Latest News

পার্থ নন অনুব্রত, কেষ্টর হয়ে ময়দানে লড়বেন তিনিও, বুঝিয়ে দিলেন মমতা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিক্ষক নিয়োগে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে (Partha Chatterjee) ইডি (ED) গ্রেফতারের সাতদিনের মাথায় তাঁর মন্ত্রিত্ব কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি পার্টির মহাসচিবকে দল থেকেও তাড়িয়ে দেয় তৃণমূল (Mamata Banerjee Anubrata)।

গরু চুরির মামলায় সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হওয়া বীরভূমের তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে নিয়ে তিনদিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিলেন দলনেত্রী। তবে সম্পূর্ণ উল্টো অবস্থান। বুঝিয়ে দিলেন, পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও অনুব্রত মণ্ডলকে একই বন্ধনীতে রাখছেন না তিনি।

কাল যদি আমার বাড়িতে যায়, রাস্তায় নামবেন তো? দলের সভায় প্রশ্ন মমতার

অনুব্রতর গ্রেফতারির দিন তৃণমূল ভবনের সাংবাদিক বৈঠকে দলের দুই মুখপাত্র চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও সমীর চক্রবর্তীর বক্তব্যের সঙ্গে নেত্রীর আজকের বক্তব্যের প্রায় ১৮০ ডিগ্রি ফারাক। অনুব্রত সম্পর্কে দলের অবস্থান নিয়ে প্রশ্নের জবাবে চন্দ্রিমা ও সমীর দলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে উদ্ধৃত করে দুর্নীতির প্রশ্নে দলের জিরো টলারেন্সের কথা উল্লেখ করে বলেছিলেন, যাঁর লড়াই তাঁকেই লড়তে হবে।

আজ তৃণমূল সুপ্রিমো কিন্তু বুঝিয়ে দিলেন, অনুব্রত ব্যতিক্রম। বীরভূম জেলা সভাপতির হয়ে দলকে নিয়ে ময়দানে রাজনৈতিক লড়াই তিনি লড়বেন। এখন দেখার দল অনুব্রতকে আইনি সহায়তাও দেয় কি না।
তৃণমূলের অন্দরের খবর, পার্থর পর অনুব্রত’র গ্রেফতারি দলকে হঠাৎ করেই চাপে ফেলে দিয়েছে। বিরোধীরা সদলবলে পথে নেমেছে। রোজ সন্ধ্যায় পাড়ায় পাড়ায় মিটিং-মিছিল করছে সিপিএম। নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছে বিজেপি। স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান মিটে যাওয়ার পর আরও বড় আকারের আন্দোলনের পরিকল্পনা করছে বিরোধীরা।

এই পরিস্থিতিতে দলকে প্রতি আক্রমণে নামানোর সিদ্ধান্ত নিলেন নেত্রী। দলের এক প্রবীণ নেতার বক্তব্য, পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং অনুব্রত’র বিরুদ্ধে অভিযোগে গুণগত ফারাকও আছে। অনুব্রতর বাড়ি, অফিসে তল্লাসি করে সিবিআই টাকা-পয়সা কিছু পায়নি। তাঁর দেহরক্ষীর অর্থ অনুব্রতর কিনা সেটা তদন্ত সাপেক্ষ। অন্যদিকে, পার্থর সঙ্গে অর্পিতার সম্পর্ক, দু’জনের যৌথ সম্পত্তির হদিশ ইত্যাদি থেকে স্পষ্ট প্রাক্তন শিক্ষা ও শিল্পমন্ত্রী অনাচার, অনিয়মের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

তাছাড়া দল মনে করছে, গরু, কয়লা চুরির মতো অপরাধ নতুন কোনও ক্রাইম নয়। হঠাৎ করেই তৃণমূলের কিছু নেতা-মন্ত্রীকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে রাজনৈতিক উদ্দেশে। ফলে সিবিআই-ইডি কাউকে অভিযুক্ত করলেই দল পাশ থেকে সরে গেলে আখেরে বিজেপির লাভ। বিপদে দল পাশে থাকে না, এই ধারনা বদ্ধমূল হয়ে গেলে অনেকেই বিজেপির দিকে পা বাড়াতে পারে। এমন অনেক বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করে দলকে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।

You might also like