Latest News

ডাক্তার হতে কোটার সাহায্য লাগবে না অধিকাংশ তফসিলি পড়ুয়ার, বলছে নিটের রেজাল্ট

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেডিকেল এন্ট্রান্স পরীক্ষা নিট (NEET) ২০২১-এর আন্ডারগ্র্যাজুয়েটের রেজাল্ট বেরিয়েছে সোমবার। আর তাতেই দেখা গেছে দুর্দান্ত ফল করেছেন তফসিলি জাতি, উপজাতিভুক্ত পড়ুয়ারা। অধিংকাংশই জেনারেল কাস্টের জন্য প্রয়োজনীয় কাট-অফ নম্বর পেয়েছেন হাসতে হাসতে। তাঁদের কোটার সাহায্য দরকারই হবে না।

দেখা গেছে এবারের মোট নিট পরীক্ষার্থীর মধ্যে তফসিলি জাতি উপজাতিভুক্ত ও অন্যান্য পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ভুক্ত পড়ুয়ারা যাঁরা পাশ করেছেন, তাঁদের তিন চতুর্থাংশ জেনারেল ক্যাটেগরির কাট-অফ নম্বর পেয়েছেন। তাই আগামীদিনে ডাক্তারি পড়ার সময় তাঁদের আর কোটার মাধ্যমে কম কাট-অফ নম্বরের সুবিধার প্রয়োজন হবে না। আর পাঁচটা সাধারণ পড়ুয়ার মতোই ডাক্তারি পড়তে পারবেন এই সমস্ত এসসি, এসটি, ওবিসি বা অন্যান্য সম্প্রদায়ের ছাত্রছাত্রীরা।

নিট পরীক্ষায় জেনারেল ক্যাটেগরির পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট পারসেন্টাইল ছিল ৫০ শতাংশ। ৩.৯৭ লক্ষ ওবিসি পড়ুয়ার মধ্যে ৮৩ শতাংশ, ১.১৪ লক্ষ এসসি পড়ুয়ার মধ্যে ৮০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার এসটি পড়ুয়ার মধ্যে ৭৭ শতাংশের বেশি নির্ধারিত ৫০ পারসেন্টাইল পেয়েছেন অনায়াসেই।

সফল পরীক্ষার্থীদের এবার কাউন্সেলিংয়ের জন্য ডাকা হবে। এমবিবিএসে ৭৫ হাজার এবং বিডিএসে মোট ২৫ হাজার আসন রয়েছে। নিট পরীক্ষায় পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের পড়ুয়াদের এমন চমকপ্রদ ফল অনেক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করছেন, আরও যত্ন নিয়ে যদি পড়াশোনা করতে পারতেন এই সমস্ত পড়ুয়ারা, তবে আরও অনেকগুণ ভাল ফল তাঁদের থেকে পাওয়া যেত। গ্রামগঞ্জ থেকে যে সমস্ত পড়ুয়া নিট পরীক্ষা দিয়েছেন, তাঁরা যথেষ্ট সহযোগিতা পাননি। সরকারকে তাই তফসিলি জাতি, উপজাতির পড়ুয়াদের প্রতি আরও বেশি করে নজর দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এই খাতে আরও সরকারি বরাদ্দ প্রয়োজন।

পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের পড়ুয়াদের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বড় বড় কোচিং সেন্টারে পড়ার সুযোগ থাকে না। ডাক্তারি পড়ার উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, সাহায্যও তাঁরা পান না। দেশের ৬৭.০৭ শতাংশ পড়ুয়াই গ্রামে থাকেন। ছোট থেকে পড়াশোনা করেন মাতৃভাষায়। তা সত্ত্বেও নিটের মতো কঠিন পরীক্ষায় এত ভাল ফল তারা করেছেন। বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন, কেন্দ্র সরকার যখন ‘এক দেশ এক রেশন কার্ড’ চালু করছে, তবে ‘এক দেশ এক সিলেবাস’ নয় কেন? পড়াশোনা সকলের জন্য সমান হলে, তবেই নিটের মতো সর্বভারতীয় পরীক্ষাতেও প্রতিযোগিতা হবে সমানে সমানে।

এবছর নিটের জন্য ১৬.১৪ লক্ষ পড়ুয়া রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৫.৪৪ লক্ষ পড়ুয়া পরীক্ষায় বসেছেন, পাশ করেছেন ৮.৭ লক্ষ। যাঁরা ১৩৮ থেকে ৭২০-র মধ্যে নম্বর পেয়েছেন, তাঁদের জেনারেল মেরিট ক্যাটেগরিতে রাখা হয়েছে। তফসিলি জাতি উপজাতিভুক্ত পড়ুয়াদের জন্য নির্ধারিত কাট-অফ নম্বর ১০৮।

You might also like