Latest News

এয়ারপোর্টে স্ক্রিনিং এড়িয়ে পলাতক বৃদ্ধ বিমানযাত্রী, পরে খুঁজে বার করে কোয়ারান্টাইন

দ্য ওয়াল ব্যুরো : কাজাখস্তান থেকে বিমানে দিল্লিতে এসেছিলেন ৭২ বছরের এক বৃদ্ধ। ইন্দিরা গান্ধী ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে নেমে করোনা টেস্ট না করিয়েই তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। পরে তাঁকে পুলিশ খুঁজে বার করে। বৃদ্ধ ছিলেন গাজিয়াবাদে। তাঁকে ১৪ দিনের কোয়ারান্টাইনে রাখা হয়েছে। রবিবার এখবর জানিয়েছে পুলিশ।

বৃদ্ধের নাম হরজিৎ সিং। তাঁর বাড়ি দিলশাদ গার্ডেনে। শনিবার কাজাখস্তানের আলামাতি থেকে এ ওয়ান ১৯১৬ বিমানে চড়ে তিনি দিল্লিতে আসেন। টার্মিলান থ্রিতে স্ক্রিনিং হলের মধ্যে দিয়ে যাত্রীরা বিমানবন্দরের বাইরে বেরোচ্ছিলেন। কিন্তু হরজিৎ স্ক্রিনিং হলের এন্ট্রি গেট থেকে উধাও হয়ে যান। যমুনা বিহার সাব ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেটের পক্ষ থেকে পুলিশকে একথা জানানো হয়। পুলিশের বক্তব্য, হরজিৎ ইচ্ছা করে স্ক্রিনিং এড়িয়ে গিয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের স্পষ্ট নির্দেশ আছে, কেউ যদি করোনা পরীক্ষা এড়িয়ে যান, তাঁকে ১৪ দিন কোয়ারান্টাইনে থাকতে হবে।

ওই বৃদ্ধের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির এপিডেমিক অ্যাক্টের নানা ধারায় অভিযোগ করা হয়েছে। তদন্ত করে দেখা গিয়েছে, তিনি বিমানবন্দরে নিজের যে মোবাইল নম্বর ও বাড়ির ঠিকানা দিয়েছিলেন, তা যথাযথ নয়। এয়ারপোর্টের সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা যায়, হরদীপ গাড়ি চড়ে পালাচ্ছেন।

গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নাম্বার ও ইলেকট্রনিক সার্ভেলিয়েন্সের মাধ্যমে জানা যায়, হরদীপ গিয়েছেন গাজিয়াবাদের ইন্ডিয়াপুরমে। তাঁকে আপাত্ত ১৪ দিন হোম কোয়ারান্টাইনে থাকতে হবে।

দেশের যে শহরগুলিতে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের অন্যতম দিল্লি। প্রতিদিন সেখানে তিন হাজারের বেশি মানুষ কোভিড ১৯ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

সেইসঙ্গে অবশ্য সুস্থ হয়ে ওঠা মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে দিল্লিতে। শনিবার নতুন করে ২২০০ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন বলে খবর। এর ফলে মোট সুস্থ হয়ে ওঠা মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯,৩০১। অর্থাৎ রাজধানীতে করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার হার ৬১ শতাংশ। এই মুহূর্তে দিল্লিতে অ্যাকটিভ করোনা রোগীর সংখ্যা ২৮,৩২৯।

দিল্লিতে শনিবার থেকে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যাও বেড়েছে। শনিবার ১৯ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে রাজধানীতে। এখনও পর্যন্ত দিল্লিতে মোট ৪,৭৮,৩৩৬টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে বলেই জানিয়েছে স্বাস্থ্য দফতরের বুলেটিন।

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল জানান, করোনা রোগীদের জন্য দিল্লিতে প্লাজমা থেরাপি চালু হয়েছে। এছাড়া টেস্টিং-এর সংখ্যাও বেড়েছে। এখন রাজধানীতে রোজ ২০ হাজার লোকের পরীক্ষা হচ্ছে। দক্ষিণ দিল্লির এক অস্থায়ী কোভিড সেন্টারে ২ হাজার বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া রাধা-স্বামী স্পিরিচুয়াল সেন্টারে সাড়ে ১২ লক্ষ বর্গ ফুট জায়গা জুড়ে ১০ হাজার বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কয়েকটি হোটেল ও ব্যাংকোয়েট রুমকেও করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য অধিগ্রহণ করেছে সরকার। সব মিলিয়ে দিল্লিতে করোনা রোগীদের জন্য ১৩ হাজার ৫০০ বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

You might also like