Latest News

‘সাংঘাতিক কেস’ ছাড়া ১৩৬ জন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দিকে ছাড়ছে নবান্ন, বললেন মুখ্যমন্ত্রী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিড আবহে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বেশ কিছু বন্দিদের সাময়িক মুক্তির কথা আগেই জানিয়েছিল নবান্ন। এবার সেই সংখ্যা আরও খানিক বাড়িয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আরও ৭৩ জনকে ছেড়ে দেওয়ার কথা জানালেন তিনি।

এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে নবান্নের তরফে জানানো হয়েছিল কোভিড আবহে ৬৩ জন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের সাময়িক মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁরা যাতে পরিবারের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটাতে পারেন তাই এই মানবিক সিদ্ধান্ত। এদিন নবান্ন থেকে সাংবাদিক সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বিবেচনা করে আরও ৭৩ জন বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে দু-একটা ‘সাংঘাতিক কেস’ ব্যতিক্রম।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দু-একটা সাংঘাতিক কেস আছে, যেগুলোতে হয়তো কোনও অবজেকশন রয়েছে। স্টেট সেনটেনস রিভিউ বোর্ড তাই সেগুলো ছাড়তে পারেনি। তাছাড়া বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।

আগে ৬৩ এবং এখন আরও ৭৩ জন, অর্থাৎ মোট ১৩৬ জন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দি মুক্তি পাচ্ছেন।

আজকের ৭৩ জনের মধ্যে ৬৬ জন রয়েছেন পুরুষ, এবং বাকি সাত জন মহিলা। অধিকাংশই বয়স্ক। পুরুষরা প্রায় প্রত্যেকেই ষাটোর্ধ্ব। আর মহিলা বন্দিদের বয়স ৫৫-র বেশি।

আগের দিন যে ৬৩ জনকে মুক্তি দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল তাতে ৬১জন ছিলেন পুরুষ, ২ জন মহিলা।

১৯৭৩ সালের বন্দি ক্ষমতায়ন আইন অনুযায়ী মহামারী পরিস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, এই বন্দিরা আপাতত পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন। তবে নির্দিষ্ট মানদণ্ড বেঁধেই এই সাময়িক মুক্তি কার্যকর করা হচ্ছে। তা হল, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত যে বন্দিদের ইতিমধ্যেই ১৪ বছর সংশোধনাগারে থাকা হয়ে গিয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রেই এই সাময়িক মুক্তি কার্যকর হবে। জেল থেকে এই বন্দিদের বাড়িতেই যেতে হবে এবং পরিবারের সঙ্গেই থাকতে হবে। অন্য  কোথাও থাকতে বা যেতে পারবেন না।

কোভিড পরিস্থিতির গোড়াতেই জেলবন্দিদের ক্ষেত্রে বিশেষ পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের শীর্ষ আদালত বলেছিল, যে বন্দিদের জেলের বদলে বাড়িতে রাখা সম্ভব তাদের ক্ষেত্রে তাই যেন করা হয়। জেলের ভিতর সংক্রমণ রুখতেই সেই নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট।

You might also like