Latest News

নতুন সাত-আট মুখ আসতে পারে মন্ত্রিসভায়, রদবদলে কারা বাদ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার দুপুরে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) জানিয়ে দিয়েছেন, বুধবার বিকেলে তাঁর মন্ত্রিসভায় ছোট রদবদল করবেন তিনি। সেই রদবদলে বর্তমান মন্ত্রিসভা থেকে চার পাঁচ জন বাদ পড়তে পারেন। পরিবর্তে মন্ত্রিসভায় আসবেন পাঁচ থেকে ছয় জন।

এখন কৌতূহলের প্রধান বিষয় হল, মন্ত্রিসভা (Cabinet Change) থেকে কারা বাদ পড়তে পারেন। আর কাদেরই বা ভাগ্যে শিঁকে ছিড়তে চলেছে?

এ প্রশ্নের উত্তর সন্ধানের আগে একটা কথা বিধিবদ্ধ ভাবেই জানিয়ে রাখা ভাল। তা হল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শেষমেশ কী করবেন, তা এ ধরনের ক্ষেত্রে আগাম সবটা কখনও জানা সম্ভব হয় না। দিদি খুবই গোপনীয়তা বজায় রাখেন। তবে দলের শীর্ষ স্তরে কারও কারও সঙ্গে তিনি অবশ্যই আলোচনা করেন। সেখান থেকে কিছু খবর চুঁইয়ে বাইরে আসে। তা ছাড়া পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপট থেকেও অনেক সময়ে মোটামুটি একটা ধারণা পাওয়া যায়।

সেই প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতি বিবেচনা করলে দেখা যাবে বর্তমান মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন সৌমেন মহাপাত্র। তিনি এখন সেচ মন্ত্রী। তাঁকে পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক সাংগঠনিক জেলার সভাপতি করা হয়েছে। তৃণমূলের একটি সূত্রের মতে, সেই কারণেই মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন সৌমেন। কারণ, জেলা স্তরে অন্তত এক ব্যক্তি এক পদ সূত্রের বাস্তবায়ন শুরু করে দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এ ছাড়া মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারী। স্কুল সার্ভিস কেলেঙ্কারিতে তাঁর বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ রয়েছে।

একুশের বিধানসভা ভোটের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে মন্ত্রিসভা গঠন করেছিলেন, তাতে এখন তিনটি শূন্য পদ রয়েছে। সুব্রত মুখোপাধ্যায় ও সাধন পান্ডে মারা গিয়েছেন। আর পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে দিদি ক্যাবিনেট থেকে বরখাস্ত করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানিয়েছেন, বর্তমান ক্যাবিনেট থেকে চার-পাঁচ জন বাদ যাবেন। যার অর্থ হল, নতুন সাত থেকে আট জনকে মন্ত্রিসভায় আনা হবে।

এখন প্রশ্ন হল, মন্ত্রিসভায় নতুন কারা আসতে পারেন?

সোমবার জেলা স্তরে যে সাংগঠনিক রদবদল করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাতে অনেকেরই ধারণা হুগলি জেলার সদ্য প্রাক্তন সভাপতি স্নেহাশিস চক্রবর্তীকে মন্ত্রী করা হতে পারে। স্নেহাশিসের ভাবমূর্তি পরিচ্ছন্ন। তা ছাড়া এলাকায় জনপ্রিয়তাও রয়েছে তাঁর।

পাশাপাশি মন্ত্রী করা হতে পারে বাবুল সুপ্রিয়কে। আসানসোলের বিজেপি সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন বাবুল। বালিগঞ্জের মতো শহুরে বিধানসভা আসন থেকে জয়ী হয়েছেন তিনি। তবে বাবুল যেহেতু সিটিং এমপি ছিলেন তাই তাঁর পুনর্বাসন প্রাপ্য বলেই অনেকের মত। তা ছাড়া তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন বলে পরিচিত। বাবুলকে পূর্ণ মন্ত্রী বা স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী করা হতে পারে।

তৃণমূল সূত্রের মতে, পরেশ অধিকারী যদি সত্যিই মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েন তা হলে কপাল খুলতে পারে উদয়ন গুহর। এবার বিধানসভা ভোটে কোচবিহারের দিনহাটা আসনে বিজেপির নিশীথ প্ররামাণিকের কাছে ৫৭ ভোটে পরাস্ত হয়েছিলেন। পরে নিশীথ বিধানসভা থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর ওই আসনেই উপ নির্বাচনে দেড় লক্ষ ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন উদয়ন। তাঁকে এ বার জেলার সাংগঠনিক দায়িত্বেও রাখা হয়নি। ফলে উদয়নকে মন্ত্রী করা হতে বলে মনে করা হচ্ছে।

মন্ত্রিসভার আসন্ন রদবদলে মন্ত্রী করা হতে পারে বরাহনগরের বিধায়ক তথা বিধানসভার উপ মুখ্য সচেতক তাপস রায়কেও। একুশের ভোটের পর তাপসবাবুকে উত্তর কলকাতা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি করা হয়েছিল। কিন্তু তার পর দিদি তাঁকে সরিয়ে ফের সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সেই দায়িত্ব দেন। সোমবার জেলা স্তরে যে রদবদল হয়েছে, তাতেও সুদীপকে ওই পদে রাখা হয়েছে। ফলে তাপস রায়ের মন্ত্রিসভায় আসার সম্ভাবনা প্রবল বলেই মনে করা হচ্ছে। পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণের পর পরিষদীয় দফতরের দায়িত্বও এখন দিদির কাছে রয়েছে। এই দফতরের দায়িত্ব তাপসবাবুকে দেওয়া হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

এদিন জেলা স্তরে যে রদবদল হয়েছে তার সঙ্গে মন্ত্রিসভার রদবদলের তালমিল থাকবে বলেই তৃণমূল সূত্রের দাবি। দেখা যাচ্ছে, ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি পদ থেকে সরানো হয়েছে অভিষেকের আস্থাভাজন পার্থ ভৌমিককে। ফলে পার্থকে এ বার মন্ত্রিসভায় দেখা যাবে বলে অনেকের ধারণা।

তৃণমূলের সংগঠনে ব্যাপক রদবদল, জেলা সভাপতি পদে বহু নতুন মুখ আনলেন মমতা-অভিষেক

You might also like