Latest News

কালীঘাটে মমতা-মুকুল বৈঠক, তার পরই পুরনো দাদার বাড়িতে পার্থ, বালুদের যাওয়ার ধুম!

শোভন চক্রবর্তী

কথায় বলে পুরনো চাল ভাতে বাড়ে! আর পুরনো নেতা?

বাংলায় প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-মুকুল রায়ের (Mukul Roy) রাজনৈতিক রসায়ন কিংবদন্তি ছিল। সেই রসায়নের জোর এখনও কতটা, দেবীপক্ষে তা বেশ স্পষ্ট হয়ে গেল!

সূত্রের খবর, দ্বাদশীর দিন কালীঘাটে (Kalighat) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন মুকুল রায়। আপাত দর্শনে যা মনে হতে পারে স্রেফ বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময়। তবে সেই সাক্ষাৎ তথা বৈঠক (meeting) চলে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে। আরও তাৎপর্যপূর্ণ হল, এ হেন বৈঠক নিয়ে মুকুল রায় বাইরে রা পর্যন্ত কাড়েননি। তিনি দিদির সঙ্গে যদি বিজয়া সারতে যান, তা হলে তা কোনও গোপনীয় বিষয় নয়। কিন্তু তা নিয়েও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে গিয়েছেন পোড় খাওয়া এই নেতা।

Image - কালীঘাটে মমতা-মুকুল বৈঠক, তার পরই পুরনো দাদার বাড়িতে পার্থ, বালুদের যাওয়ার ধুম!

এমনিতে বরাবরই দিদির সঙ্গে কথা বা বৈঠকের ব্যাপারে মুকুলবাবু বাইরে কখনও কিছু বলেন না। নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহর বোঝাপড়া যেমন, দু’জনের মধ্যে কথা কোনওভাবেই বাইরে যায় না, এ ক্ষেত্রেও ততটাই আগল রেখে চলেন দুজনেই।

তবে দিদি ও মুকুল রায়ের এই সাক্ষাৎ তথা বৈঠক নিয়ে ইতিমধ্যেই শাসক দলের একাংশে জোর আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। এ ধরনের আলোচনা বা জল্পনা সাধারণত কোনও পরিধি মানতে চায় না। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যখন প্রায় এক মাসের জন্য দেশের বাইরে গিয়েছেন, ঠিক সেই সময়েই মমতা-মুকুল দীর্ঘ বৈঠক কোনও অর্থবহন করছে কিনা তা নিয়েও তাই জল্পনা চলছে। বড় কথা হল, ৬ মাসের মধ্যে রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনও আসন্ন।

বস্তুত বিজেপি থেকে তৃণমূলে ফেরার পরেও মুকুল রায় পুরনো দলে এক প্রকার কোণেই পড়ে ছিলেন। রোজই তিনি কাঁচরাপাড়ার বাড়ি থেকে কলকাতায় আসেন। সল্টলেকে তাঁর অস্থায়ী বাসভবনে বিকেল পর্যন্ত থাকেন। সেখানে তাঁর পুরনো পরিচিতরা কেউ কেউ নিয়ম করে যান। তার পর সন্ধে নামার আগেই কাঁচরাপাড়ায় ফিরে যান। কিন্তু অনেকে মনে করছেন, দিদিই হয়তো মুকুল রায়কে সক্রিয় হতে বলছেন। পুজোর আগে নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে দলের সাংগঠনিক বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ফোন করেছিলেন মুকুল রায়কে। পরদিন তৃণমূল ভবনে রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর সঙ্গে লম্বা কথা হয়েছিল রায় সাহেবের। তার পর এবার দ্বাদশীর বৈঠক।

ঘটনা হল, মমতা-মুকুল এই বৈঠকের পরই পুরনো দাদার বাড়িতে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানানোর ভিড় জমতে শুরু করেছে। শনিবার মুকুল রায়ের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন সেচ-মন্ত্রী পার্থ ভৌমিক। মুকুল রায় ও তাঁর ছেলে শুভ্রাংশু রায়ের সঙ্গে পার্থ ভৌমিকের সম্পর্ক আদায়-কাঁচকলায় ছিল বলেই স্থানীয় রাজনীতিতে ধারণা। সেই পার্থ মুকুলবাবুর সঙ্গে সদলবলে দেখা করতে গিয়েছিলেন। তার পর আবার রবিবার লক্ষ্মীপুজোর দিন দুপুরে মুকুল রায়ের সঙ্গে দেখা করতে যান বনমন্ত্রী তথা উত্তর চব্বিশ পরগনার দাপুটে নেতা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। মুকুল বাবু বিজেপিতে যাওয়ার পর জ্যোতিপ্রিয় তথা বালু সৌজন্যের সম্পর্কটুকুও রাখতেন না। সেই বালুর মুকুলবাবুর সঙ্গে দেখা করা নজর কাড়ার মতো ঘটনা বলেই মনে করছেন অনেকে।

Image - কালীঘাটে মমতা-মুকুল বৈঠক, তার পরই পুরনো দাদার বাড়িতে পার্থ, বালুদের যাওয়ার ধুম!

শুধু তাই নয়, বীজপুরের তৃণমূলের যে অংশ মুকুল রায় ও শুভ্রাংশু রায়ের বিরোধিতা করছিল, গত দু’দিন ধরে তাদের আচরণেও বদল দেখা যাচ্ছে। ইতিমধ্যে সুবোধ অধিকারীর ঘনিষ্ঠ লোকজন শুভ্রাংশুর সঙ্গে দেখা করা শুরু করেছেন। চুম্বকে মুকুল রায়কে ঘিরে ফের কৌতূহল বাড়ছে শাসক দল তথা রাজ্য রাজনীতিতে। ব্যাট হাতে দাদার কামব্যাক হয় কিনা এখন সেটাই দেখার।

গান্ধীমূর্তির পাদদেশে আন্দোলন অব্যাহত, ধর্নামঞ্চেই লক্ষ্মীপুজো পালন চাকরিপ্রার্থীদের

You might also like