Latest News

Mamata TMC Rebel: দলের হার, দিদির জয়, বলছেন তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ বিজয়ীরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো

বাংলার পুরভোটে (Municipal Election) তৃণমূল (TMC) শুধু বিপুল সাফল্য পেয়েছে তাই নয়, জোড়াফুলের বিক্ষুব্ধদের কাছেও হার হয়েছে বাম, কংগ্রেস, বিজেপির। পুরভোটে মোট ১১৯টি ওয়ার্ডে জিতে নির্দলরাই উঠে এসেছে দ্বিতীয়স্থানে। রাজ্যের (West Bengal) তো বটেই, গোটা দেশেই এই ঘটনা বিরল!

কিছু পুরসভায় বোর্ড গঠনে নির্দলরাই শেষ কথা বলার জায়গায় রয়েছে। কার্যত নির্দল জয়ের সুনামিতেই বিজেপি নেমেছে তৃতীয়স্থানে। তারপরেই রয়েছে কংগ্রেস। পাঁচ নম্বরে রয়েছে সিপিএম।

এই নির্দলদের মধ্যে ৯৯ শতাংশ প্রার্থীই তৃণমূলের। হয় তাঁরা প্রাক্তন কাউন্সিলর। নয়ত তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী। জোড়াফুলের প্রার্থীকে হারিয়ে দিয়ে তারা বলছেন, আমরা নিছকই প্রার্থী। মানুষ ভোট দিয়েছেন দিদিকে। দিদির প্রকল্পগুলি মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েই তো আমরা বাজিমাৎ করেছি।

ডালখোলায় জয়ী তৃণমূলের এক বিক্ষুব্ধ প্রার্থী ছিলেন কৈলাশ সাহা। সবুজ ঝড়ের মধ্যে যেন মানুষ তাঁদের বেছে নিল? কী মনে করছেন তিনি?

দ্য ওয়াল -কে তিনি টেলিফোনে বলেন, আমি ২০১৩ থেকে তৃণমূলের হয়ে মানুষের পাশে আছি দিনরাত। আমার পুঁজি দিদির প্রকল্পগুলি। স্বাস্থ্যসাথী, দুয়ারে সরকার, পাড়ায় সমাধানের মত কর্মসূচিগুলি আমি মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দিয়েছি। আমি দলের টিকিট না পেলেও মানুষ আসলে দিদিকেই ভোট দিয়েছেন।

ডালখোলাতেই তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ হিসাবে জয়ী হয়েছেন ইতি করণ। তাঁর স্বামী অশ্বিনী করণ বলেন, আমরা তো দিদির (Mamata Banerjee) নামেই ভোট চেয়েছি। রাজ্য সরকারের প্রকল্পগুলি মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলাম বলেই মানুষ আমাদের ভোট দিয়েছেন। আমাদের জয় আসলে দিদির প্রতিই মানুষের আস্থা।

Post Poll Violence: বাঁকুড়ায় বিজয় মিছিলকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার, হাতাহাতিতে জড়াল নির্দল ও তৃণমূল

তৃণমূলের নির্দলদের কাছে বিরোধী দলগুলির হার নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন,।বিক্ষুব্ধ প্রার্থী একদিকে যেমন তৃণমূলে ক্ষমতার লড়াইয়ের নজির, আবার তাদের বিপুল জয়ে একটা বিষয় পরিষ্কার, মানুষের যোগাযোগ রক্ষায় তাঁরা অনেক এগিয়ে। তা না হলে কী করে তৃণমূলের সবজ ঝড়ের মধ্যেও মানুষ শাসক দলের নির্দলদেরই বেছে নিল? অনেকেই মনে করছেন, বিরোধীদের এই বিষয়ে নিজেদের দুর্বলতা নিয়ে ভাবনা চিন্তা করতে হবে।

এক বিক্ষুব্ধ বিজয়ী প্রার্থীর বক্তব্য, ‘আমি দিদির ডেলিভারি বয়। দিদি যা দিয়েছেন, আমি মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। তাই নির্দল প্রার্থী হওয়ার পরও লোকে আমায় মনে রেখেছে।

বাঁকুড়ায় তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ হিসাবে জিতেছেন দিলীপ আগরওয়াল এবং অনন্যা রায়। দুজনেই বলেন, আমরা তৃণমূলের টিকিট না পেলে কী হবে, ভোটে লড়েছি দিদির প্রার্থী হয়ে। মানুষের বিপদে আপদে ছিলাম দিদির প্রকল্পগুলিকে পুঁজি করেই।

হুগলির কোন্নগর পুরসভায় তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ প্রার্থী ছিলেন বাবলু পাল। তাঁর কথায়, মমতাদি জন্ম থেকে মৃত্যু, মানুষের পাশে থাকার নানা প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। উনি বিরোধী নেত্রী থাকার সময়ও এই ভাবেই মানুষের পাশে থেকেছেন। আমিও তাঁকেই অনুসরণ করে রাজনীতি করি। টিকিট না পেয়ে প্রার্থী হয়ে বিপুল ভোটে জিতে প্রমাণ করেছি, মানুষের পাশে থাকলে মানুষও পাশে থাকে। তাঁর কথায়, করোনার সময় কারা মানুষের পাশে ছিল তার হিসাব মানুষ ভোটের সময় করেছে।

You might also like