Latest News

উত্তরপ্রদেশে বজ্রপাতে মৃত প্রায় ৪০, শুধু প্রয়াগরাজেই ১৪ জন

দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত রবিবার প্রবল বৃষ্টি হয় উত্তরপ্রদেশে। সেই সময় বজ্রপাতে মৃত্যু হয় ৩৭ জনের। তাদের মধ্যে বেশিরভাগ নারী ও শিশু। শুধুমাত্র প্রয়াগরাজ জেলাতেই মারা গিয়েছে ১৪ জন। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ঘোষণা করেছেন, মৃতদের পরিবার পিছু ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। তাছাড়া ঝড়বৃষ্টিতে যাঁদের গবাদি পশু মারা গিয়েছে, তাঁরাও ক্ষতিপূরণ পাবেন।

বজ্রপাতে গ্রামীণ এলাকাতেই মৃত্যু হয়েছে বেশি। কানপুর ও ফতেপুর জেলায় পাঁচজন করে মারা গিয়েছেন। কৌশাম্বিতে মারা গিয়েছেন চারজন। ফিরোজাবাদ, উন্নাও এবং রায়বেরিলিতে মারা গিয়েছেন দু’জন করে। হরদোই এবং ঝাঁসিতে একজন করে মারা গিয়েছেন।

শনিবার উত্তরপ্রদেশ ও রাজস্থানে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত হয়। দিল্লিতে আবহাওয়া অফিস থেকে জানানো হয়েছে, আগামী কয়েকদিনে দিল্লি, পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও রাজস্থানের কোনও কোনও অঞ্চলে পৌঁছবে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু। তার প্রভাবে ওই সব অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

এর মধ্যে জানা গিয়েছে, ঘন ঘন বজ্রপাতের মধ্যে সেলফি তুলতে গিয়ে জয়পুরে মারা গিয়েছেন ১১ জন। রবিবার সন্ধে নাগাদ জনা ৫০ ভিড় করেছিলেন দ্বাদশ শতাব্দীতে তৈরি প্রাচীন আমেঢ় প্যালেসে। ওয়াচ টাওয়ারেই ছিলেন প্রায় ৩০ জন। হঠাত্‍ই শুরু হয় তুমুল বাজ পড়া। প্রথমে অনেকেই গা করেননি। কিন্তু মুহুর্মুহু বাজ পড়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন অনেকেই। এর মধ্যেই লুটিয়ে পড়তে থাকেন ওয়াচ টাওয়ারে থাকা বেশ কয়েকজন। আতঙ্কিত হয়ে বাকিরা ঝাঁপ দিতে শুরু করেন। উঁচু থেকে পড়ে প্যালেসের দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে অনেকে জখম হন। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

রবিবার বজ্রপাতে রাজস্থানে মারা গিয়েছেন মোট ২০ জন। তাদের বেশিরভাগই শিশু। জয়পুর ছাড়া বারান এবং ঝালাওয়ারে মৃত্যু হয়েছে দুজনের। কোটায় মৃতের সংখ্যা চার এবং ধলপুরে তিন জন। আমেঢ় প্যালেসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলোট ঘোষণা করেছেন, মৃতদের পরিবারকে পাঁচ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অফিস থেকে টুইট করে বলা হয়েছে, রাজস্থানের নানা জায়গায় বাজ পড়ে অনেকে মারা গিয়েছেন। ওই ঘটনা গভীর দুঃখজনক। মৃতদের আত্মীয়দের সহানুভূতি জানাই।

বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ।

You might also like