Latest News

মমতাকে ফের উপেক্ষা মোদীর বৈঠকে, প্রশ্নের মুখে প্রধানমন্ত্রীর জি-২০ নিয়ে যৌথ উদ্যোগ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আড়াই ঘণ্টার বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) শ্রোতা হয়েই থাকতে হল। এমন নয় যে তাঁর কিছু বলার ছিল না। বরং বৈঠকের আয়োজকেরা জানতেন, বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর অনেক পরিকল্পনার কথা বলা আছে। তিনি প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠকে যোগ দিয়েছেন।

কিন্তু শুক্রবার বিকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে জি-২০ (G-20) সম্মেলন নিয়ে দ্বিতীয় প্রস্তুতি বৈঠকে বলতেই দেওয়া হয়নি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বৈঠকে রাজ্যপাল, উপ-রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রী এবং মুখ্যসচিবেরা হাজির ছিলেন। নবান্ন থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেওয়া মুখ্যমন্ত্রী ও মুখ্যসচিবকে প্রয়োজনে তথ্য সরবরাহের জন্য উপস্থিত ছিলেন পদস্থ সচিবেরা। কিন্তু মুখ্যসচিবও রাজ্যের ভাবনার কথা বলার সুযোগ পাননি অনুমতি না মেলায়।

সূত্রের খবর, গতকালের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীকে বলার সুযোগ না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ নবান্ন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা সরকারের তরফে কোনও পদস্থ কর্তা এই বিষয়ে মুখ না খুললেও সরকারি সূত্রের বক্তব্য, রাজ্য সরকারের ক্ষোভের কথা দিল্লির কানে পৌঁছে দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর ডাকা বৈঠকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে না দেওয়ার একাধিক নজির অতীতে আছে। সর্বশেষ নজির গত বছরের গোড়ায় কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য ডাকা ভার্চুয়াল বৈঠক। অভিযোগ করা হয়, বিরোধী দল শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।

গতকালের ঘটনায় জি-২০ সম্মেলন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কেন্দ্র-রাজ্য ও সর্বদলীয় উদ্যোগের বার্তা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। গত ৫ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী দিল্লিতে সর্বদলীয় বৈঠক করেছেন। সেই বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অংশ নেন।

প্রসঙ্গত, ১ ডিসেম্বর থেকে জি-২০’র সভাপতিত্বের ভার ভারত পেয়েছে। আগামী বছর সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ভারতে এই আন্তর্জাতিক মঞ্চের অনুষ্ঠানগুলি। আমেরিকা, রাশিয়া, চিন, গ্রেট ব্রিটেন, কানাডা সহ উন্নত দেশগুলির পাশাপাশি অনের কম উন্নত দেশও এই গোষ্ঠীর সদস্য। ভারত সিদ্ধান্ত করেছে, জি-২০’র সদস্য নয় এমন কিছু বন্ধু স্থানীয় রাষ্ট্রকেও আমন্ত্রণ জানানো হবে।

৫ ডিসেম্বরের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের নানাপ্রান্তে রাষ্ট্রপ্রধানদের উপস্থিতিতে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। উন্নত ভারতকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরাই তাঁর লক্ষ্য। এ জন্য সব রাজ্য সরকার ও দলের সহযোগিতা তিনি প্রার্থনা করেন।

ওয়াকিবহালমহলের মতে, গতকালের বৈঠকের পরিবেশ ছিল প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানের বিপরীত। পূর্বাঞ্চলের প্রধান রাজ্য হিসাবে কলকাতা-সহ রাজ্যের নানা জায়গায় অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা করেছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী এ জন্য অফিসারদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন। নবান্নের ভাবনা দার্জিলিং-সহ উত্তরবঙ্গের কিছু জায়গায় বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের নিয়ে যাওয়া। বাংলাও চেষ্টা চালাবে, এই সুযোগে রাজ্যকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে। কিন্তু গতকালের বৈঠকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্যসচিব, কেউই বলার সুযোগ পাননি। শ্রোতা হয়েই তাঁদের কাটাতে হয়েছে আড়াই ঘণ্টা।

মেসির এই মেজাজ দেখেছেন কি? হল্যান্ডকে হারানোর পর কার উপর চেঁচিয়ে উঠলেন লিও

You might also like