দী দেহ আসে এখানে। হাজার হাজার লোকের ভিড় জমে। ছেলে চলে যাওয়ার পর মেয়েরা মাকে একা থাকতে দেয় না। বেশিরভাগ সময়ই উনি দিল্লি থাকেন। এখানে এলে আর্মির বড় অফিসাররা দেখা করতে আসেন ওঁর মায়ের সঙ্গে।’

কণাদের স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছে ‘টালা ফ্রেন্ডস অ্যাসোসিয়েশন’ও। সেই ক্লাবেই ক্যারাটে শিখে ব্ল্যাক-বেল্ট হয়েছিলেন কণাদ। ক্লাবের সামনে রাস্তায় বসানো ছিল শহিদবেদী। কিন্তু টালা ব্রিজের কাজের জন্য ওই বেদী ভাঙা পড়েছে। মূর্তিটি সযত্নে রাখা আছে। ব্রিজের কাজ মিটলেই তা ফের বসিয়ে দেওয়া হবে। ক্লাবঘর থেকে গ্রন্থাগার— সবই প্রাক্তন সদস্যের নামে।

‘প্রতি বছর অগস্টে ওঁর জন্মদিন পালন করি। বাসস্টপও ওঁর ছবিতে সাজানো হয়। এবছরও ৬ আগস্ট ওঁর প্রতি শ্রদ্ধায় আমরা রক্তদান শিবিরের আয়োজন করব।’, বলছিলেন কণাদের ছোটবেলার বন্ধু অমিত দাস। তাঁর কথায়, ‘জন্ম থেকে মামার বাড়িতেই বেড়ে ওঠা জয়পুরিয়া কলেজের ছাত্র কণাদের। আমরা ডাকতাম বাবু, ওঁর ডাকনামে।’

শহিদ বন্ধুকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এতবছর পরও চোখ ছলছল করছিল অমিতবাবুর। একপর্যায়ে আর কান্না চেপে রাখতে পারলেন না। একটু সামলে নিয়ে বললেন, ‘আমরা ওঁর শেষ যাত্রায় ছিলাম। আমরা গর্বিত।’

তিনি জানালেন, পয়েন্ট টাইগার হিল কার্গিল সীমান্তে তখন অস্থিরতা। দ্রাস সেক্টরে সন্ধের সময় খবর আসে, টাইগার হিলে দখল হয়ে যাওয়া ভারতীয় সেনাবাহিনীর ক্যাম্প পুনরুদ্ধার করতে হবে৷ ওই লড়াইয়ের শহিদ হয় বাবু। প্রায় দু’মাস পর বরফের মধ্যে থেকে ওর মৃত শরীর উদ্ধার করে ভারতীয় সেনাবাহিনী।’

ভারতীয় সেনার শিখ রেজিমেন্টের লেফটেন্যান্ট কণাদ ভট্টাচার্যর নাম বরাহনগর ও টালা এলাকায় জানেন না, এরকম মানুষ নেই বললেই চলে। কেউ ভোলেনি এই কারগিল শহিদকে। তাঁর নামে আছে বাসস্টপ, শহিদবেদী। কারণ আগুনের আর এক নাম কণাদ ভট্টাচার্য।

জানেন কি সনিয়া, রাহুলদের ইডি কেন ডাকছে, যে কারণে ডাকতে পারে আপনাকেও

You might also like