Latest News

যাদবপুরে বিজেপি-সিপিএম বোঝাপড়ার অভিযোগ মমতার, বিকাশ পাল্টা বললেন ‘ওঁর সঙ্গেই বিজেপি-র লাইন আছে’

দ্য ওয়াল ব্যুরো: যাদবপুরে বিকাশ ভট্টাচার্যকে সমর্থন করছে বিজেপি। রবিবার বারুইপুরের জনসভা থেকে এমনই অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাল্টা দিলেন সিপিএম প্রার্থীও। দুঁদে আইনজীবীর কথায়, “মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিজেপি-র লাইন হয়ে গিয়েছে। তাই ঢাকতে এ সব কথা বলছেন।”

ষষ্ঠ দফার ভোটের দিন দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় ছিল মমতার একাধিক জনসভা। বাসন্তী থেকে বারুইপুরের সভায় এসে তৃণমূলনেত্রী বলেন, ”সিপিএমকে ভোট দিয়ে লাভ নেই। একটা আসনও পাবে না। বাংলায় কংগ্রেসও পাবে না। সিপিএমও পাবে না। সিপিএমকে দেওয়া মানে বিজেপিকে দেওয়া।” এর পরেই তৃণমূলনেত্রী বলেন, ”যাদবপুরে বিকাশকে সমর্থন করছে বিজেপি। প্রণব মুখোপাধ্যায়ের পুত্রকে জঙ্গিপুরে সমর্থন করেছিল আরএসএস। বহরমপুরেও কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছে বিজেপি। কতগুলো জায়গায় সমঝোতা আছে!”

মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানতে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র বিকাশবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মুখ্যমন্ত্রী-বিজেপি বোঝাপড়ার পাশাপাশি তিনি বলেন, “বিজেপি-র সঙ্গে মমতার সংসার করার কথা বাংলার মানুষ ভোলেনি। সবাই জানেন, কার সঙ্গে কার সেটিং। আজকে লোক দেখানো আরএসএস বিরোধিতা করছেন। একটা সময় তো এই মঞ্চে গিয়েই হাজির হয়ে দুর্গা বনে গিয়েছিলেন।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ বার প্রার্থী বদল করেছেন যাদবপুরে। বিদায়ী সাংসদ সুগত বসুকে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ভোটে লড়তে অনুমতি না দেওয়ায়, দিদি দাঁড় করান টলিউডের গ্ল্যামার গার্ল মিমি চক্রবর্তীকে। পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজনৈতিক ওজনে মিমির দিক থেকে বিকাশ খানিকটা এগিয়ে। যদিও রাজনৈতিক মহলের অনেকের মতে, এখন সে সব খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ গত কয়েক বছর ধরেই বাংলায় সেলিব্রিটিদের ভোটে জেতার ট্রেন্ড তৈরি হয়েছে।

বিকাশবাবুর করা মামলার ভিত্তিতেই চিটফান্ড কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্ট সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই মামলায় ছিলেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা আবদুল মান্নানও। এ দিন মমতা বলেন, “সিপিএম-এর সঙ্গে কংগ্রেসও বোঝাপড়া করছে। তাই এখানে প্রার্থী দেয়নি। এই কারণেই আমি কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলাম।” কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার তদন্ত নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সবাইকে জুজুর ভয় দেখিয়ে রেখেছে। কাউকে সিবিআই, কাউকে আরবিআই কাউকে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভয় দেখাচ্ছে। কিন্তু চমকে ধমকে কিছু করতে পারেনি।”

ভোটের শুরু থেকেই যাদবপুর এ বার অন্যতম নজরে। শেষ দফায় অর্থাৎ সামনের রবিবার ভোট হবে এই কেন্দ্রে। শেষ দফার প্রচারে যে দু’পক্ষই ঝড় তুলবে তা এক রকম পরিষ্কার।

You might also like