Latest News

বেতন ৭ হাজার, আয়করের নোটিশ এল ১৩৪ কোটির, হতবাক যুবক

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেতন আয়করের আওতায় পড়ে না। অথচ কোটি কোটি টাকার কর ফাঁকির নোটিশ আসছে তাঁর নামে। হতবাক যুবক নিজেই ব্যাপারটা খতিয়ে দেখা শুরু করেন।  সামনে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

মধ্যপ্রদেশের ভিন্দ জেলার বাসিন্দা ২৯ বছরের রবি গুপ্তর দাবি, ব্যাঙ্ক জালিয়াতির বড়সড় কোনও ঘটনা জড়িয়ে রয়েছে এর সঙ্গে। তাঁর প্যান নম্বর থেকে মুম্বইয়ের একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের শাখায় এমন একটি ভুয়ো অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে যার মারফত কোটি কোটি টাকার লেনদেন চলছে।

যুবক জানিয়েছেন তাঁর বেতন খুবই সামান্য। আয়করের নোটিশে ২০১১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যে সময়টার উল্লেখ করা হয়েছে, সেই সময় তাঁর বেতন ছিল সাত হাজার টাকা যা আয়করের আওতায় পড়ে না। অথচ তাঁর নামে খোলা অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ১৩৪ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়কর দফতরের কর্তারা। রবি বলেছেন, গত বছর মার্চে প্রথম নোটিশ আসে তাঁর কাছে। তবে আমল দেননি তিনি। জুলাইতে ফের কড়া চিঠি পাঠানো হলে টনক নড়ে।

“আয়কর দফতরের কর্তাদের সঙ্গে কথা বলে লাভ হয়নি। আইটি সেলেও ব্যাপারটা জানাই। তাঁরাও বিশ্বাস করেননি। আমাকে বলা হয়েছিল সম্পত্তি বেচে কর দিতে হবে,” অভিযোগ রবি গুপ্তর। বলেছেন, এরপর নিজেই তদন্তে নামেন তিনি। মুম্বইয়ের যে বেসরকারি ব্যাঙ্কের শাখায় ভুয়ো অ্যাকাউন্ট থেকে কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, তাঁর প্যান কার্ড সেই ব্যাঙ্কেরই। যুবকের দাবি, গুজরাটের কোনও হিরে বিক্রেতা সংস্থার মাধ্যমে ওই টাকার লেনদেন হয়েছিল। রবির দাবি, এই লেনদেনের পিছনে ব্যাঙ্ক প্রতারণায় অভিযুক্ত মেহুল চোক্সী ও তাঁর ভাইপো নীরব মোদীর সংস্থার যোগসূত্র থাকতে পারে।

পিএনবি থেকে প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঋণ নিয়ে ফেরত না দিয়ে ২০১৮ সালের গোড়াতেই ভারত ছেড়ে পালিয়ে যান দুই হিরে ব্যবসায়ী নীরব মোদী ও তাঁর মামা মেহুল চোক্সী। তার পরই এ নিয়ে সারা দেশ তোলপাড় হয়।  পিএনবির ভুয়ো লেটার অব আন্ডারটেকিং জমা দিয়ে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে নীরব মোদী, মেহুল চোক্সী এবং তাঁদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে।  তদন্তে ইডি ও আয়কর দফতরের তরফে জানানো হয়, পিএনবির ১১,৪০০ কোটি টাকা সরাতে দেশ-বিদেশে ২০০টি বেনামি সংস্থাকে ব্যবহার করা হয়েছে।  দুর্নীতির শিকড় জড়িয়ে রয়েছে দেশের ভিতরেই।

যুবকের দাবি, তাঁর নামে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট খুলে কোটি টাকার লেনদেনের পিছনে সেই চক্রই কাজ করেছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখছেন আয়কর ও ইডির কর্তারা।

You might also like